
মো: শফিকুল ইসলাম আরজু- নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নগরীর সৌন্দর্য বর্ধনে বাংলাদেশ রেল ওয়ের জমিতে শতকোটি টাকা খরচ করে জিমখানা এলাকায় গড়ে তুলেন দুটি দৃষ্টি নন্দিত পার্ক। এর একটি হলো শেখ রাসেল পার্ক ও জিমখানা পার্ক নামে পরিচিত। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শতশত মানুষের আনাগোনা এই পার্কে। কিন্তু ইদানীং এই পার্ক ভীতির কারন হয়ে দাড়িয়েছে অনেক অভিভাবক মহলের কাছে। এর কারণ হিসেবে যানা যায় নিরাপত্তা রক্ষী না থাকায় পার্কে ঘটছে নানা রকম অঘটন। দিনে দিনে অপরাধীদের চলছে দৌরাত্ম্য। পার্কে আসা লোকদের পড়তে হচ্ছে চোর, ছিনতাই, চাঁদাবাজিদের কবলে।বিভিন্ন স্থানে দেখা যায় বেহায়াপনার চিত্র। সেই সাথে মাদকদ্রব্য সেবন ও বিক্রেতাদের আনাগোনা।
সম্প্রতি লেকপাড়ে অনেক নারী, পুরুষ ও শিশুর মৃত লাশ পাওয়া যাচ্ছে। অনেকের মনে প্রশ্নের জন্ম। এই ভেসে উঠা লাস গুলো কি হত্যা, নাকি অপমৃত্যু এ নিয়ে নানা মহলে গুঞ্জন সেই সাথে জনসাধারণ উদ্ধিগ্ন।
আবার অনেকের মতে, সাতার না জানা কোমলমতি শিশুরা অতি উৎসাহিত হয়ে পানির গভীরতা না জেনেই গোসল করতে নেমে থাকে ফলে পানিতে ডুবে মরে যাচ্ছে এই মতবাদ ব্যক্ত করেন। এই অনাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর কারন সত্যিত দু:খ ও বেদনাদায়ক ঘটনা।
কিন্তু এ সব বিষয় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন জেনেও উদাসীন। প্রতিকারে নেই কোন পদক্ষেপ।
নগরবাসী ও সুশীল সমাজের দাবী, লেককে ঘিরে প্রতিনিয়তই শিশু ডুবে মরে যাবারমতো দূর্ঘটনা ঘটে চলছে যা বেদনাদায়ক। যে পরিবার তার সন্তান হারায় সেই বুজতে পারে এর বিরহ বেদনা। আমরা আর চাইনা কোন পিতা মাতা তার সন্তানকে এ ভাবে হারিয়ে ফেলুক। তাই লেকপাড়টি নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখার জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এর প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোড়ালো দাবি জানান।
তথ্য সূত্রে জানা যায় বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১৫-১৯ হাজার মানুষ পানিতে ডুবে মারা যায়, যার অধিকাংশ শিশু এবং প্রতিদিন গড়ে ৪০-৪১ জন শিশুর মৃত্যু ঘটে । শ্বাসকষ্টের কারণে মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে এই মৃত্যু হয়। এটি মূলত প্রতিরোধযোগ্য, তাই শিশুদের নজরদারি, সাঁতার শেখা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন অভিজ্ঞমহল।