
মো: শফিকুল ইসলাম আরজু, নারায়ণগঞ্জ – হাসপাতালে রোগীসেবার মান উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা এবং অবকাঠামো আধুনিকায়নের লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যা ও ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতাল দুটি প্রধান সরকারি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
১৮ জুলাই শনিবার সকালে খানপুর ৩০০ শয্যা সরকারি হাসপাতাল এবং নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে পৃথকভাবে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম।
সভায় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহŸায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মশিউর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সী, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. আবু আল ইউসুফ খান টিপু,
মহানগর বিএনপি আহŸায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য ও বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল , ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক এসোসিয়েশন, নারায়ণগঞ্জ এর সভাপতি ডাঃ মুজিবুর রহমান এবং দুই হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।সভায় হাসপাতাল দুটির সার্বিক ব্যবস্থাপনা, জরুরি বিভাগের সেবা, ওষুধ সরবরাহ, জনবল সংকট এবং পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে এমপি আবুল কালাম বলেন, নারায়ণগঞ্জের এই দুটি সরকারি হাসপাতাল লাখো মানুষের ভরসার স্থান। এখানে আসা প্রতিটি রোগী যেন দ্রুত ও মানসম্মত চিকিৎসা পায় সেটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। ডাক্তার-নার্সদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, জরুরি বিভাগে ওষুধের ঘাটতি না রাখা এবং হাসপাতালের অবকাঠামো আধুনিকায়নে সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি ও সামাজিক উদ্যোগও কাজে লাগানো হবে।
জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, একটি হাসপাতালের আসল সৌন্দর্য হলো এর সেবা এবং পরিবেশ। রোগীরা যাতে পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশে চিকিৎসা পায় সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। রোগীদের মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, টয়লেট ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা প্রতিদিন মনিটরিং করতে হবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাসপাতালের নিরাপত্তা, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।দালালমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে হবে । জনগণের টাকায় পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানকে জনবান্ধব করে তুলতে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।
সভায় ডাক্তার ও অন্যান্য জনবল সংকট নিরসন, আউটডোরে রোগীর ভিড় কমানো, টিকিট ফি প্রদান প্রক্রিয়া সহজ করা এবং হাসপাতাল চত্বরকে দালালমুক্ত রাখার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভা শেষে সভাপতি ও অতিথিরা দুই হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন। এসময় তারা ভর্তি থাকা রোগীদের সাথে কথা বলেন এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সভার সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে গুরুত্ব সহকারে কাজ করা হবে।