বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০:১৭ পূর্বাহ্ন

আইভীর মামলায় খোকন সাহার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট, জেলা জুড়ে বইছে ক্ষোভ

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২২ এপ্রিল, ২০২২, ১০.১৫ পিএম
  • ১৭০ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর দায়ের করা আইসিটি মামলায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া নিয়ে জেলা জুড়ে বইছে তীব্র সমালোচনার ঝর।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজ দলের একজনের করা মামলায় আরেক জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়াটা ভালো দেখায় না। নেতায় নেতায় মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এটির সমাধান করে নিলে বারো হয়। এতে দলের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি হওয়ার আশংকা বেড়ে যায়। সামনে জাতীয় নির্বাচনন এমন সময় দলের মধ্যে বিভক্তি দলের জন্য ভালো নয়।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা খোকন সাহার বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাক্ষান করতে মেয়র আইভীকে বলবেন বলে জানান। তবে পরে আর এই মামলা প্রত্যাক্ষ্যন করেননি মেয়র আইভী।

এদিকে, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় ক্ষুব্দ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লগের নেতৃবৃন্দরা। তাদের দাবি অনতি বিলম্বে এই মামলা প্রত্যাক্ষ্যন না করলে দলের ভাবমুর্তি আরো বেশি ক্ষুন্ন হবে। পাশাপাশি এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দদেরও জানানো হবে বলে জানিয়েছেন একাধীক নেতৃবৃন্দ।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল (ভিপি বাদল) বলেন, আমি ওয়ারেন্ট ইস্যু হওয়ার কথা শুনে খুবই হতবাক হয়েছি। খোকন সাহা মহানগর আওয়ামী লীগের ২৫ বছর যাবত সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করছে। তার বিরুদ্ধে যে ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়েছে এটা আমরা কোন ভাবেই মানতে পারছিনা। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিই।

তিনি আরও বলেন, সিটি নির্বাচনের পূর্বে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা এই সব মামলা প্রত্যাহার করার নির্দেশ দিয়েছিলে। সেই নির্দেশ পালন করেনাই বরং ওয়ারেন্ট বের হয়েছে। এটা একেবারেই উচিত হয়নি। আমরা এ বিষয়ে কেন্দ্রে জানাবো। বাকি সিদ্ধান্ত তারা নিবেন।

এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম সাইফউল্লাহ বাদল বলেন, আমাদের দলের একজন নেতার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু হওয়াতো কোন ছোট বিষয় না। এতে আমাদের দলের ভাবমুর্তি নষ্ট হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা বলেছিলেন তারা এটি সমাধান করে দিবেন কিন্তু এখনো তা করা হয়নি। প্রয়োজনে আমরা কেন্দ্রে যাবো এবং এটির সমাধান করার জন্য একশবার আবেদন করবো।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিএম আরমান বলেন, ওয়ারেন্ট ইস্যু হওয়ার বিষয়টি শুনে আমি খুবই বিস্মিত হয়েছি। কেননা তারা একসাথে বসে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধান করতে পারতো। তবে তা না করে ওয়ারেন্ট ইস্যু হওয়া খুবই দুঃখজনক। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের আগে যখন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা নারায়ণগঞ্জে এসেছিলো তখন এক মিটিং এ এই মামলার কথা বলা হয়েছিলো। তখন তারা বলেছিলেন যে নির্বাচন শেষে এই মামলা গুলো তুলে নিতে মেয়র আইভীকে বলবেন। এখন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ যারা নারায়ণগঞ্জে এসেছিলেন তারা যদি তাদের দুইজনকে নিয়ে বসেন এবং আলোচনা করেন তাহলে হয়তো তাদের সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে বলে আমি মনে করি। এই বিষয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী বলেন, আমরা মনে হয় দল হিসেবে আমরা অনেক পিছিয়ে যাচ্ছি। নাহলে কেন আমার দলের এক নেত্রীর দায়ের করা মামলায় আমার দলের এক নেতা যিনি ২৫ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু হবে। এতে আমাদের দলের ভাবমুর্তি নষ্ট ছাড়া আর কিছু হচ্ছে না।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগ নেতা ও সরকারী তোলারাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ বলেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা একজন সংগ্রামী নেতা। ছাত্র জীবন থেকে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছে। তিনি একজন নিবেদিত প্রাণ আমাদের জন্য। এমন একজন কর্মীবান্ধব নেতার বিরুদ্ধে, আওয়ামী লীগের একজন জনপ্রতিনিধি এভাবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করাবে এটা বোধগম্য নয়। আমি ছাত্রদের পক্ষ থেকে এই ঘটনা নিন্দা জানাই। এটা খুবই লজ্জাজনক বিষয়।

উল্লেখ্য, অ্যাডভোকেট খোকন সাহা নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ২৬ বছর যাবৎ সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। বিএনপি-জামাতের একাধিক মামলায় আসামী ছিলেন। এছাড়াও চাষাঢ়ায় আওয়ামী লীগের অফিসে বোমা হামলার মামলার বাদী ছিলেন।

জিউস পুকুর দেবোত্তর সম্পত্তি। বাংলাদেশের কোন আইনে দেবোত্তর সম্পত্তি ক্রয় বিক্রিয়ের নিয়ম না থাকলেও মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর পরিবারের সদস্যরা নিজেদের নামে পুকুরটি লিখিয়ে নিয়েছেন বলে জানান এড. মাহমুদা মালা। তাঁর ভাষ্য, ‘সেই পুকুর দখল মুক্ত করতে সামাজিক-ব্যবসায়িক-আইনজীবীসহ ২২টি সংগঠনের সাথে আন্দোলন করতে গিয়ে মামলার আসামী হন এড. খোকন সাহা’। (সূত্র: লাইফ নারায়ণগঞ্জ)

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2021 rudrabarta24.net
Theme Developed BY ThemesBazar.Com

sakarya bayan escort escort adapazarı Eskişehir escort