সোমবার, ০৩ অক্টোবর ২০২২, ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::

সংবাদ সম্মেলনে যা বললেন তৈমূর আলম

  • আপডেট সময় সোমবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২২, ৪.০০ এএম
  • ১২৮ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার সংবাদ সম্মেলন করেছেন। রোববার (৯ জানুয়ারি) বিকালে নগরীর মাসদাইরে তার নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে তিনি কেন নির্বাচন করছেন, সিটি করপোরেশনের কাছে নগরবাসীর প্রত্যাশা কি ছিল, কি পেয়েছে কি পায়নি, এবং তিনি নির্বাচিত হলে নগরীবাসীর জন্য তার করনীয় কি তা তুলে ধরে ৮ পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেছেন।

 

এসময় উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি ও নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতা এস এম আসলাম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এম এ হালিম জুয়েল, মহানগর শ্রমিকদলের সভাপতি এস এম আসলামসহ বিপুল সংখ্যাক দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থক।

 

তৈমূর বলেন, ২০১১ সালে বহু কাংখিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন গঠিত হয়, কিন্তু সিটি কর্পোরেশন অদ্যবদি নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনা ছাড়াও আগামী ১০০ বৎসরকে সামনে রেখে একটি দীর্ঘ মেয়াদী গ্রান্ড মাষ্টার প্লানের খসড়া প্রণয়ন করে, সর্বোস্তরের জনগনের মতামতের ভিত্তিতে, গৃহীত চূড়ান্ত প্লান অনুযায়ী শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানকে প্রাধান্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জকে স্বাচ্ছন্দে বসবাসযোগ্য বিজ্ঞান সম্মত পরিবেশ বান্দব ও প্রতিবেশী নিরাপত্তামূলক একটি নিরাপদ নগরী গড়ে তোলায় বীজ বপন করবেন। এবং নারায়ণগঞ্জ হবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র।

 

তিনি বলেন, প্রশাসনিকভাবে সিটি কর্পোরেশনকে গণমূখী হিসাবে গড়ে তোলা হবে, ঠিকাদারীর কোন প্রকার সিন্ডিকেটকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া হবে না এবং নাগরিক সুবিধা জনগনের দ্বারে পৌছে দেয়ার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকবে ।

 

তৈমূর বলেন, নগরবাসী মনে করছেন জনতার প্রার্থী তৈমূরের মাধ্যমেই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে পরিবর্তন আসবে, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ফিরে আসবে, নগর ভবন ঠিকাদার সিন্ডিকেট মুক্ত হয়ে প্রকৃতপক্ষেই নাগরিকদের সেবার ভবন, সেবকের ভবন রুপে দেখা মিলবে, ইনশাআল্লাহ।

 

স্বতন্ত্র এই প্রার্থী আরও বলেন, আইভী সরকারদলীয় মেয়র প্রার্থী হওয়ায় শুরু থেকেই রাষ্ট্রযন্ত্র তার পক্ষেই কাজ করছেন এবং তিনি নিজেও শুরু থেকেই সেই সুবিধা নিয়ে একের পর এক আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন। শুধু তাই নয়, পদত্যাগী হওয়া সত্বেও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মারীদের অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণকারীও তিনি। তার সরকারী দেহরক্ষী, পিএস, গার্বেজ ট্রাক, কর্মচারীরা তার প্রচারনায় অংশ নিয়ে সেটিও প্রমাণ করছেন। এছাড়াও নাসিকের ঠিকাদার কন্ডাক্টরগনই প্রতিটি ওয়ার্ডে নৌকা মার্কায় নির্বাচন পরিচালনা করছেন।

 

তৈমূর বলেন, প্রচারনায় নেমে হাজার হাজার নগরবাসীর মাঝে আমি যে ক্ষোভ ও কাংখিত সেবা না পাওয়ার যন্ত্রনা অবলোকন করছি। নগরবাসীর শত প্রশ্নের মতো একজন নাগরিক ও করদাতা হিসেবে আমারও প্রশ্ন, বিলুপ্ত পৌরসভা থেকে বর্তমান সিটি কর্পোরেশনের দেড় যুগে, উন্নয়ন নামের নাগরিক সুবিধার যে ভেলকিবাজি আর শুভাঙ্করের ফাঁকি দেয়া হচ্ছে, আমিও একজন নাগরিক হিসেবে আজ সেই হিসাব কষতে চাই। কি করে একজন মানুষ সততার বুলি আওড়ানোর পর রাজপ্রাসাদ গড়ে তুলতে পারেন, আর কি করে জনগনের অধিকারকে সিটি কর্পোরেশনের ঠিকাদার সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি করতে পারেন?

 

তৈমূর বলেন, নৌকার প্রার্থীর পক্ষে প্রচারনায় এসে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বলে গেছেন, তৈমূরকে রাস্তায় নামতে দেয়া হবে না। একদিকে সরকারদলীয় প্রার্থী ও তার দলের কেন্দ্রীয় নেতারা এসে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের বুলি আওড়াচ্ছেন, অপরদিকে নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে আমার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হওয়ায় কর্মী সমর্থকদের পরোক্ষভাবে হুমকি-ধামকি দেয়াসহ পোষ্টার ছিড়ে ফেলার সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। সরকারী দলের কেন্দ্রীয় নেতারা এসে গোয়েন্দা রিপোর্টের ফলাফল বলে সম্মানীত ভোটারদের অসত্য তথ্য দিচ্ছেন, যা কোন স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশে হলে ওই নেতাকে আইনের সম্মুখিন হতে হতো। সরকারীদলের মূখপাত্ররা ও সাধারণ সম্পাদক অবলিলায় বলে দিচ্ছেন তাদের প্রার্থী জয়ী হবে, যে কোন মূল্যে জয়ী করা হবে। এমনকি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রেফারেন্স দিয়ে স্থানীয় পত্র পত্রিকায় বলা হচ্ছে নৌকা লক্ষাধিক ভোটে জিতবে। যা পক্ষান্তরে নির্বাচন কমিশন ও জনগনকে প্রভাবিত করার সামিল।

 

তৈমূর বলেন, আমি বিশ্বাস করতে চাই মাননীয় প্রধান মন্ত্রী এ ধরণের কথা বলেননি। তার নামে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ২০১৮ সালেই বলেছেন তৈমুর বিজয়ী হওয়ার মত প্রার্থী। অথচ গত ৮ জানুয়ারী সরকারদলীয় মেয়র প্রার্থী আমাকে নিয়ে তার নিজদলের একজন এমপি ও জাতীয় পার্টির একজন এমপিকে জড়িয়ে যে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত মন্তব্য করেছেন সে ব্যাপারে কিছু না বললেই নয়। তাই সঙ্গত কারণেই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নগরবাসীর শরনাপন্ন হয়েছি।

 

তৈমূর আলম বলেন, সরকার দলীয় মেয়র প্রার্থী বারংবার আমার বক্তব্যকে মিথ্যাচার বলে আখ্যা দিচ্ছেন। অথচ আমিও প্রতিবারই বলছি আমার বক্তব্য সাধারণ মানুষেরই বক্তব্য। সরকারদলীয় প্রার্থীর অবস্থান এতটাই নড়বড়ে হয়ে গেছে, হাতি মার্কা আজ জনতার মার্কা হয়ে গেছে। সরকারদলীয় প্রার্থীর পায়ের নিচে মাটি এতটাই সরে গেছে যে, পুলিশ প্রশাসনের লোকদিয়ে ভয়ভীতি আর জোর করে সরকারদলীয় নেতাদের মাঠে নামাতে হচ্ছে। আমার দলসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী সম্প্রতি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যারা জনতার মার্কা হাতি মার্কার পক্ষে প্রচারনা চালাচ্ছেন এবং যারা সরকারী মার্কার পক্ষে নির্বাচন করছে না, শনিবার রাত থেকেই তাদের বাড়ীতে ট্রাক ভর্তি করে পুলিশ পাঠিয়ে সরকারী মার্কার পক্ষে নির্বাচন করার জন্য অযাচিতভাবে হুমকি ও হয়রানী প্রদান করা হচ্ছে। আমার নির্বাচনী পথসভায় অংশগ্রহণ করায় ধামগড় ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান কামাল হোসেনের বাসভবনে হয়রানীমূলক তল্লাশী করাসহ তার কর্মচারীকে পুলিশ ধরে নিয়ে আসে। একইভাবে ২৭টি ওয়ার্ডে আমার সমর্থক ও নির্বাচন পরিচালনায় নেতৃবৃন্দকে পুলিশ ও গোয়েন্দাদের দ্বারা হয়রানী করা হচ্ছে। যা সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রধান অন্তরায়।

 

হাতি মার্কার এই প্রার্থী আরও বলেন, নাগরিকদের প্রতি কর্পোরেশনের প্রধান দায়িত্ব হলো সবুজায়ন, যানজট মুক্ত শহর, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বান্ধব একটি পরিচ্ছন্ন নগর উপহার দেয়া। যেখানে কোন ময়লা আবর্জনার ভাগাড় থাকবে না, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে জলাবদ্ধতা থাকবে না, মশা-মাছির উপদ্রবে জীবন অতিষ্ট হবে না। পাশাপাশি নাগরিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে, অনুন্নত তথা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর শিক্ষার প্রসারে কাজ করবে এবং সর্বোপরি নাগরিকদের চিত্ত বিনোদনের ব্যবস্থা থাকবে। তাছাড়া ইভটিজিং, কিশোরগ্যাং, মাদকমুক্ত সমাজ বা ওয়ার্ড গঠনেও সিটি কর্পোরেশনের ভূমিকা অবশ্যই থাকতে হবে, কারণ জনপ্রতিনিধিদের জন্য মাদকমুক্ত এলাকা গড়াও একটি প্রধান কাজ। লাখ লাখ নগরবাসীর মত আমার প্রশ্ন, এই নাগরিক সুবিধার কোনটি গত ১৮ বছরে পূর্ণতা পেয়েছে? কেনই বা দেড় যুগের এই ব্যর্থতার পরেও নগরবাসী তাকে (আইভী) বিশ্বাস করবে?

 

তৈমূর বলেন শত শত বছর ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নগর এই নারায়ণগঞ্জ। অথচ সরকারদলীয় প্রার্থী আইভীর বিরুদ্ধে মসজিদ ও মন্দিরের জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে। অথচ ওয়াকফাকৃত সম্পত্তি বা দেবোত্তর সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তর যোগ্য নয়। সেখানে শত বছরের প্রাচীন দেওভোগ লক্ষী নারায়ণ মন্দিরের সম্পত্তি কি করে বিক্রি হতে পারে? এই অভিযোগ ও আশঙ্কা খোদ এই শহরের হাজার হাজার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে সরকারী দলের নেতৃবৃন্দ সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন। একই সঙ্গে প্রায় সাড়ে ৫০০ বছরের প্রাচীন মোঘলীয় মসজিদ তথা জিমখানা মসজিদের জায়গাও তিনি (আইভী) দখল করেছেন বলে, ওই মসজিদ কমিটি ও ওয়াকফ এস্টেটের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে বহু নিরীক্ষন ও আইনী পর্যালোচনা করে দেখেছি, সেই মসজিদ ও ওয়াকফ এস্টেটের অভিযোগটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক।

 

তৈমূর বলেন, কথা দিচ্ছি, এই প্রাচীন মসজিদ ও মন্দিরের দখল হয়ে যাওয়া জায়গা উদ্ধারেও ব্যবস্থা নেয়া হবে ইনশাল্লাহ। শুধু তাই নয়, অর্ধশত বছর ধরে রেলওয়ে কলোনীতে বসবাসকারী প্রায় অর্ধশত পরিবারসহ জিমখানা বস্তির প্রায় ৫ হাজার মানুষের মাথার ছাদ কেড়ে নিয়েছে আইভী। সরকারী জমির সঙ্গে সেখানে রেলওয়ে থেকে ক্রয়কৃত ব্যক্তিগত জমিও তিনি দখল করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পূর্ণবাসন না করে একদিকে যেমন ছিন্নমূল মানুষকে গৃহহীন করা হয়েছে, পার্কের নামে ঠিকাদার সিন্ডিকেটকে কোটি কোটি টাকা লুটপাটের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে, তেমনি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডাবল ট্রেন লাইন প্রজেক্টকেও হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে। কারণ ডাবল রেললাইন প্রজেক্টের পরিকল্পনায় জিমখানার ওই জায়গাটি সেন্ট্রাল রেল গ্যারেজ হওয়ার কথা রয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।

 

তৈমূর আলম বলেন, উচ্চ আদালতে মামলা, নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা সত্বেও ঐতিহ্যবাহী রহমত উল্লাহ মুসলিম ইনষ্টিটিউট ভবনটি দিবালোকে বিনা নোটিশে ভেঙ্গে দিয়েছেন। শতাধিক ব্যবসায়ী আজ পথে পথে জীবিকার জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অথচ ফুটপাত দখল করে পাঠাগার বিল্ডিং বানিয়েছেন আইভী। যা গণমাধ্যমের সাহসী বন্ধুরা তুলে ধরেছেন দেশবাসীর কাছে। সিদ্ধিরগঞ্জ লেক উন্নয়নের নামে পুরো সিদ্ধিরগঞ্জবাসীর যোগাযোগ ব্যবস্থাকে অন্ধকারের অতল গহবরে নিমজ্জিত করা হয়েছে। দেড়শ কোটি টাকা ব্যয়ে সেখানে লেকের সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করছেন অথচ পুরো লেকটি সড়ক ও জনপদের নিজস্ব জায়গা। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এমআরটি (মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট) প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয় জানিয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরসহ ঢাকা পরিবহণ সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) নাসিক’কে একাধিকবার অনুরোধপত্র দিলেও দখলদারিত্ব বজায় রাখা হয়েছে। ফলে এক্সপ্রেস হাইওয়ে প্রকল্পসহ এমআরটি প্রকল্পের রুট হিসাবে সেখানে সড়ক প্রশস্ত করণের পথটি স্থানীয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। এতে সিদ্ধিরগঞ্জ-আদমজী পুরাতন সড়কটি ভবিষ্যতে আর কোন হাইওয়ে এক্সপ্রেসের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে না যা সিদ্ধিরগঞ্জবাসীকে চিরতরে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত করছে। ভবিষ্যতে যদি এমআরটি প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়ে এই লেকের উপর তৈরী অবকাঠামো উচ্ছেদ করা হয়, তবে জনগণের এই দেড়শ কোটি টাকার গচ্চা কে দিবে? আবার ট্যাক্স বাড়িয়ে জনগন থেকে এই ১৫০কোটি টাকার লোকসান উঠানোর পায়তারা করছেন আপনারা।

 

তৈমূর আলম বলেন, দেশে রাজনীতি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দু’টি ধারায় বিভক্ত হলেও আমি সর্বঅবস্থায় সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে দেখি এবং তাদের নিয়ে মন্তব্য করার বিষয়ে অত্যন্ত সর্তক থাকি। একজন মেয়রকে অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কথা বলতে হয়, না হলে এর প্রভাব নগরবাসীর উপর পড়ে।

 

তৈমূর বলেন, ২০১৩ সালে ২২শে আগস্ট মেয়র আইভী বলেছেন, “দুই নেত্রী দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।” ২০১৩ সালের ২রা মে তিনি বলেছেন, “বর্তমান সরকার নারায়ণগঞ্জে খুনীদের পৃষ্ঠপোষক।” ২০১৩ সালে ১ সেপ্টেম্বর বলেছেন, “রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গডফাদাররা খুন করে বেড়াচ্ছে।” ২০১৪ সালে ১৩ই জুন দৈনিক প্রথম আলোর গোল টেবিল বৈঠকে বলেছেন, আওয়ামী লীগ, বি.এন.পি মনে করে ৬৪ জেলায় ৬৪ জন গডফাদার থাকলেই তাদের কাজ হয়ে যাবে।” ২০১৯ সালে ৬ই মার্চ জিমখানা বিনোদন পার্কে আইভী বলেছেন, “সাগর-রুনির ব্যাপারে আমরা অনেকেই জানি, অনেক কিছু জড়িত। তনু হত্যার বিচার কেন হচ্ছেনা সেটাও কমবেশী মানুষ বুঝতে পারে যে কারা জড়িত।” যদি উক্ত হত্যাকান্ড সম্পর্কে জানা থাকে অবশ্যই তা জনসম্মূখে প্রকাশ করলে জনগণ অবশ্যই আইভীকে ধন্যবাদ জানাবে।

 

তৈমূর আরও বলেন,বেগম খালেদা জিয়ার দয়ায় ২০১১ সালে আপনি (আইভী) মেয়র হয়েছেন। আপনার মতে যে দল গডফাদার, খুনী লালন পালন করে, যে দলের নেত্রী দেশ ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয় সেই দল আপনি করেন কেন? আপনি তো সেই দলের মনোনীত প্রার্থী। সেই দলের মার্কা নিয়েই তো মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন এবং এখনো নির্বাচন করছেন। আমার পরিবার সন্ত্রাসের শিকার। একজন ব্যবসায়ী নেতা হিসাবে সন্ত্রাস প্রতিরোধের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করায় আমার ভাই সাব্বির আলম খন্দকার খুন হয়। কিন্তু অদ্যবদি বিচার পাই নাই। আমার ভাই হত্যাসহ সকল হত্যার আমি বিচার চাই।

 

হাতি প্রতীকের প্রার্থী তৈমূর বলেন, করোনা মহামারীকালে শুধু জনপ্রতিনিধি, বিত্তবান বা রাজনৈতিক নেতারাই নন, প্রতিটি গণমাধ্যম কর্মীরাও নিজ নিজ অবস্থান থেকে জীবনের ঝুকি নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাড়িঁয়েছে। অনেকে নিজ পেশা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছে এবং মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছেন। কিন্তু আজ যিনি মানুষের কল্যাণের কথা বলছেন সেই সরকারদলীয় প্রার্থী ও তৎকালীন সিটি মেয়র আইভী কোথায় ছিলেন? যেখানে করোনায় প্রায় ২ বছরে পুরো দেশ বিপর্যস্থ, সরকারের বহু প্রতিষ্ঠান কর মওকুফ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল, বাড়ীওয়ালারা ভাড়াটিয়ার ভাড়া মওকুফ করে দিয়েছে সেখানে আপনি (আইভী) সারা দেশের সকল সিটি কর্পোরেশনের চেয়ে বেশী ট্যাক্সের বোঝা মানুষের কাধে চাপিয়ে দিয়েছেন।

 

আইভীকে উদ্দেশ্য করে তৈমূর আরও বলেন, আপনি (আইভী) প্রতি বছর শত শত কোটি টাকার বাজেট ঘোষনা করেন অথচ করোনাকালে আপনি একজন চিকিৎসক হয়ে না দাড়িয়েছেন মানুষের পাশে, না সিটি কর্পোরেশনের তহবিল থেকে মানুষের সাহায্য করেছেন। শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আসা ত্রাণ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশনকে দেয়া হয়েছিল, সেগুলোই আপনি বন্টন করেছেন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত একজন গিটারিস্ট হিরুর লাশ প্রায় ১০ ঘন্টা রাস্তায় পড়েছিল, আপনার বাড়ী থেকে মাত্র ৩ মিনিটের দূরত্বে, আপনি জাননি। উল্টো ত্রাণ চেয়ে কেউ ফোন করলে তাদেরকে চরম অপমান অপদস্থ হতে হয়েছে বলে সাধারণ মানুষের অভিযোগ রয়েছে।

 

তৈমূর আলম আইভীর প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, পৌরসভা আমল থেকে সিটি কর্পোরেশনের এই ১৮ বছরে ঠিকাদার সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে। মাত্র ৩/৪ জন ঠিকাদার গত ১০ বছরে কতশত কোটি টাকার টেন্ডারের কাজ পেয়েছেন ও করেছেন সেই সঠিক তথ্য নিতে আমি গণমাধ্যমের কর্মীদের কাছেই অনুরোধ রাখলাম। আমাদের জানা তথ্য অনুযায়ী এই সিন্ডিকেট গত ১০ বছরে আড়াই হাজার কোটি টাকার টেন্ডার পেয়েছে। এই সিন্ডিকেট এতটাই শক্তিশালী যে, খোদ মেয়র থাকা অবস্থায় আইভীর বাড়ীর পাশে দেয়াল চাপায় শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা, বন্দরে শিশু আহত হয়ে চিরপঙ্গুত্ব বরণ করার ঘটনা, বন্দরেই অপর ঘটনায় দেয়াল চাপায় শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও সিটি কর্পোরেশনের তরফ থেকে আজ অবধি কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি কোন ঠিকাদারের বিরুদ্ধেই। উল্টো আইভীর কাউন্সিলররা সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন স্বার্থে জেলে গেলে/বিপদে পড়লে আপনি নুন্যতম সহানুভতি দেখান না, সেই কাউন্সিলরের পরিবারকে শান্তনা দেন না, অথচ ঠিকাদার এরেস্ট হলে আপনি থানায় গিয়ে রাতভর বসে থাকেন কেন, কি স্বার্থে? এরচেয়ে বড় প্রমাণ আর কি হতে পারে আপনি (আইভী) জনগণের মেয়র ছিলেন, না ঠিকাদারের মেয়র- এটাই এখন জনমনে প্রশ্ন।

 

তৈমূর বলেন, পৌরসভা থেকে সিটি কর্পোরেশন, ১৮ বছরে একটা ডাস্টবিন বানাতে পারেনি আইভী। বন্দর, শহর ও সিদ্ধিরগঞ্জের ড্রেনেজ জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে পারেনি, মশার যন্ত্রনায় নগরবাসী নিজেদের ভাগ্যকেই অভিশাপ দিচ্ছে। একটি সিটি কর্পোরেশনের নাগরিকদের প্রধান মৌলিক অধিকার হলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলা। যেখানে ময়লা আবর্জনার ভাগার থাকবে না, জলাবদ্ধতা থাকবে না, মশা-মাছির উপদ্রব থাকবে না। অথচ পৌর আমল থেকে সিটি কর্পোরেশনের ১৮ বছর ক্ষমতাকালে নারায়ণগঞ্জের ময়লা ব্যবস্থাপনা করতে ব্যর্থ হয়েছেন আইভী। দেশের একমাত্র ডাস্টবিনহীন শহর এই নারায়ণগঞ্জ। বন্দর, সিদ্ধিরগঞ্জ ও শহর, এই ৩ এলাকায় ২৭টি ওয়ার্ডে ময়লার ভাগার ছাড়া আর কিছুই নেই। প্রতিটি পাড়া মহল্লায় এখন ময়লার স্তুপ।

 

আইভীকে উদ্দেশ্য করে তৈমূর আরও বলেন, পঞ্চবটিতে বিশাল ডাম্পিং জায়গা থাকতেও সেখানে পার্ক বানিয়ে বাণিজ্য করেছেন। সেখানে ময়লা থেকে সার, প্লাস্টিক থেকে তেল বানানোর যাদু দেখিয়ে জনগণের কোটি কোটি টাকা গচ্চা দিয়েছেন। আবার এখন সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা দিয়ে জালকুড়িতে গার্বেজ ডাম্পিং প্ল্যান্ট বানানোর কথা বলে ধোকা দিচ্ছেন, যা সাধারণ মানুষই বলছে। সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার সেই টেন্ডারের ৩০০ কোটি টাকাই চলে গেছে জমি একোয়ার নামের গোলকধাধায়। এখন শুনছি বিদেশী কোম্পানী আসবে আর সেখানে মূল প্ল্যান্ট স্থাপন করবে যা কত বছরে শেষ হবে সেটা আল্লাহই জানেন।

 

তৈমূর বলেন, আমি মনে করি সেই সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার প্রজেক্ট শুধুই শুভাঙ্করের ফাঁকি। শীতলক্ষ্যা নদীর তীর ঘেষে গড়ে উঠা এই শহরে এখনও ৫ মিনিটের বৃষ্টিতে বন্যা হয়ে যায়। ড্রেনেজ ব্যবস্থার নামে জনগণের কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেছেন, শহরের আর বন্দরের প্রায় অর্ধশত খালগুলোকে ভরাট করে জলাশয় আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে আইভী। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ১০ বছরের সিটি কর্পোরেশনে এখনও ২৭টি ওয়ার্ডে বর্ষা মৌসুমে মানুষ জলাবদ্ধতায় ভোগে। প্রতি বছর বাজেটে মশা মারতে আইভী জনগণের কোটি কোটি টাকা দিয়ে কামান কিনেছে। কিন্তু এরপরও কাউন্সিলরদের নিজেদের টাকায় মশা মারার যন্ত্রপাতি কিনতে হয়। আর আমরা মশা মাছির যন্ত্রনায় নিজেদের ভাগ্যকে অভিসপ্ত করি। নারায়ণগঞ্জ শহর এখন যানজটের নগরী। যানজটের কথা উঠলেই আইভী বলেন সেটা ট্রাফিক পুলিশ বিভাগের কাজ। যানজট নিরসন তার কাজ না। অথচ শত শত কোটি টাকায় ফ্ল্যাট আর দোকান বানিয়ে বানিজ্য না করে কিছু টাকা দিয়ে স্বেচ্ছাসেবী বা কমিউনিটি পুলিশ রাখলে শহরকে যানজট মুক্ত করা যেত।

 

তৈমূর আরও বলেন, মীরজুমলা সড়ক এখনও কাঁচামাল ব্যবসার মোকামে পরিণত হয়ে আছে। ভোর থেকে সকাল অবধি সেখানে যানচলাচল তো দূরে থাক, মানুষ চলাচলই দ্বায়। শোনা যায় আইভীর নিজস্ব লোকজনের তোলাবাজির কারণে সেই মীরজুমলা সড়ক এখনও নগরবাসীর যানজটের কারণ। হাজার হাজার হকারের পেটে লাথি না দিয়ে তাদেরকে পুনর্বাসন করা যেত। আমি মনে করি সিটি কর্পোরেশনকে আইভী সেবামূলক প্রতিষ্ঠান থেকে বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিনত করেছে।

 

তৈমূর বলেন, সরকারদলী নেতাদের বিভেদ-বিভাজনই নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়। শামীম ওসমান সরকারদলীয় এমপি আর সেলিম ওসমান সরকারীদলের জোটবদ্ধ জাতীয় পার্টির এমপি। আমি তৈমুর আলম খন্দকার প্রথম দিন থেকেই বলছি শামীম ওসমানের পায়ে তৈমুর আলম খন্দকার হাটে না। গত ৫০ বছর ধরে মাটি ও মানুষের সঙ্গে রাজনীতি করতে করতে তৈমুর আলম খন্দকারের ভিত্তি এতটাই শক্ত অবস্থান হয়েছে যে, কোন শামীম ওসমান বা সেলিম ওসমানের হয়ে আমাকে নির্বাচনে অভিনয়ে নামতে হবে না, ইনশাআল্লাহ।

 

নগরবাসীর উদ্দেশ্যে তৈমূর বলেন, যে স্বপ্ন লালন করেছি এতকাল, একটি সুন্দর পরিচ্ছন্ন সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন নগর উপহারের, সেই স্বপ্ন বাস্তবে রুপ দিতে চাই। আমি নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষের মতামতের ভিত্তিতে সুষম উন্নয়ন করতে চাই। আপনাদের সহযোগীতা চাই, হাতি মার্কায় ভোট চাই। এবারের নির্বাচন হচ্ছে ভূক্তভোগী জনগন বনাম নাসিকের বিরুদ্ধে ১৮ বছরে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। আর দোয়া চাই যেন জনগণের সেবা করে পরম করুনাময় আল্লাহ্পাকের সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2021 rudrabarta24.net
Theme Developed BY ThemesBazar.Com