বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
ভাঙ্গার কাউলীবেড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ ভূমি মন্ত্রণালয়ের খানপুর হাসপাতাল নিরাপত্তার চাদরে -আনসার”এপিসি – আবুল বাসারের কৃতিত্ব যুবদলে নতুন কমিটির গুঞ্জন, ত্যাগী-পরিচ্ছন্ন নেতৃত্ব চায় তৃণমূল ফতুল্লায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ফারজানার মৃত্যু: স্বামীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা চাঁদাবাজি সহ্য করার জন্য বিএনপিকে ক্ষমতায় আনিনি: জাবের সিদ্ধিরগঞ্জে আগুনে পুড়ল সাত ঘর, বাছুর বাঁচাতে গিয়ে দগ্ধ বাড়ির মালিক নারায়ণগঞ্জে ২৪ ঘন্টায় গ্রেপ্তার ৮২ নারায়ণগঞ্জে উচ্ছেদ অভিযানে সাখাওয়াত এর ওপর হামলার চেষ্টা ফারজানার মৃত্যু ঘিরে রহস্য, পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যা আইভী এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ: গোলাম মাওলা রনি

ভাঙ্গার কাউলীবেড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ ভূমি মন্ত্রণালয়ের

  • আপডেট সময় বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০.০২ এএম
  • ০ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টারঃ ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কাউলীবেড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নামজারি ও ভূমিসংক্রান্ত সরকারি সেবা প্রদানে অনিয়ম, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মিজ সালমার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগকারী ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, নামজারি, খারিজ ও জমির রেকর্ড সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এমনকি নামজারির কাজ সম্পন্ন করার কথা বলে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ, জেলা প্রশাসককে তদন্তের নির্দেশ
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ‘দৈনিক যুগ খবর’-এর সম্পাদক ও সাংবাদিক মো. হাফিজুল ইসলাম তালুকদার কাউলীবেড়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মিজ সালমার বিরুদ্ধে ভূমি মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-৩ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব এম কে হাসান মোর্শেদ স্বাক্ষরিত একটি দাপ্তরিক চিঠি ফরিদপুরের জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়। চিঠির স্মারক নম্বর হিসেবে উল্লেখ রয়েছে—৩১.০০.০০০০.০৯২.৯৯.০০০৭.২৩-৫৬৩।

চিঠিতে অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত আট পৃষ্ঠার ছায়ালিপিসহ বিষয়টি সরেজমিনে যাচাই, প্রয়োজনীয় তদন্ত এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারী পক্ষ জানিয়েছে। পাশাপাশি গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানোর কথাও উল্লেখ রয়েছে।

নামজারির কথা বলে ৭ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ
অভিযোগে নতুন করে যুক্ত হয়েছে কাউলীবেড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা রুবেল তালুকদারের নামজারি-সংক্রান্ত অর্থ লেনদেনের বিষয়টি। অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বদলি হওয়ার দুই দিন আগে রুবেল তালুকদারের নামজারির কথা বলে ৭ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়। এ ছাড়া দুই ব্যক্তি, যাঁদের অভিযোগে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁরা ৫০০ টাকা করে মোট ১ হাজার টাকা নিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।ক্ষতিগ্রস্ত রুবেলের বাবা তিনি মোবাইল ফোনে স্বীকার করেন, আমাদেরকে দীর্ঘদিন ঘোরাঘুরি করেছে আমার এই নামজারি করতে যেয়ে আমি ঢাকা মিরপুর থেকে বেশ কয়েকবার এসেছি, আমার হাত থেকে ৭৫০০ টাকা নিয়েছেন সালমা আক্তার আর তার দুই সহকারী( দালাল) নিয়েছে ৫০০ করে ১০০০ টাকা।

চেয়ারম্যানের কাছেও পৌঁছেছে অভিযোগ
কাউলীবেড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান দুদুমিয়া সংশ্লিষ্ট ভূমি সহকারী কর্মকর্তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নিজের এক আত্মীয়ের জমি নিয়ে অনুরূপ অভিযোগের কথা জানিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

চেয়ারম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, একই জমি দুই ব্যক্তির নামে নামজারি করে দেওয়ার কথা বলে উভয়ের কাছ থেকেই টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও তিনি বলেন বিগত দিনে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে আমার কাছে একান্ত সাক্ষাতে তিনি বলেন।

আনোয়ার মাতব্বরের কাছেও অতিরিক্ত টাকা দাবির অভিযোগ
এ ছাড়া কাউলীবেড়া ইউনিয়নের খাটরা এলাকার আনোয়ার মাতব্বরের কাছ থেকে ভূমিসংক্রান্ত কাজের জন্য অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে টাকার পরিমাণ ‘৬৫ হাজার টাকা’ মোবাইল ফোনে রেকর্ডিং রয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত আনোয়ার মাতব্বরের দাবি।

সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের দাবি, ভূমি অফিসে সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ফাইল আটকে রাখা কিংবা সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির মতো ঘটনা ঘটে থাকলে তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে আগেভাগে দোষী সাব্যস্ত না করে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তাঁরা।

ভূমি অফিস সাধারণ মানুষের জমি, সম্পত্তি ও আইনি অধিকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান। ফলে এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, আর্থিক লেনদেনের হিসাব যাচাই এবং প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

এখন দেখার বিষয়, ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর ফরিদপুর জেলা প্রশাসন কী ধরনের তদন্ত কার্যক্রম গ্রহণ করে এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত আসে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2021 rudrabarta24.net
Theme Developed BY ThemesBazar.Com

sakarya bayan escort escort adapazarı Eskişehir escort