
নিজস্ব প্রতিনিধি- ডা: মুহাম্মদ আতিকুল বারী এম,বি,বি,এস, বি,সি,এস(স্বাস্থ্য) সি,সি,ডি,-বারডেম হাসপাতাল, ঢাকা। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছে । মূলত তিনি রুগী দেখে বহি: বিভাগে নাক,কান,গলা অভিজ্ঞ হিসেবে।
হাসপাতালের সময়ের পর দুপুর ২টা হতে নারায়ণগঞ্জ এর মেডিপ্লাস মেডিকেল সার্ভিসেস (প্রাঃ) লিঃ এ সরকারি ছুটির দিন ব্যতিত প্রতিদিন ৪ টা পর্যন্ত চেম্বারে বসে নিয়মিত রোগী দেখে এবং সেই ক্লিনিকে ডা: মুহাম্মদ আতিকুল বারী’র পরিচিতিতে ফলোয়াপ করে জনসম্মুক্ষে প্রদর্শন করা হয়েছে নাক,কান,গলা হাড়জোড়া, বাত ব্যথা,সার্জারী, টিউমার ও ডায়াবেটিস রোগে অভিজ্ঞ, ৩০০ শয্যা হাসপাতাল, নারায়ণগঞ্জ। সে বিবরণে সেবা নিতে আসা রোগীদের মাঝে ভিজিটিং কার্ড ও বিতরণ করা হয় । তার এই কার্ডের বিবরণীতে উল্লেখিত টিউমার সার্জারী বিষয়টি নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি। সার্জারী’র বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন চিকিৎসকের সাথে কথা বলে জানা যায় মূলত ডা: মুহাম্মদ আতিকুল বারী’র সার্জারী বিষয়ে কোন ডিগ্রি নেই। তিনি নিজেকে সার্জারী হিসেবে প্রচার করতে পারেন না। এটা একধরনের চিকিৎসা সেবার আড়ালে প্রতারনা।
একজন সার্জারী হিসেবে তার যে ডিগ্রি প্রয়োজন তা হলো – টিউমার সার্জারির জন্য একজন চিকিৎসককে অবশ্যই সাধারণ এমবিবিএস (MBBS) ডিগ্রির পাশাপাশি সার্জারিতে স্নাতকোত্তর (পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন) ডিগ্রি অর্জন করতে হয়। টিউমারের ধরন ও জটিলতার ওপর ভিত্তি করে আলাদা আলাদা বিশেষজ্ঞ ডিগ্রি প্রয়োজন হতে পারে।
যে সব ডিগ্রি অর্জন করতে হবে প্রাথমিক ডিগ্রি: এমবিবিএস (MBBS) বা সমমান ডিগ্রি, যা দিয়ে ডাক্তার হিসেবে নিবন্ধন পাওয়া যায়।মূল সার্জারি ডিগ্রি: এমএস (MS – Master of Surgery) বা এফসিপিএস (FCPS)। এই ডিগ্রিগুলোর মাধ্যমে যেকোনো চিকিৎসক সার্জন হিসেবে স্বীকৃতি পান।উচ্চতর প্রশিক্ষণ (সার্জিক্যাল অনকোলজি): সাধারণ টিউমার বা ক্যান্সার জাতীয় টিউমার অপসারণের ক্ষেত্রে সার্জিক্যাল অনকোলজি-তে বিশেষ প্রশিক্ষণ বা ফেলোশিপ থাকা আবশ্যক।বিশেষায়িত টিউমার: মস্তিষ্কের টিউমারের জন্য এমসিএইচ (M.Ch), গাইনি টিউমারের জন্য এফসিপিএস (গাইনি)।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী সরকারের পট পরিবর্তন হলেও এবং তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ থাকলেও সবাইকে ম্যানেজ করে কৌশলে নিজের অবস্থান ধরে রেখে হাসপাতালে প্রভাব বিস্তার করে নিজের অবস্থানে অটল রয়েছেন।
অনেক বছর যাবৎ ডা: মুহাম্মদ আতিকুল বারী ৩০০ শয্যা হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত থাকায় তাহার ভিতর একধরনের দাম্ভিকতা ও অহংকার জন্মনেয়। নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালের চিকিৎসক থাকায় তাহার সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি,ব্যবসায়ী,সরকারি উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, স্থানীয় এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে গড়ে উঠে সুসম্পর্ক। এই প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ক্ষমতার উপর ভর করে নিজেকে অনেক প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর মনে করে এবং ক্ষেত্র বিশেষে বিভিন্ন জনের নাম ব্যবহার করে নিজের পরিচিতি জাহির করে থাকে।
ডা: মুহাম্মদ আতিকুল বারী’র সম্পর্কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকের সাথে কথা বললে তারা জানান, তিনি একজন বদমেজাজী চরিত্রের । রোগীদের সাথে তার খারাপ আচরণ করা এটা অস্বাভাবিক নয়। নারায়ণগঞ্জের বেশ কয়েকটি ক্লিনিকের চেম্বারে বসে তিনি আগে রুগী দেখতেন কিন্তু রোগীদের সাথে তার আচরন ভালো না করায় অনেক ক্লিনিকের চেম্বারে তাকে বসাননা। শুধু ক্লিনিকেই নয় হাসপাতালে সেবা নিতে আসা অনেক অসহায় সাধারণ রোগীদের সাথেও তিনি তুচ্ছ তাচ্ছিল্য ব্যবহার করে থাকে বলেও আমরা শুনেছি। এ ছাড়াও তিনি অর্থলোভী, একজন চিকিৎসক হয়ে অর্থের লোভে তার নিকট আসা বেশীর ভাগ রোগিদের পরামর্শ দিয়ে পাঠিয়ে দেন বিভিন্ন প্যাথলজি ও ক্লিনিক সেন্টারে পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য। এর বিনিময়ে সেই সকল স্থান হতে রোগী পাঠিয়ে পরীক্ষা নিরিক্ষা বাবদ মোটা অংকের কমিশন নিয়ে থাকেন।
একজন সরকারি ডাক্তার হিসেবে দীর্ঘ বছর একই স্থানে কর্মরত থাকায় ডা: মুহাম্মদ আতিকুল বারী’র মূলত এই অহংকারের জন্ম। তাঁর বিরূপ আচরণের বিরুদ্ধে অনেকে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের নিকট মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পায়নি বলেও জানা যায়।
ডা: মুহাম্মদ আতিকুল বারী নিজেকে সার্জারী হিসেবে প্রচার করা কতটুকু বৈধ ও রোগীদের সাথে অশোভনীয় আচরণ এবং পরীক্ষা নিরিক্ষার জন্য বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে কমিশন বানিজ্যে মেতে উঠেছে এই বিষয়গুলো কতটুকু যুক্তিসংগত। তাঁর এ-ই কর্যক্রমে নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহল স্বাস্থ্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়,স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানান ডা: মুহাম্মদ আতিকুল বারী’র চিকিৎসা সেবা নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ।