মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
কাঁচপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ! পর্দার আড়ালে সাপ্তাহিক চাঁদার কারবার? বন্দরে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২) ইউনিয়ন পর্যায়ে খেলোয়াড় বাছাইয়ের উদ্বোধন নারায়ণগঞ্জে হেভেন কম্পিউটারের কর্ণধার মোঃ মাকসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে ক্রেতা হয়রানির অভিযোগ, সদর থানায় জিডি রাসেল হত্যা মামলা: শামীম ওসমানদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য শুরু শ্রমিকদের আন্দোলন নেই, সতর্ক অবস্থানে পুলিশ-বিজিবি নারায়ণগঞ্জ: এইচএসসিতে কমেছে পাসের হার ও জিপিএ-৫ শহরে বেপরোয়া উৎসব বাসের চাপায় রিকশাচালক নিহত, আহত ৩ গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনীতি কি আবার পুরোনো পথে? নারায়ণগঞ্জ সংবাদকর্মী কল্যাণ সমিতি’র আলোচনা সভা, অভিষেক ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জে হেভেন কম্পিউটারের বিরুদ্ধে ক্রেতা হয়রানি ও প্রতারণার অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জে হেভেন কম্পিউটারের কর্ণধার মোঃ মাকসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে ক্রেতা হয়রানির অভিযোগ, সদর থানায় জিডি

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৪.১৩ পিএম
  • ১ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টারঃ নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া সমবায় মার্কেটের তৃতীয় তলায় অবস্থিত হেভেন কম্পিউটারের কর্ণধার মো. মাকসুদুর রহমান ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন ভাষায় হয়রানি ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা চেয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন লাবনী আক্তার। গত ২ নভেম্বর ২০২৬ ইং তারিখ দুপুর ২টার দিকে করা জিডির নম্বর ৯৭।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মো. শামীম হোসেন হেভেন কম্পিউটার থেকে ১৫ হাজার ৮০০ টাকা দিয়ে Epson L3210 মডেলের একটি কালার প্রিন্টার কেনেন। কেনার পর প্রথম বছরের মধ্যেই প্রিন্টারটিতে একাধিকবার সমস্যা দেখা দেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথম বছরেই তিন থেকে চারবার প্রিন্টারটি দোকানে নিয়ে মেরামত করাতে হয়।

বারবার একই সমস্যায় পড়ে বিরক্ত হয়ে শামীম হোসেন দোকানমালিককে প্রিন্টারটি রেখে অন্য একটি প্রিন্টার দেওয়ার অনুরোধ জানান। এ সময় দোকানমালিক সমস্যা হলে নতুন প্রিন্টার দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন ক্রেতাপক্ষ।

পরবর্তীতে আবারও প্রিন্টারটিতে সমস্যা দেখা দিলে সেটি মেরামতের জন্য দোকানে নেওয়া হয়। ক্রেতাপক্ষের অভিযোগ, প্রথমে মেরামতের খরচ ৮০০ টাকা জানানো হয়। পরে ফোনে যোগাযোগ করলে ৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। এরপর আবার ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং সর্বশেষ ৭ হাজার টাকা চাওয়া হয়।

এদিকে, মেরামতের সময় পুরোনো অন্য একটি প্রিন্টার থেকে মাদারবোর্ড খুলে এনে শামীম হোসেনের প্রিন্টারে লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন লাবনী আক্তার। বিষয়টি দেখে তিনি দোকান কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন করেন, তাঁদের কেনা প্রিন্টারের মূল মাদারবোর্ডটি খুলে অন্য কোথাও বিক্রি করা হয়েছে কি না, অথবা সেটির পরিবর্তে অন্য কোনো পুরোনো মাদারবোর্ড লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে কি না। তবে তাঁর দাবি, এ প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর পাননি।

লাবনী আক্তারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রিন্টারটিতে মূলত বিদ্যুৎ সংযোগের সুইচে মাঝেমধ্যে সমস্যা দেখা দিত। কিন্তু দোকান কর্তৃপক্ষ মাদারবোর্ড নষ্ট হয়েছে বলে জানায়। মেরামতের খরচ বারবার পরিবর্তন হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ক্রেতাপক্ষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।

দোকানমালিক মাকসুদুর রহমানের বক্তব্য
এ বিষয়ে দোকানমালিক মো. মাকসুদুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রিন্টারটির ওয়ারেন্টির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাই তাঁদের আর কিছু করার নেই। তিনি ক্রেতাপক্ষকে নতুন আরেকটি পণ্য কিনে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

ক্রেতাপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাঁদের কাছ থেকে আবার পণ্য কিনে নতুন করে হয়রানির শিকার হতে চান না। জবাবে মাকসুদুর রহমান বলেন, “যেখান থেকে পারেন, সেখান থেকে কিনে নিয়ে যান। এই কালার প্রিন্টার এক বছর পর সমস্যা দেবে, এটাই স্বাভাবিক।”

দোকানমালিকের এই বক্তব্যের পর ক্রেতাপক্ষের মধ্যে আরও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন লাবনী আক্তার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ
লাবনী আক্তারের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে তাঁকে বিভিন্ন ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। পাশাপাশি হেভেন কম্পিউটারের কর্ণধার মো. মাকসুদুর রহমান নিজেও উচ্চস্বরে কথা বলা এবং টেবিল চাপড়ে তাঁকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এসব ঘটনার পর নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে গত ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখ দুপুর ২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় উপস্থিত হয়ে সাধারণ ডায়েরি করেন লাবনী আক্তার। জিডি নম্বর ৯৭।

নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
লাবনী আক্তারের দাবি, একজন সাধারণ ক্রেতা হিসেবে পণ্য কেনার পর ওয়ারেন্টি ও মেরামতসংক্রান্ত ন্যায্য সেবা পাওয়া তাঁর অধিকার। মেরামতের খরচ কেন ৮০০ টাকা থেকে পর্যায়ক্রমে ৫ হাজার, ২ হাজার ৫০০ এবং সর্বশেষ ৭ হাজার টাকা হলো, তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা চান তিনি।

এ ছাড়া প্রিন্টারের মূল মাদারবোর্ডের পরিবর্তে অন্য পুরোনো প্রিন্টারের মাদারবোর্ড লাগানোর চেষ্টা কেন করা হচ্ছিল, সেটিও তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বর্তমানে প্রিন্টারটি হ্যাভেন কম্পিউটারে রয়েছে ভুক্তভোগীরা কোন সমাধান না পেয়ে বাধ্য হয়ে সেখানে রেখে চলে এসেছেন।

ভুক্তভোগী পক্ষ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রিন্টারের যন্ত্রাংশ ও মেরামতপ্রক্রিয়া যাচাই, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ তদন্ত এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2021 rudrabarta24.net
Theme Developed BY ThemesBazar.Com

sakarya bayan escort escort adapazarı Eskişehir escort