
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কাউলীবেড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সালমা আক্তারকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠলেও তিনি এখনো স্বপদে বহাল রয়েছেন। এতে সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিক মহলে ক্ষোভের পাশাপাশি দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
তার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ, ভূমিসেবা নিতে আসা নাগরিকদের হয়রানি, অসদাচরণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে। পাশাপাশি ফরিদপুরের জেলা প্রশাসককে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগও সামনে এসেছে।
এর মধ্যেই সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা, হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি আরও গুরুতর হয়ে উঠেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন সংশ্লিষ্টরা।
কর্মকর্তা বদলি—কিন্তু সালমা বহাল কেন?
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা কর্মকর্তাকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ওঠার পরও তিনি একই স্থানে বহাল থাকলেও ভাঙ্গা উপজেলা ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বদলির ঘটনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—
অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পরিবর্তে কেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে বদলি হচ্ছে, অথচ যার বিরুদ্ধে অভিযোগের পর অভিযোগ সেই সালমা আক্তারই একই জায়গায় বহাল থাকছেন?
এতে এমন প্রশ্নও উঠছে—তাহলে কি তাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের দায় ও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে?
“অলৌকিক ক্ষমতা” নাকি অদৃশ্য প্রভাব?
সাধারণ মানুষের মুখে এখন একটাই প্রশ্ন—
“সালমা আক্তারের ক্ষমতার উৎস কোথায়?”
অভিযোগের পর অভিযোগ, সাংবাদিক হয়রানির অভিযোগ, সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ—তারপরও যদি একজন কর্মকর্তা একই কর্মস্থলে বহাল থাকেন, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, তার পেছনে কি কোনো প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছে?
নাকি পুরো বিষয়টি কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া?
এর উত্তর প্রশাসনকেই দিতে হবে।
তদন্ত হোক, সত্য বেরিয়ে আসুক
এখানে কারও বিরুদ্ধে আগাম অপরাধী সাব্যস্ত হওয়ার দাবি নয়। বরং প্রশ্ন হচ্ছে—অভিযোগগুলো সত্য নাকি মিথ্যা, সেটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হোক।
অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন ও সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর অভিযোগ মিথ্যা হলে সালমা আক্তারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও তদন্তের মাধ্যমে খারিজ করে দেওয়া হোক।
কিন্তু অভিযোগ ঝুলিয়ে রেখে একজনকে একই পদে বহাল রাখা এবং অন্য কর্মকর্তার বদলি—এই বৈপরীত্যই এখন জনমনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।
প্রশাসনের প্রতি জোরালো আহ্বান
কাউলীবেড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোকে আর হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। সাধারণ মানুষের হয়রানি, ঘুষের অভিযোগ কিংবা সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ—সবকিছুরই নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
প্রশাসনের কাছে দাবি—
অভিযোগের তদন্ত করুন।
প্রয়োজনে তদন্তকালীন ব্যবস্থা নিন।
ভুক্তভোগীদের বক্তব্য নিন।
সাংবাদিকদের অভিযোগ যাচাই করুন।
এবং সর্বোপরি—কেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা এখনো একই স্থানে বহাল, তার প্রশাসনিক ব্যাখ্যা জনগণের সামনে তুলে ধরুন।
কারণ জনগণের করের টাকায় পরিচালিত সরকারি ভূমি অফিস কোনো কর্মকর্তা বা প্রভাবশালী মহলের ব্যক্তিগত ক্ষমতার ক্ষেত্র হতে পারে না।
সালমা আক্তার এতটাই ক্ষমতাবান কেন?
তার ক্ষমতার উৎস কোথায়?
একজনের বদলি হলেও তিনি কেন বহাল?
অভিযোগের তদন্ত কোথায়?
এ প্রশ্ন এখন শুধু ভুক্তভোগীদের নয়—সচেতন নাগরিক ও সাংবাদিক সমাজেরও।