
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২২টি পশুর হাটের ইজারা দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) দরপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ইজারাদারের নাম ঘোষণা করেন সিটি প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, এবার নাসিকের সর্বোচ্চ দরদাতা মো. মমতাজ উদ্দিন। তিনি নাসিকের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গোদনাইল ইব্রাহিম টেক্সটাইল মিলসের খালি মাঠ (রেললাইনের পশ্চিমাংশ) ৪৬ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছেন। অন্যদিকে সর্বনিম্ন দরদাতা আবদুল মান্নান শিকদার। তিনি ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে আলতাফ সাহেবের খালি জায়গাটি ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকায় ইজারা পেয়েছেন।
বুধবার (১৩ মে) বিকেল চারটায় নগর ভবনের সভা কক্ষে দরপত্র উন্মুক্ত করেন নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। পরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত এলাকায় মোট ২২টি পশুর হাটের সর্বোচ্চ দরদাতার নাম একে একে ঘোষণা করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাইলো রোডসংলগ্ন মোহর চাঁন কন্টাকটারের খালি জায়গা ৭ লাখ ১০ হাজার টাকায় ইজারা পেয়েছেন মুক্তার হোসেন, এবং একই ওয়ার্ডের বটতলা বাদশা মিয়ার মাঠ পেয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজারে সিরাজুল ইসলাম। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের এসও রোড টার্মিনালসংলগ্ন সালাউদ্দিন সাহেবের খালি জায়গা ৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা দরে ইজারা নিয়েছেন মাজহারুল ইসলাম, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নাভানা সিটি ১ নম্বর মাঠ ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকায় পেয়েছেন সোহেল মিয়া।
এদিকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জালকুড়ি দক্ষিণপাড়ায় মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ মান্নান সাহেবের নতুন রোডসংলগ্ন খালি জায়গা ১৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় নিয়েছেন দেলোয়ার হোসেন। একই ওয়ার্ডে ওয়াপদা রোডের ডিএনডি খালসংলগ্ন খালি জায়গা ১৮ লাখ ১০ হাজার টাকায় পেয়েছেন বাবুল প্রধান। ৯ নম্বর ওয়ার্ড জালকুড়ি ডাম্পিং স্পট সংলগ্ন খালি জায়গা ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ইজারা নিয়েছেন শফিউদ্দিন সিকদার, একই ওয়ার্ডে জালকুড়ি উত্তরপাড়া রাসেল গং সাহেবের খালি জায়গা ৩১ লাখ ২০ হাজার টাকায় ইজারা নিয়েছেন রফিকুল ইসলাম।
এছাড়াও ১০ নম্বর ওয়ার্ডের চিত্তরঞ্জন খেলার মাঠ ৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকায় ইজারা নিয়েছেন আরমান হোসেন। ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে কড়ইতলা এলাকায় আলমাস সাহেবের বাড়ির পূর্ব পাশে কাউসার আহম্মেদের খালি জায়গা ১৫ লাখ ৫ হাজার টাকায় ইজারা পেয়েছেন রাফি উদ্দিন রিয়াদ, একই ওয়ার্ডের ডিয়ারা লুহিয়ার মাঠ ৬ লাখ ৫১ হাজার টাকায় নিয়েছেন মো. আল্লামা ইয়াদগার।
১৯ নম্বর ওয়ার্ডে শীতলক্ষ্যা সেতুর নিচের খালি জায়গা ৭ লাখ টাকায় নিয়েছেন নুর মোহাম্মদ পনেশ, একই ওয়ার্ডে পাওয়ার হাউজসংলগ্ন খালি জায়গা ১৫ লাখ টাকায় পেয়েছেন ফতেহ মোহাম্মদ রেজা।
২০ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাকান্দা মাঠের পশ্চিম পার্শ্বের খালি জায়গা ৪১ লাখ৫৬ হাজার ২৫০ টাকায় নিয়েছেন মো. আহাম্মদ আলী, একই ওয়ার্ডে ফরাজীকান্দা উত্তরপাড়ার বালুর মাঠ ৭ লাখ ৭ হাজার ১০০ টাকায় ইজারা নিয়েছেন মো. রফিকুল হাসান, ২২ নম্বর ওয়ার্ডের জহির কাজীর খালি জায়গা ৮ লাখ টাকায় পেয়েছেন পাপ্পু আহমেদ।
অন্যদিকে ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে কদমরসুল ডিগ্রি কলেজের পশ্চিম পাশের সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন খালি জায়গা ৭ লাখ ৩১ হাজার টাকায় ইজারা নিয়েছেন মো. আমিরুল ইসলাম বাবু, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের নবীগঞ্জ গুধারাঘাটসংলগ্ন খালি জায়গা ১১ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় পেয়েছেন মাহাবুব রহমান। ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর লক্ষণখোলা খেয়াঘাটসংলগ্ন খালি জায়গা ১৮ লাখ ৯০ হাজার টাকায় নিয়েছেন ইকবাল হোসেন৷ এ ছাড়া ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের মুরাদপুর গ্রামের আলহাজ্ব মোতালেব সাহেবের বালুর মাঠ ৫ লাখ ২০ হাজার টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতায় ইজারা পেয়েছেন মো. মোমেন মিয়া-এই ২২টি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারার দরপত্র বিক্রি করা হয়।
এসব হাটের ইজারাদার ঈদের আগে তিনদিন হাটে পশু তুলে তা বিক্রি করতে পারবেন।
তবে, হাটগুলোতে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা বা নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে ইজারা বাতিল করা হবে বলেও জানান নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান।