
২০২১ সাল থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশ সফর বাবদ ভারত সরকারের মোট খরচের পরিমাণ ৫৫৭ কোটি ৫১ লাখ রুপি ছাড়িয়েছে। তবে এই সময়ে (এপ্রিল ২০২১ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত) ভারতে মোট ৩৮১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৩ লাখ কোটি রুপি) বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।
আম আদমি পার্টির (আপ) সংসদ সদস্য সঞ্জয় সিং এবং সিপিআই(এম) সংসদ সদস্য ড. ভি সিভাদাসানের প্রশ্নের জবাবে এই হিসাব পেশ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্ঘেরিটা।
সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মোদির বিদেশ সফরের জন্য এখন পর্যন্ত যে খরচ হিসাব করা হয়েছে তা ৫৫৭.৫১ কোটি রুপি।
তবে মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে এই অঙ্কটি চূড়ান্ত নয়। ২০২৬ সালের বহুপাক্ষিক সফরগুলোর বেশ কিছু অংশের বিল মেটানো এখনো বাকি রয়েছে, যার মধ্যে ২০২৬ সালের জুনে ফ্রান্সে করা সফরের চূড়ান্ত হিসাবও সংকলন করা হচ্ছে। ফলে এই খরচের পরিমাণ আরও বাড়বে।
বছরভিত্তিক খরচের তালিকায় শীর্ষ স্থানে রয়েছে ২০২৫ সাল, যেখানে ১৮৭.৮৩ কোটি রুপি খরচ হয়েছে। অন্যান্য বছরগুলোর হিসেব হলো:
২০২৫ সাল: ১৮৭.৮৩ কোটি রুপি
২০২৪ সাল: ১০৯.৫১ কোটি রুপি
২০২৩ সাল: ৯৩.৬৩ কোটি রুপি
২০২৬ সাল (খসড়া/চূড়ান্ত নয়): ৭৪.৫৯ কোটি রুপি
২০২২ সাল: ৫৫.৮৩ কোটি রুপি
২০২১ সাল: ৩৬.১২ কোটি রুপি
অবশ্য নরেন্দ্র মোদির নির্দিষ্ট সফরের সময় ঘোষিত বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এবং তার ফলে বাস্তবে আসা এফডিআই-এর কোনো দেশভিত্তিক সরাসরি সম্পর্ক বা লিঙ্ক সরকার স্পষ্টভাবে তুলে ধরেনি।
তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে, উচ্চপর্যায়ের এই বিদেশ সফরগুলো দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বৈশ্বিক সম্পর্ক মজবুত করার একটি ‘প্রতিষ্ঠিত মাধ্যম’।
লিখিত জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই সফরগুলো এবং সফরের সময় স্বাক্ষরিত চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি এবং স্থিতিশীল সাপ্লাই চেইনসহ বিভিন্ন খাতে অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করে।’
ভারত সরকার জানিয়েছে, ২০২১ সাল থেকে মোদির বিদেশ সফরকালে সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সংকটপূর্ণ খনিজ পদার্থ, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল পেমেন্ট, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, মহাকাশ গবেষণা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে অসংখ্য দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
তবে এই মোট ৩৮১.৮ বিলিয়ন ডলারের এফডিআই প্রবাহের সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট দেশের সফর বা চুক্তির সরাসরি বিচ্ছিন্ন সংযোগ সরকারিভাবে দেখানো হয়নি।