রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৩:০৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
বন্ধ ও লোকসানি রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা পুনরুজ্জীবনে বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর সোনারগাঁয়ে ছাত্রলীগ নেতা শাকিল গ্রেপ্তার লিংক রোডে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় সিএনজি উল্টে শিশুর মৃত্যু, আহত ৪ কোনো সুবিধাবাদী-চাঁদাবাজ মনোনয়ন পাবে না: সাখাওয়াত শীতলক্ষ্যায় গোসলে নেমে শিশুর মৃত্যু বৈষম্যমুক্ত মানবিক ফোরাম এর উদ্যোগে “জুলাই বিপ্লব: অধিকার সচেতনতার নতুন জাগরণ”,শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে নবাগত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়াকে বাংলাদেশ ভূমি অফিসার্স কল্যাণ সমিতির শুভেচ্ছা ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা না পর্তুগাল: দীঘি কোন দলের সমর্থক? কোরিয়াকে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে মেক্সিকো জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন, কী আছে এতে?

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা: এয়ারপোর্ট বন্ধ, টিকিটের অগ্নিমূল্যে দিশেহারা রেমিট্যান্স যোদ্ধারা

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১২.৩৯ পিএম
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে

মুহসীন দেওয়ান : আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে অস্থিরতায় চরম বিপাকে পড়েছেন ছুটিতে আসা হাজারো প্রবাসী। বিশেষ করে কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মস্থলে ফেরার অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশিরা এখন অনিশ্চয়তার মুখে। একদিকে ফ্লাইট বাতিল, অন্যদিকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর সিন্ডিকেট—সব মিলিয়ে এক মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।
আকাশছোঁয়া টিকিটের দাম ও সিন্ডিকেট
যুদ্ধ পরিস্থিতির অজুহাতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে বিমানের টিকিটের দাম আকাশচুম্বী। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এক শ্রেণির অসাধু ট্রাভেল এজেন্সি এই দুর্যোগকে পুঁজি করে প্রবাসীদের পকেট কাটছে।
সাধারণ সময়ে ঢাকা থেকে কুয়েতের যে টিকিটের দাম স্বাভাবিক ছিল, বর্তমানে তা ৩২০ থেকে ৪০০ কুয়েতি দিনার (প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা) পর্যন্ত রাখা হচ্ছে।
সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় প্রবাসীরা বাধ্য হয়ে ঢাকা-দাম্মাম হয়ে কুয়েত বা বিভিন্ন ট্রানজিট রুট ব্যবহার করছেন।
এই সুযোগে সিংগেল টিকিটের দাম স্বাভাবিকের চেয়ে চারগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে এজেন্সিগুলো।
ভিসার মেয়াদ নিয়ে প্রবাসীরা উদ্বিগ্ন।
অনেকেরই ভিসার মেয়াদ শেষ পর্যায়ে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর্মস্থলে পৌঁছাতে না পারলে চাকরি হারানোর ভয় কাজ করছে সবার মনে। বাংলাদেশ বিমানসহ বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে যারা সঠিক সময়ে ফিরতে পারছেন না, তাদের টিকিটের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। উপায়ান্তর না দেখে ভিটেমাটি বা গয়না বন্ধক রেখে, চড়া সুদে ঋণ নিয়ে আবারও চড়া দামে টিকিট কাটতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

প্রবাসীদের এই চরম দুর্দিনে তাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। ভুক্তভোগী এক প্রবাসী আক্ষেপ করে বলেন, *”বিদেশে যাওয়ার সময় বা টাকা পাঠানোর সময় সবাই আমাদের ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ বলে বাহবা দেয়। কিন্তু বিপদে পড়লে আমরা একা। ট্রাভেল সিন্ডিকেটের কাছে আমরা আজ জিম্মি, অথচ এটা দেখার যেন কেউ নেই।
এত অনিশ্চয়তা, ঋণের বোঝা আর জীবনের ঝুঁকি জেনেও প্রবাসীরা আবারও উড়াল দিচ্ছেন অজানার উদ্দেশ্যে। কারণ, তাদের কাছে নিজের জীবনের নিরাপত্তার চেয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো আর সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারের উচিত অবিলম্বে বিমান সংস্থাগুলোর সাথে আলোচনা করে বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা এবং ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর কারসাজি বন্ধে কঠোর নজরদারি চালানো। অন্যথায়, হাজার হাজার প্রবাসী কর্মহীন হয়ে পড়বে, যা দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2021 rudrabarta24.net
Theme Developed BY ThemesBazar.Com

sakarya bayan escort escort adapazarı Eskişehir escort