বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে মহানগরের বর্ণাঢ্য র‍্যালীতে বিশাল মিছিল নিয়ে টিটুর যোগদান  সিরাজ এমপি নামে ফুটবল টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরন অনুষ্ঠানে নানান অপকর্মের হোতা উজ্জ্বল নির্যাতিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে: সাখাওয়াত সরকারকে পাঁচ বছর স্থায়ী করতে সবাইকে নিয়ে চলতে হবে: আবুল কালাম শাওন হত্যার চার বছরেও বিচার নিয়ে আক্ষেপ পরিবারের কদমরসুল সেতুর দখলকৃত ভূমি দ্রুত উচ্ছেদের দাবিতে নাসিক প্রশাসককে স্মারকলিপি প্রদান অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয় বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের নতুন বার্তা দেশে ফিরে নেপালে আটকে থাকার অভিজ্ঞতা জানালেন অপু বিশ্বাস লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ ইউনিট, তথ্য দিলে মিলবে পুরস্কার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নেপালে বন্যায় নিহত প্রায় ৬০০, নিখোঁজ দুই হাজারের কাছাকাছি

শাওন হত্যার চার বছরেও বিচার নিয়ে আক্ষেপ পরিবারের

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯.৩৩ পিএম
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জ শহরের ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিলকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের সময় পুলিশের গুলিতে যুবদল কর্মী শাওন প্রধান নিহত হওয়ার চার বছর পূর্ণ হয়েছে। তবে এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। এতে দ্রুত বিচার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে শাওনের পরিবার।

২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি শহরে শোভাযাত্রার আয়োজন করে। মিছিলটি ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ বাধা দেয়। পরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে গুলিও ছোড়া হয়। এ সময় যুবদল কর্মী শাওন প্রধান (২৩) বুকে গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

শাওন নিহত হওয়ার ঘটনায় ২০২২ সালের ২ সেপ্টেম্বর একই থানায় একটি মামলা করা হয়। ওই মামলায় বিএনপির পাঁচ হাজার অজ্ঞাত নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর শাওনের ভাই মো. মিলন বাদী হয়ে পৃথক হত্যা মামলা করেন। এতে সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি), সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি), সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও পুলিশের সদস্যকে আসামি করা হয়।

প্রথম মামলা হওয়ার পর মিলন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, মামলার বিষয়ে তিনি বা তার পরিবারের কেউ কিছু জানতেন না। পুলিশ তাদের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছিলেন তিনি।

শাওন নিহত হওয়ার ঘটনার তদন্ত চলাকালে অস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে গুলি ছোড়ার ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে নারায়ণগঞ্জ গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তৎকালীন সাব-ইনস্পেক্টর (এসআই) মাহফুজুর রহমান কনককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এদিকে চার বছরেও ছেলের হত্যার বিচার না হওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন শাওনের মা খোরশেদা বেগম। তিনি বলেন, “আমার ছেলে হত্যার কড়া বিচার চাই।”

শাওনের মৃত্যুর পর পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, শাওনই ছিলেন পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার আয়েই সংসার চলত।

খোরশেদা বেগম বলেন, “শাওন এই দলে গেছে বলে আমাকে অত্যাচারের শিকার হতে হয়েছে। আমার সংসারে শাওনই আয় করে সংসার চালাত। আজকে আমার ছেলে বেঁচে থাকলে ওর সব বেতন আমার হাতে দিত। আজকে ছেলে নেই, কেউ সান্ত্বনা দিতে আসে না।”

বিএনপির নেতাদের কাছ থেকেও প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষায়, “শাওন হত্যার পর আমাকে দেখতে কোনো নেতা আসেনি। আমি এখন বিছানায় পড়ে থাকি। এখন তো আমার ছেলে নেই, কেউ খবর নেয় না।”

চার বছরেও বিচার না পাওয়ার আক্ষেপ জানিয়ে শাওনের মা দ্রুত মামলার তদন্ত শেষ করে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2021 rudrabarta24.net
Theme Developed BY ThemesBazar.Com

sakarya bayan escort escort adapazarı Eskişehir escort