
বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য তুরস্ককে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ককে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই।
এ লক্ষ্যে দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়ার কোনো কারণ নেই।
শুক্রবার (৫ জুন) যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বৈঠকে করেন।
রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এ বৈঠক হয়।
বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
সংবাদ সম্মেলনে ড. খলিলুর রহমান বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর ছিল তুরস্কে।
সে সময় আমাদের চমৎকার বৈঠক হয়েছিল।
আমরা তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরকে গভীরভাবে স্বাগত জানাই এবং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে এটি আমাদের দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা, সমন্বয় এবং বোঝাপড়াকে আরও গভীর ও বিস্তৃত করবে, যোগ করেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, আমি তুরস্ক সরকারকে বিশেষ করে আপনাকে (হাকান ফিফান) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি অমূল্য সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি গতকাল নির্বাচনের ঠিক পরেই ফিরে এসেছি এবং বাংলাদেশে আপনাকে অভ্যর্থনা জানানোর সৌভাগ্য আমার হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে আপনার কাছ থেকে যে সমর্থন, উৎসাহ এবং সহায়তা পেয়েছি, তা আমি কখনও ভুলব না।
মন্ত্রী বলেন, উভয় দেশের জনগণের জন্য শান্তি, স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, যৌথ সমৃদ্ধি, পারস্পরিকভাবে লাভজনক বিষয় এবং ক্ষেত্রগুলোতে বৃহত্তর সহযোগিতা এবং টেকসই উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে তুরস্কের মতো বন্ধুদের সঙ্গে সহযোগিতা ও সমন্বয়ে ভূমিকা পালন করে যাবে বাংলাদেশ। আমরা জোর দিয়ে বলছি যে হাকান ফিদান ভাইয়ের এ সফর বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এটি আগামী দিনে সহযোগিতা গভীরতর করতে এবং দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ও কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার ক্ষেত্রে উভয় দেশের যৌথ অঙ্গীকার প্রদর্শন করে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা তুরস্কের সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেছি। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একটি অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যচুক্তি করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেছি। আমরা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেছি, যা বর্তমানে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেই। আমাদের বাণিজ্যের পরিমাণ দ্রুত বাড়ানোর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। আমি আমার ভাই, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রণোদনা সম্পর্কে জানিয়েছি এবং সম্ভাব্য তুর্কি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আমরা বাংলাদেশে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় তুরস্ককে প্রস্তাব দিয়েছি। আমরা শিল্প অংশীদারিত্বে বিনিয়োগ বাণিজ্যে সহযোগিতার জন্য অনুরোধ করেছি।
তিনি বলেন, দুই দেশের বাণিজ্য ১.৩ থেকে ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে চাই।
খলিলুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদে, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসইভাবে মিয়ানমারে তাদের নিজ ভূমিতে প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতা চেয়েছি।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে তিন দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন।