
সরকারি প্রশাসনিক নিয়ম ও প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জন, উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য বিভাগের একাধিক কর্মকর্তাকে বদলি করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মোহাম্মদ মশিউর রহমানের বদলিও সরকারি সিদ্ধান্তের অংশ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তবে তাঁর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নানা ধরনের অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রয়োজনে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাড়ে চার বছরের বেশি সময় নারায়ণগঞ্জে দায়িত্ব
ডা. আবুল ফজল মোহাম্মদ মশিউর রহমান নারায়ণগঞ্জে সিভিল সার্জন হিসেবে সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ এই সময়ে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রম, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি বা মহলের সঙ্গে মতপার্থক্য তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে কোনো সরকারি কর্মকর্তার নিয়মিত বদলিকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত আক্রমণ, অপপ্রচার কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো কাম্য নয়।
নার্সের চাকরিসংক্রান্ত বিষয় নিয়েও বিতর্ক
এদিকে ফ্রান্সিলিয়া গোমেজ নামের এক নার্সের চাকরিসংক্রান্ত নথি ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে পূর্বে অভিযোগ ওঠে বলে জানা গেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি যাচাই-বাছাই ও তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, তদন্তে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও চাকরিসংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে কিছু অসঙ্গতির বিষয় উঠে আসে এবং পরবর্তীতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এছাড়া সরকারি অর্থের হিসাব-নিকাশ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে এবং অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণের অভিযোগ সামনে আসে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা সরকারি নথি, তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।
অপপ্রচারের অভিযোগে ফতুল্লা মডেল থানায় দুটি জিডি
নিজের বিরুদ্ধে কথিত অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে ডা. আবুল ফজল মোহাম্মদ মশিউর রহমান ফতুল্লা মডেল থানায় দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানা গেছে।
প্রথম জিডিটি করা হয় ১৮ আগস্ট ২০২৬, যার নম্বর ১৮২৪। পরবর্তীতে ২৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে আরও একটি জিডি করা হয়, যার নম্বর ২৩৩৭।
দুটি জিডির মাধ্যমে অপপ্রচার ও সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো আইনগতভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
‘সরকার যেখানে রাখবেন, সেখানেই দায়িত্ব পালন করব’
ডা. আবুল ফজল মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, “আমরা সরকারি কর্মকর্তা। সরকার আমাদের যেখানে দায়িত্ব দেবেন, সরকারি চাকরির নিয়ম অনুযায়ী সেখানেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। বদলি সরকারি চাকরির একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। বদলিকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপপ্রচার বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগ নেই।”
তিনি আরও বলেন, “কেউ যদি ব্যক্তিগত স্বার্থে বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেন, তাহলে প্রয়োজনে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, একজন সরকারি কর্মকর্তার বদলি প্রশাসনিক চাকরির স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। তাই এ নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে সরকারি আদেশ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে সম্মান করা এবং কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রমাণসহ উপস্থাপন করাই আইনসম্মত ও গ্রহণযোগ্য পন্থা।