
লিটন মাহমুদ, মুন্সীগঞ্জ: নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘৩য় আন্তর্জাতিক আদিবাসী ভাষা সাংবাদিকতা সম্মেলন–২০২৬’-এ বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিচ্ছেন মুন্সীগঞ্জের সাংবাদিক শাহনাজ হীরা। সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি তিনি গবেষণাপত্র উপস্থাপক (Paper Presenter) ও অভিজ্ঞতা বিনিময়কারী (Experience Sharer) হিসেবেও অংশ নেবেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) আট সদস্যের বাংলাদেশি সাংবাদিক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে নেপালের উদ্দেশ্যে রওনা হন শাহনাজ হীরা। আগামী ৯ থেকে ১২ আগস্ট কাঠমান্ডুতে এ আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
সম্মেলনের এবারের মূল প্রতিপাদ্য— ‘সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের জন্য আদিবাসী ভাষার সাংবাদিকতা।’
আয়োজক ফেডারেশন অব নেপালিজ ইন্ডিজেনাস ন্যাশনালিটিজ জার্নালিস্টস (FoNIJ) জানিয়েছে, নেপালসহ বিশ্বের ২৭টি দেশের ৪০০-এর বেশি আদিবাসী ভাষার সাংবাদিক এ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এতে সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী, গবেষক, শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত
মুন্সীগঞ্জ শহরের মাঠপাড়া এলাকার বাসিন্দা শাহনাজ হীরা সাংবাদিকতার পাশাপাশি শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তিনি স্থানীয় ব্রিলিয়্যান্ট ক্যাডেট কেজি স্কুলের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, মুন্সীগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও সক্রিয় রয়েছেন।
সাংবাদিকতায় তিনি চ্যানেল এস টেলিভিশনের অনলাইন রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি মুন্সীগঞ্জের দৈনিক সভ্যতার আলো পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক এবং জাতীয় দৈনিক সরেজমিন বার্তার মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন।
আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব এবং গবেষণাপত্র উপস্থাপনের সুযোগ পাওয়াকে মুন্সীগঞ্জের সাংবাদিকতা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
থাকছে গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন
সম্মেলনে আদিবাসী ভাষার সাংবাদিকতার বৈশ্বিক অবস্থা, জলবায়ু পরিবর্তন, বন অধিকার, আদিবাসী জ্ঞানব্যবস্থা, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, ঐতিহ্যগত জ্ঞান ও জীববৈচিত্র্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে।
এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ও মূলধারার গণমাধ্যমে আদিবাসী ভাষার সাংবাদিকতা, ডিজিটাল যুগে আদিবাসী ভাষার সাংবাদিকতার সম্ভাবনা এবং এ বিষয়ে গবেষণাপত্র উপস্থাপনের জন্য বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন বিষয়ে রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও উচ্চপর্যায়ের নীতিগত সংলাপের আয়োজন থাকছে।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ৮ আগস্ট আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা কাঠমান্ডুতে পৌঁছাবেন। ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী জনগোষ্ঠী দিবস উদযাপন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রতিনিধিদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে। ১০ আগস্ট সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন, ১১ আগস্ট বিভিন্ন কারিগরি অধিবেশন এবং ১২ আগস্ট সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ১৩ আগস্ট আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের নিজ নিজ দেশে ফেরার কর্মসূচি রয়েছে।