
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার জামতলায় বিকাশ ব্যবসায়ী মো. মোতালেব হোসেন (৬১) হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূলহোতা জাকিরসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অটোরিকশা, নিহতের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ক্যাশ আউট করা ৮৬ হাজার টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন এবং একটি টিফিন বক্স উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার সেলসারদী এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি জাকিরকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে একই দিন সকালে ফতুল্লার মাসদাইর এলাকার জামতলা হাজী ব্রাদার্স রোডের এমপি গলি সংলগ্ন সড়কের পাশ থেকে মোতালেব হোসেনের লেপ-তোশকে মোড়ানো মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত মো. মোতালেব হোসেন লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার শিবপুর এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফতুল্লার মাসদাইর গোরস্থান এলাকায় ফারুক মিয়ার জাজিরা টাওয়ারের ষষ্ঠ তলায় বসবাস করতেন। তিনি মাসদাইর বাজারে একটি লাইব্রেরি ও বিকাশ এজেন্টের ব্যবসা পরিচালনা করতেন।
পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের পরপরই সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে দেখা যায়, জাকির নিহত মোতালেব হোসেনের কাঁধে হাত রেখে তাকে নিজের বাসার দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। এরপর মাসদাইর রোকেয়া স্কুল সংলগ্ন জাকিরের বাসায় অভিযান চালিয়ে নিহতের ব্যবহৃত টিফিন বক্স উদ্ধার করা হয়। পরে মাসদাইর এলাকা থেকে ওমর ফারুক (২২) এবং সোহেল (৪৯) কে গ্রেফতার করা হয়।
পরে এসআই কাজী শামীম ও এসআই রফিকুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বন্দর থানার সেল সাবদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাকির (৫০) কে গ্রেফতার করেন।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাকির হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। তার ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন সকাল ৮টা থেকে তিনি রাস্তায় অপেক্ষা করছিলেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মোতালেব হোসেনকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ৮৬ হাজার টাকা ক্যাশ আউট করা হয়। পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ভোরের দিকে মরদেহ লেপ-তোশকে পেঁচিয়ে অটোরিকশাযোগে ঘটনাস্থলে ফেলে রাখা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে সুমনা আক্তার মিম বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, বিকাশ অ্যাকাউন্টের টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অটোরিকশা, ৮৬ হাজার টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন ও টিফিন বক্স উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।