রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:১৭ অপরাহ্ন

ফতুল্লা ইউপিতে সিলেকশন নয় নির্বাচন চায় তৃনমূল নেতাকর্মী ও ভোটাররা

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২১, ৪.০০ এএম
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ ৩০ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেতে ৮ প্রার্থীর দৌড়ঝাঁপ থাকলেও শেষ পর্যন্ত একক প্রার্থী হিসেবে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপনের নাম কেন্দ্রে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

যদিও ইউপি নির্বাচনে তৃণমূলের সমর্থন থাকা অন্তত তিনজনের নাম কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশনা রয়েছে আওয়ামী লীগের।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই।

বুধবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় তিনি বলেন, থানা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একজনের নামই এসেছে। এই একজনের নামই কেন্দ্রে পাঠানো হবে।

সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল বলেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী ছিল। নেতা ও তৃণমূলের কর্মীদের সম্মতি ক্রমে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নৌকার স্বার্থে প্রার্থী হিসেবে খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপনের নাম পাঠানো হচ্ছে।

এদিকে এ ঘোষণার পর থেকে ফতুল্লায় দলের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও তৃনমূল নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। ৩০ বছর পর তারা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করার স্বপ্ন দেখলেও সে আশা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। যেহেতু বিএনপি এ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করছেনা সেহেতু একক প্রার্থীর নাম কেন্দ্রে পাঠানোয় নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ভোট না হওয়ার শঙ্কাও করছেন তৃনমূল ও ইউনিয়নবাসী।
তাদের অভিমত, ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির দায়বদ্ধতা থাকে জনগণের প্রতি। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নয়, ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি চান তারা। শীর্ষ নেতারা তাদের মতামতের কথা উল্লেখ করলেও মূলত তাদের ইচ্ছে চাওয়া পাওয়াকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।

এ নিয়ে স্থানীয় ও তরুণ ভোটাররা বলেন, সব ইউনিয়নে ভোট হলেও আমাদের এখানে ভোট হয় না। আমাদের কাছে নির্বাচনের আমেজ মানে ছিল জাতীয় নির্বাচন। তাই সবার কাছে আমাদের মত ও তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা থাকবে সুষ্ঠু, সুন্দর ও একটি প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক নির্বাচনের। আমরা ভোট প্রদানের মাধ্যমে ৩০ বছরের পুরোনো ইতিহাসকে মুছে ফেলতে চাই।
অপরদিকে বয়োবৃদ্ধরা বলছেন, বয়স হইছে, বেশিদিন নাও বাঁচতে পারি। আমাদের এই ভোটটাই হয়ত শেষ ভোট। তাই জীবনের শেষ ভোটটা দিয়া সবার পছন্দের চেয়ারম্যান বানাইতে চাই। সিলেকশনে যাতে কেউ পাশ না করে এটাই আমাদের একমাত্র চাওয়া।

জানাগেছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীতা নিয়ে চলছিলো নানা হিসেব নিকেশ। এ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন প্রত্যাশি চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলো ৮ জন। তারা হলেন- এই ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান স্বপন, ফতুল্লা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মিছির আলী।

 

জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেল, থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাইজুল ইসলাম, ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক ফরিদ আহম্মেদ লিটন, ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু মোহাম্মদ শরীফুল হক, থানা আওয়ামীলীগের সদস্য মজিবুর রহমান ও যুবলীগ নেতা জানে আলম বিপ্লব।

এনিয়ে ফতুল্লা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও সর্বশেষ গত মঙ্গলবার থানা আওয়ামীলীগ প্রার্থী বাছাই নিয়ে বর্ধিত সভা করেছে। সভায় সিদ্ধান্ত হয় ৮ জনের নাম নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের হাতে জমা দেয়া হবে।
সেখান থেকে শামীম ওসমান একজনের নাম চূড়ান্ত করে তা জেলা আওয়ামীলীগের কাছে জমা দিবেন। জেলা আওয়ামীলীগ সেই একজনের নাম কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের বরাবর প্রস্তাব করে দাখিল করবেন।

এদিকে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগ প্রার্থী বাছাই নিয়ে বর্ধিত সভায় দলীয় প্রার্থী হিসাবে প্রত্যাশিত ৮জন উপস্থিত হয়ে নিজের প্রার্থী দাবি করে বক্তব্য দেন। সকল প্রার্থী দাবি নিয়ে বক্তব্য দিলেও তারা আবার দলীয়ভাবে যাকে মনোনয়ন নিবেন তার পক্ষে কাজ করার অঙ্গিকারও করেন। তবে শুধু পদ পদবী না দেখে যোগ্য ব্যক্তিকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার আহবান করেন তৃনমূলের নেতাকর্মীরা।

সভায় থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এম শওকত আলী বলেন, আমাদের নেতা একেএম শামীম ওসমান বলেছেন সবাই তো আমার লোকজন। কাকে রেখে কাকে বাদ দিবো। কিন্তু একজনকে তো দিতে হবে। আপনারা চূড়ান্ত করে আমাকে জানান।

তিনি আরো বলেন, যেহেতু সভায় ৮ জনেই নিজের প্রার্থী দাবি করেন। তাই আমরা ৮ জনের নাম শামীম ওসমানের কাছে জমা দিব। তিনি একজনের নাম চূড়ান্ত করবেন। সেই একজনের নাম জেলা আওয়ামীলীগের মাধ্যমে কেন্দ্রে পাঠানো হবে।

তৃণমূল নেতাকর্মীর সাথে জরুরী সভার একদিন পর বুধবার থানা ও জেলা আওয়ামী লীগ থেকে এই প্রার্থীর নাম একক ভাবেই কেন্দ্রে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৫ নভেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিল, ২৯ নম্বর মনোনয়পত্র যাচাই-বাছাই, ৩-৫ ডিসেম্বর আপিল নিষ্পত্তি, প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৬ ডিসেম্বর এবং প্রতীক বরাদ্দ করা হবে ৭ ডিসেম্বর, ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৩ ডিসেম্বর ।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2021 rudrabarta24.net
Theme Developed BY ThemesBazar.Com