
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দীর্ঘ দিন যাবত সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির রাজনীতি কে দুইভাগে ভাগ করে রেখেছে নারায়ণগঞ্জ -৪ আসনের সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির বর্তমান আহবায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। তৃনমুল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দাবী তারা তাদের স্বার্থের জন্য বিএনপিকে দুই ভাগে ভাগ করে রেখেছেন। এক পক্ষের অভিমত আলহাজ্ব মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন আবারও এমপি হওয়ার স্বপ্নে বিভোর। ঠিক একারনে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপি’র একটি বিরাট অংশকে নিজের কবজায় রেখেছেন। তাদের তিনি রাজনৈতিক কারনে ব্যবহার করছেন। তাদের অন্যতম হলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নাসিক এর সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অন্তর্গত ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির আবদুল হাই রাজু,এমএ হালিম জুয়েল, মাজেদুল ইসলাম, সাদরিল, ইকবাল হোসেন, আকবর হোসেন, আহসান উল্লাহ, আবদুল্লা আল মামুন, জামির প্রধান, আমির প্রধান, ডিএইচ বাবুল, সাগর প্রধান,জাহাঙ্গীর হোসেন স্বাধীন সহ প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী কে ব্যবহার করছেন। অপরদিকে অধ্যাপক মামুন মাহমুদ ব্যবহার করছেন টিএইচ তোফা, অকিল উদ্দিন ভুইয়া, রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ, মাসুদ, আফজাল, জাহাঙ্গীর হোসেন, মনির হোসেন, লিয়াকত আলী লেকু, শামসুদ্দিন শেখ, মোশাররফ হোসেন জাহাঙ্গীর হোসেন, মাসুম প্রধান, সহ শতাধিক নেতাকর্মী কে। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি বিশ্বস্ত সূত্র আমাদের প্রতিনিধিকে জানান, এই দুই শীর্ষ নেতৃত্বের কারনে দীর্ঘ দিন যাবত বিএনপির মতো একটি বড় দলের নেতাকর্মী হয়েও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপিতে বিএনপি’র শত্রু বিএনপি। তারা একে অপরকে দেখতে পারেনা। বিগত সময় এই দল করতে গিয়ে পক্ষে বিপক্ষে হামলা মামলা সহ একাধিক মারামারির ঘটনাও ঘটেছে যা নারায়ণগঞ্জ জেলাসহ দেশের সকলে দেখেছে। সামনে জাতীয় নির্বাচন। এখনো দুজন দু’দিকে মুখ ঘুরিয়ে রেখেছেন। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভিতরে ১০ টি ওয়ার্ড থাকলেও। মুলত দুই নেতার ঘোষিত ২০ টি ওয়ার্ড বিএনপির কমিটি রয়েছে। আলহাজ্ব মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন কমিটি দিয়েছেন ১০ টি। অপরদিকে অধ্যাপক মামুন মাহমুদ কমিটি দিয়েছেন ১০ টি। উভয়ই দাবী করে তাদের কমিটি বৈধ। এমন এক অবস্থায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সকল নেতাকর্মী বিপাকে রয়েছে। এদিকে স্বৈরা শাসক ফ্যাসিদ আওয়ামী লীগের পতনের পর সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় এরিয়ার সকল গার্মেন্টসের ঝুট নিয়েও চলছে সমালোচনা – আলোচনা। অভিযোগ রয়েছে গার্মেন্টসের সকল মালের টাকা শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা ভাগ করে খেয়ে ফেলছেন। তৃনমুল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের এক টাকা পয়সা দেওয়া হয়না। একটি সূত্র জানিয়েছে এমন অবস্থায় চলতে থাকলে সংঘর্ষের সম্ভাবনা রয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপি’র প্রকৃত জিয়ার সৈনিকদের দাবি অচিরে এসব ভুল বুজাবুজির অবসান না হলে এর প্রভাব পড়বে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় বিএনপি’র কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।