
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, নারায়ণগঞ্জ ইউনিটের বর্তমান যুব কমিটির যুব প্রধান সানজিদা আক্তার মিতু, ডেপুটি যুব প্রধান মাশরাফি প্রিয়ান মর্তুজা এবং মীম জেরিনসহ কতিপয় সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রোশ, গ্রুপিং ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে এক সক্রিয় যুব সদস্যকে এক বছরের জন্য বেআইনিভাবে বহিষ্কার করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী যুব সদস্য আসাদুজ্জামান এই একতরফা ও এখতিয়ার বহির্ভূত সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইউনিট লেভেল অফিসার (ইউএলও) এর নিকট প্রতিকার চেয়ে লিখিত আবেদন করেছেন এবং ইতোমধ্যে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২০ আগস্ট যুব কমিটির সদস্য অর্পণ কর্তৃক ভুক্তভোগীকে গালিগালাজ ও রেড ক্রিসেন্ট এর জ্যাকেট ছুড়ে মারার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাওয়ার পর থেকেই মূলত ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরে তাঁর ওপর প্রতিহিংসামূলক আচরণ শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় আইসিটি সেলের পদ থেকে অনৈতিকভাবে বাদ দেওয়া এবং নারায়ণগঞ্জ কলেজের দেওয়ালিকায় ছবি নষ্ট করে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে যখন ভুক্তভোগী ইউএলও বা চেয়ারম্যানের কাছে যাওয়ার কথা বলেন, তখন তাঁর হাত-পা ভেঙে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া ডিজাস্টার ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি নাফিজের পক্ষ থেকেও তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ব্র্যাকের একটি প্রজেক্ট নিয়ে যুব কমিটির সদস্য মীম জেরিনের সাথে বিরোধের জেরে ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ছড়ানো হয় ও মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে গত ৮ অক্টোবর পেমেন্টের কথা বলে ইউনিটে ডেকে নিয়ে যুব প্রধান সানজিদা আক্তার মিতু, ডেপুটি যুব প্রধান মাশরাফি প্রিয়ান মর্তুজা, ফারোয়া ও আবিদের উপস্থিতিতে ভুক্তভোগীকে নানাভাবে মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয় এবং মেসেঞ্জার এ গেমিং গ্রুপের টেক্সট ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন করার অপবাদ দেওয়া হয়। যদিও তখন মূল অভিযুক্ত উপস্থিত ছিলেন না; পরবর্তীতে তাঁকে আবার ডাকা হয় এবং মূল অভিযুক্ত ‘রুপু’ সবার সামনে আসাদুজ্জামানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে স্বীকার করার পরও তা আমলে নেওয়া হয়নি।
সভা শেষে হানিফ, অর্পণ, ডেপুটি মাশরাফি, ফারোয়া ও আবিদের নেতৃত্বে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ না দিয়ে আসাদুজ্জামানকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়। এমনকি রুম থেকে বের না হলে লাথি মেরে বের করে দেওয়া এবং অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্টের হেড আবিদ কর্তৃক চেয়ার ছুড়ে মারার হুমকি দেওয়া হয়।
রেড ক্রিসেন্টের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কোনো যুব কমিটির এককভাবে সদস্যপদ বাতিল বা কাউকে বহিষ্কার করার কোনো আইনি এখতিয়ার নেই—এটি সম্পূর্ণভাবে অফিসিয়াল অথরিটি (ইউএলও/সেক্রেটারি)-দের এখতিয়ারভুক্ত। অথচ এই নিয়মের তোয়াক্কা না করেই সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত আক্রোশ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই অন্যায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উক্ত স্বেচ্ছাচারী, অনৈতিক ও এখতিয়ার বহির্ভূত সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করে, নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে মিথ্যা অভিযোগ খারিজপূর্বক ভুক্তভোগী সদস্যকে তাঁর সাধারণ সদস্যপদ ও স্বাভাবিক কার্যক্রমে অবিলম্বে বহাল রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করা হচ্ছে।