শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৫২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
ছক কষে পোশাক খাতে অস্থিরতা শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে মালিক-শ্রমিক-প্রশাসনের সমন্বয় বৈঠক শ্রমিক আন্দোলনকে ‘পরিকল্পিত’ বললেন এমপি দিপু ভূঁইয়া ফতুল্লায় তিনদিন বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক, সতর্ক পুলিশ-বিজিবি পারিবারিক ও দাম্পত্য সম্পর্কের বিশ্বাস অবিশ্বাসে সুজনের আত্মহত্যা মার্কিন সেনেটে ইতিহাস: প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে জয় পেলেন আবদুল আল সাঈদ চট্টগ্রাম বন্দরে বিপিসির আমদানিকৃত জ্বালানি তেলে সাড়ে ৪৫ কোটি টাকার ঘাটতি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো মুছাপুরে প্রবাসী সাংবাদিক পরিবারকে হয়রানি: বাড়ি দখলের পাঁয়তারায় ‘লেডি মাস্তান’ হনুফা সোনারগাঁয়ের জামপুরে তালতলা ফাঁড়ির নাম ভাঙিয়ে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ

চট্টগ্রাম বন্দরে বিপিসির আমদানিকৃত জ্বালানি তেলে সাড়ে ৪৫ কোটি টাকার ঘাটতি

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১১.৪৯ এএম
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

আমদানির নথিতে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল উল্লেখ থাকে, চট্টগ্রাম বন্দরে খালাসের সময় তার পুরোটা বুঝে পাচ্ছে না বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরে আসা ৫৬টি জাহাজের চালান পরীক্ষা করে ২ হাজার ৪৪৯ টন জ্বালানি তেলের ঘাটতি পাওয়া গেছে। লিটারে যার পরিমাণ প্রায় ২৯ লাখ ৬৫ হাজার। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী এই জ্বালানির আর্থিক মূল্য প্রায় সাড়ে ৪৫ কোটি টাকা।

​বণিক বার্তার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিপিসি।

​বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর বিল অব লেডিং (বিএল) বা আমদানির নথিতে মোট ১৭ লাখ ৫১ হাজার ৯২৮ টন জ্বালানি থাকার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে খালাস করা হয়েছে ১৭ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৯ টন। অর্থাৎ হিসাবের তুলনায় ২ হাজার ৪৪৯ টন জ্বালানি কম পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত মেঘনা পেট্রোলিয়াম কোম্পানি লিমিটেড (এমপিএল) এই জাহাজগুলো থেকে পণ্য খালাসের দায়িত্বে ছিল।

পণ্যভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি দেখা গেছে হাই স্পিড ডিজেলে (এইচএসডি)। এই জ্বালানি ২ হাজার ২৬ টন বা প্রায় ২৪ লাখ ৩ হাজার লিটার কম পাওয়া গেছে। এ ছাড়া পেট্রল ও অকটেনে ২৮১ টন (প্রায় ৩ লাখ ৮৫ হাজার লিটার) এবং জেট এ-১ জ্বালানিতে ১৪১ টন (প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার লিটার) ঘাটতি পাওয়া গেছে।

জাহাজভিত্তিক বিশ্লেষণেও বড় ধরনের পার্থক্য ধরা পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি পাওয়া গেছে ‘এমটি টর্ম অ্যাগনেস’ জাহাজে। চলতি বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি আসা এই জাহাজে ৩৪ হাজার ৯৮৮ টন ডিজেল থাকার কথা থাকলেও পাওয়া যায় ৩৪ হাজার ৭২৫ টন; অর্থাৎ ঘাটতি ২৬৩ টন।

​অন্যান্য জাহাজের মধ্যে গত বছরের ২০ আগস্ট আসা ‘এমটি টর্ম লুইস’ থেকে ২২১ টন, চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল আসা ‘এমটি লিয়ান সং হু’ থেকে ২১৪ টন এবং গত বছরের ৪ জুলাই আসা ‘পিভিটি সোলানা’ থেকে ২০৬ টন মোটর অয়েল কম পাওয়া যায়। এই চারটি জাহাজে ঘাটতির পরিমাণ প্রায় এক হাজার টন।

এমপিএলের উপমহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) মুজিবুর রহমান চৌধুরী জানান, কিছু জাহাজে ঘোষিত পরিমাণের তুলনায় কম জ্বালানি পাওয়ার বিষয়টি সত্য। তবে বিপিসির অনুমোদিত শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ সহনীয় সীমার মধ্যে থাকায় একে অনিয়ম বলা যাচ্ছে না। তবে নির্দিষ্ট চারটি জাহাজের বড় ঘাটতি সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

​অন্যদিকে বিপিসি-সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, সামগ্রিক হিসাবের আড়ালে কয়েকটি জাহাজে অস্বাভাবিক পার্থক্য চাপা পড়ে যেতে পারে। কারণ উল্লেখিত চারটি জাহাজে নথিভুক্ত পরিমাণের প্রায় শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ জ্বালানি কম পাওয়া গেছে। ফলে সহনীয় সীমার অজুহাতে বড় অঙ্কের এই আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ট্যাংকে পরিমাপ, তাপমাত্রা, ঘনত্ব বা যন্ত্রপাতির তারতম্যের কারণে কিছু তারতম্য হতে পারে। তবে গত অর্থবছরে সাতটি জাহাজে ঘোষিত পরিমাণের চেয়ে বেশি তেল পাওয়ার ঘটনাও পুরো প্রক্রিয়ার নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

​দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি খালাসে মেইন পয়েন্ট ইনস্টলেশন (এমআই) অটোমেশন চালুর পরিকল্পনা থাকলেও তা এখনো পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। এ বিষয়ে বিপিসির পরিচালক (অপারেশন) একে মোহাম্মদ সামছুল আহসান বলেন, ‘খালাসকালীন ঘাটতির বিষয়টি নিয়ে সংস্থাটি আগের চেয়ে বেশি সতর্ক। এমআই খালাস কার্যক্রমে অটোমেশন চালুর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়া অটোমেশনের আওতায় এলে ঘাটতি ও অনিয়ম উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব হবে।’

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2021 rudrabarta24.net
Theme Developed BY ThemesBazar.Com

sakarya bayan escort escort adapazarı Eskişehir escort