রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ০৫:২০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
হুথিদের হামলায় লোহিত সাগরে ডুবে গেল সেই জাহাজ রাতের লাইভের নেপথ্যের কারণ জানালেন তাহসান-ফারিণ যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় সশস্ত্র বাহিনীকে সক্ষম করে তোলা হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী মেলায় ৬০ কোটির বেশি টাকার বই বিক্রি ফতুল্লায় হুশিয়ারি এন্ড গার্মেন্ট এর তালা ভেঙ্গে ৫লক্ষাধিক টাকার মালামাল চুরি মাদক-চাঁদাবাজ-ইভটিজিং ও ভুমিদস্যু মুক্ত সমাজ তৈরি করবে প্রত্যাশা : শাহ নিজাম সিদ্ধিরগঞ্জে ৭৯৪ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার ১ পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশনের সভাপতি মনিরুল, সা. সম্পাদক রাসেল বেইলি রোডে অগ্নিকান্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬, দগ্ধরাও সংকটাপন্ন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাত প্রতিমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ

ইবোলায় ৫৫ মৃত্যুর পর কোয়ারেন্টাইনে উগান্ডার ২ জেলা

  • আপডেট সময় সোমবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২২, ৪.১৬ এএম
  • ১৮০ বার পড়া হয়েছে

প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত অসুখ ইবোলায় গত পূর্ব আফ্রিকার দেশ উগান্ডায় মারা গেছেন ৫৫ জন। ইবোলোর সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে তাই এ রোগের ‘এপিসেন্টার’ বলে পরিচিত দেই জেলা মুবেন্ডে এবং কাসান্ডায় ফের ২১ দিনের কোয়ারেন্টাইন জারি করেছে দেশটির সরকার।

শনিবার উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইয়োয়েরি মুসেভেনি স্বাক্ষরিত এক সরকারি নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

করোনার মতো ইবোলাও প্রাণঘাতী একটি রোগ; এবং কোভিডের মতোই বাদুড়, বানর কিংবা শূকরের মাধ্যমে এই রোগটি মানবদেহে সংক্রমিত হয়। তবে এটি শ্বাসতন্ত্রের কোনো রোগ নয়, নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমেও এই রোগটি ছড়ায় না।

ইবোলার পুরো নাম ইবোলা হেমোরাজিক ফেভার বা ইএইচভি। যে ভাইরাসটি এই রোগের জন্য দায়ী, তার নাম ইবোলাভাইরাস। এই রোগটি ছড়ায় মূলত আক্রান্ত প্রাণী ও মানুষের দেহ থেকে নিঃসৃত তরলজাতীয় পদার্থ, অর্থাৎ–রক্ত, লালা, বীর্য, ঘাম, মুত্র প্রভৃতির সংস্পর্ষে এলে। এছাড়া এই ভাইরাসে আক্রান্ত প্রাণীর মাংস কাঁচা বা অর্ধসেদ্ধ অবস্থায় খেলেও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

মানুষ এবং বানরজাতীয় প্রাণী ও শুকর সাধারণত এই রোগে আক্রান্ত হয়। ইবোলায় আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুহার অনেক বেশি— ৮৩ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত।

ফলাহারি বাদুড় এই রোগের প্রধান বাহক। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় জানা গেছে, বাদুড় এই রোগে আক্রান্ত হয় না, তবে মূলত বাদুড়ের মাধ্যমেই ছড়ায় এই ভাইরাসটি। আফ্রিকার যেসব অঞ্চলে বাদুড়ের মাংস খাওয়ার প্রচলন আছে, সেসব দেশে এই রোগটি ছড়ানোর হার অনেক বেশি। মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার বাইরে অন্য কোনো দেশে এই রোগটির প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়া যায়নি।

ইবোলায় আক্রান্ত হলে প্রথম অবস্থায় রোগীর দেহে জ্বর, গলা ব্যাথা, পেশিতে ব্যাথা, মাথা ধরা প্রভৃতি উপসর্গ দেখা দেয়। তারপর এক পর্যায়ে ঘণ ঘণ পাতলা পায়খানা ও বমি শুরু হয় রোগীর, আর এসবের সঙ্গে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে থাকে রক্ত। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই এক সময় মৃত্যু হয় রোগীর।

২০১৩ সালে মধ্য আফ্রিকার দেশ ডিআর কঙ্গোতে প্রথম ইবোলার প্রাদুর্ভাব হয়েছিল, ২০১৫ সাল পর্যন্ত ছিল সেই মহামারি। দেশটির সরকারি হিসেব অনুযায়ী, দুই বছরের সেই মহামারিতে ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছিলেন ২৮ হাজার ৬১৬ জন এবং তাদের মধ্যে ১১ হাজার ৩১০ জন মারা গিয়েছিলেন।

উগান্ডায় ইবোলার সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাব ঘটেছে গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে। তারপর থেকে গত দু’মাসে দেশটিতে ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৪১ জন এবং তাদের মধ্যে ৫৫ জন ইতোমধ্যেই মারা গেছেন। আক্রান্ত ও মৃতদের সবাই মুবেন্ডে এবং কাসান্ডা জেলা দু’টির বাসিন্দা।

শনিবারের নোটিশে বলা হয়েছে—সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে যদিও ইবোলার বিস্তার অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে, তবে পরিস্থিতি এখনও সংকটজনক।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2021 rudrabarta24.net
Theme Developed BY ThemesBazar.Com