
নারায়ণগঞ্জে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেছেন, আন্দোলন-সংগ্রামে শুধু রাজপথে থাকা মানুষই নয়, শিল্পী, সাহিত্যিক, চিত্রকর, সুরকার ও বুদ্ধিজীবীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাই জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)কে শুধু রাজপথের আন্দোলনে সীমাবদ্ধ না থেকে সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও নেতৃত্ব দিতে হবে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে শহরের কালাবাজার এলাকায় অবস্থীত জেলা শিল্পকলা একাডেমির থিয়েটার হলে জেলা ও মহানগর জাসসের কর্মী সভায় তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, ভারতবর্ষ ব্রিটিশদের হাত থেকে স্বাধীন হওয়ার পর আবার বিভাজনের মাধ্যমে পাকিস্তান ও ভারতের জন্ম হয়। পরে ভাষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য ও বৈষম্যের কারণে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের পক্ষে পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে একত্রে থাকা সম্ভব হয়নি। সেই কারণেই স্বাধীনতা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে।
মামুন মাহমুদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধে কেউ অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন, আবার কেউ ছবি এঁকেছেন, কবিতা লিখেছেন, পথনাটক করেছেন। তারাও স্বাধীনতা আন্দোলনের কর্মী। তাই জাসাসের ভেতরে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বয় ঘটাতে হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জাসাস আগামী দিনে বরেণ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে গড়ে উঠবে।
তিনি আরও বলেন, একটি রাজনৈতিক দল শুধু রাজপথের নেতাকর্মীদের ওপর নির্ভর করে টিকে থাকতে পারে না। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে দল শক্তিশালী ও আদর্শিক হয়ে ওঠে।
অতীতে অপসংস্কৃতির চর্চা ও ভারতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, শিল্প ও সাহিত্যের ভিত্তিতেই বাংলাদেশ রচিত হয়েছে। তাই সেই সংস্কৃতির চর্চায় জাসাসকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।
জাসাস কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুল ইসলাম সানির সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাসাস কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হেলাল খান। সম্মেলনটি উদ্বোধন করেন জাসাস কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকন, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব।মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু প্রমুখ।