
নিজস্ব সংবাদদাতা : নতুন জিমখানা কলোনী এলাকায় বসবাসরত মৃত মো. আলী হোসেনের কন্যা মোসা. আলো (৪১)-কে মারধর ও তার বসতঘর দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা-এ একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নতুন জিমখানা কলোনীর একটি কোয়ার্টারে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছেন আলো। অভিযুক্ত খোরশেদ (৫০), অপু (৪৫), মিঠু (৩৫), মিজান (৪৫), আরমান (৪৪), সানী (২৮), মানিক (৩০), খোকন (৩৫), আরোশি (৩৫) ও স্বপন (৬০)সহ আরও অজ্ঞাত ১০-১৫ জন সংঘবদ্ধ হয়ে গত ১০ মে শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এবং পরবর্তীতে ১১ মে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে আলোর বসতঘরে প্রবেশ করে হামলা চালায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী আলোর দাবি, পূর্ব শত্রুতার জেরে অভিযুক্তরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং একপর্যায়ে তাকে ও তার মেয়ে স্বর্ণা (১৮)-কে এলোপাতাড়ি মারধর করে আহত করে। হামলার সময় তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম হয় বলে তিনি জানান।
আলো আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তরা তার বসতঘর দখলের চেষ্টা করে আসছিল এবং তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করছিল। এমনকি অবৈধ সম্পর্কের প্রস্তাবে রাজি না হলে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে এলাকা ছাড়া করারও হুমকি দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, “১০ মে বিকেলে তারা অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমাকে গুরুতর আহত করে। পরে পরিবারের সদস্যরা আমাকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল-এ নিয়ে চিকিৎসা করান। পরদিন আবারও তারা হামলা চালায়। আমার মেয়ে আমাকে রক্ষা করতে এলে তাকেও মারধর করা হয়।”
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় অভিযুক্তরা আলোর গলায় থাকা এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন, একটি Realme মোবাইল ফোন এবং আঙুলে থাকা ৯ আনা ওজনের স্বর্ণের আংটি ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া লোহার পাইপ দিয়ে পিটিয়ে তাকে আহত করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, হামলার দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রসহ তার বাড়ির সামনে অবস্থান করছে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এতে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে আলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, “আমরা এখন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। যে কোনো সময় তারা আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। তাই আমাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন।”