
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কাউলীবেড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কম্পিউটার ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চুরির অভিযোগকে ঘিরে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ভূমি ইউনিয়ন সহকারী কর্মকর্তা সালমা আক্তারের বিরুদ্ধে হয়রানি, দুর্ব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে।একই নামজারি বারবার করা, ৪৬.৫০ শতাংশ জমির নামজারি পচায় ১০.৫০ শতাংশ নামজারি হওয়া, ৬ শতাংশ জমির দলিলে ০.৭৪ অযুতাংশ হওয়া,
এমনকি কাল্পনিক নাম জারি ও তিনি করে থাকেন এরকম নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারীদের দাবি, সালমা আক্তারের বিরুদ্ধে উপজেলা ভূমি অফিস, জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার ও দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদনও প্রকাশিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। সালমা আক্তার ভয় পেয়ে তথ্য লুকাতে এই নাট্যকীয় ঘটনা ঘটিয়েছে কিনা এই প্রশ্ন ইউনিয়নের প্রতিটি নাগরিকের।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে ৬ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ করতে যেয়ে একদল সাংবাদিক ১ ঘন্টা ৪৪ মিনিট অবরুদ্ধ হয়েছিল, তার পালিত কিছু দালাল চক্র দাঁড়া, তাঁর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকদের হাত থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়, তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেনের ভিডিও অডিও মুছে দেয় এবং হুমকি দেয়, এই বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ রয়েছে । সেই দালাল চক্র দ্বারা এ ঘটনা ঘটিয়ে নাটক করছে কিনা?যারা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে তাদেরকে শায়েস্তা করতে বা তাদেরকে হয়রানি করতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে কিনা?নানা প্রশ্ন সাধারণ জনগণের।
সম্প্রতি ভূমি অফিসে একটি কম্পিউটার ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চুরির কথা জানানো হয়। এ বিষয়ে সালমা আক্তারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
পরে তার সহকারি মোহাম্মদ জাহিদ এই চুরির ঘটনায় তিনি কাউলীবেড়া ভূমি অফিসের সকলকে দায় করে বলেন “এই ঘটনায় আমরা সকলেই দায়ী “এমনকি তিনি সাধারণ জনগণকে দায়ী করেছেন বলেন কাউলীবেড়া ইউনিয়নের প্রতিটি নাগরিকেরই দায়িত্ব ছিল তাদের যাবতীয় তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাহারা দিয়ে রাখা, তারই অস্বাভাবিক কথা শুনে মোঃ হাফিজুল ইসলাম তালুকদার বলেন আমরা তো দূরে থাকি তাহলে তো আমাদের উচিত হবে সারাদিন পরিশ্রম করে, রাত হলে সেই নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রামে যেয়ে পাহারা দিব, এই কথা বলতেই তিনি হেসে দেন।
চুরির সময় ঘটনা সম্পর্কে জানতে আশপাশের দোকানদার কল্লোল জুমদার, আনোয়ার, আজিজ শেখ ও মোহাম্মদ শিশিরের সঙ্গে কথা বলা হলে তারাও ঘটনার সঠিক সময় বা কীভাবে চুরি হয়েছে—এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি বলে জানা গেছে।
কেউ বলে সোমবার কেউ বলে রবিবার এমনকি সহকারী জাহিদ তিনিও সঠিকভাবে বলতে পারছে না সোমবার নাকি রবিবার।
অন্যদিকে স্থানীয় কয়েকজন সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সেবা নিতে গেলে সালমা আক্তার কথায় কথায় ভয়ভীতি দেখান এবং ‘আমার চেয়ে বেশি বুঝলে মামলা দিয়ে দেব’—এ ধরনের কথা বলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশের পর চুরির ঘটনাটি কোনো সাজানো ঘটনা কি না, কিংবা এর সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা চক্রের সম্পৃক্ততা আছে কি না—তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—সরকারি ভূমি অফিসে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও কম্পিউটার কীভাবে নিরাপত্তার বাইরে গেল? অফিসে সিসি ক্যামেরা ছিল কি না, আশপাশের ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে কি না এবং ঘটনার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছে—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন
সাধারণ মানুষের নানা প্রশ্ন কাউলীবেড়া বাজারে অনেক অনেক মূল্যবান দোকানপত্র থাকা অবস্থায় ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কেন চুরি?ভাঙ্গা কম্পিউটার, পুরোনো আইপিএস, এত কম দামি চোর কোথা থেকে আসলো? অনেকেই বলছে সালমা আক্তার বিভিন্নভাবে ঘুষ বাণিজ্য করে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছে সেগুলো ঢাকতেই এই নাটকীয় চুরি,সাধারণ জনগণের দাবি সালমা আক্তারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, তাকে সঠিকভাবে জিজ্ঞাসা করলে সঠিক তথ্য বের হয়ে আসবে।
এ ঘটনায় সাধারণ নাগরিকগণ তীব্র প্রতিবাদ করেছেন ও সুষ্ঠু তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দাবী জানিয়েছেন।