
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার নুরুল্লাহগঞ্জ ইউনিয়নের নুরুল্লাহগঞ্জ গ্রামে প্রবাসী মুক্তার হোসেনের স্ত্রী সেলিনা আক্তার ও তার ছয় বছরের শিশুসন্তানকে হত্যার হুমকি দিয়ে গভীর রাতে বসতঘরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পরিবারটির মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী সেলিনা আক্তারের অভিযোগ, গত ২২ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে রবিউল নামে এক ব্যক্তি কয়েকজন সহযোগীসহ তার ঘরের সামনে গিয়ে দরজায় ধাক্কাধাক্কি ও গালিগালাজ করেন। এ সময় ঘরের ভেতরে থাকা সেলিনা ও তার শিশুকে উদ্দেশ করে বলা হয়—“ঘরে কী আছে, টাকা-পয়সা যা আছে দে, জিনিসপত্র-গয়না যা আছে দে।” পরে তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার পর আতঙ্কিত সেলিনা আশপাশের লোকজনকে ফোনে বিষয়টি জানান। পরে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি দেখেন। পরদিন বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের সময় রবিউলের কিছু বক্তব্য মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ওই বক্তব্যের সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, পরে রবিউল আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন—এমন অভিযোগ ওঠে। তাকে ফরিদপুর মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সেলিনা আক্তারের অভিযোগ, এরপর রবিউল ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে ভয়ভীতি দেখানো এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে তাকে আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও পরে উল্টো তার কাছেই টাকা দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার পর নিরাপত্তা ও আইনগত সহায়তা চেয়ে ভাঙ্গা থানায় জিডি করেছেন সেলিনা আক্তার। জিডি নং-১৩৫৩, তারিখ: ২৭ আগস্ট ২০২৬।
ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।