
স্টাফ রিপোর্টারঃ- সোনারগাঁয়ে মিথ্যে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দোলনা আক্তার নামে এক তরুনীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মো. শামিম (৩০) নামে এক বখাটে যুবকের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী (দোলনা আক্তার) সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
জানা গেছে, অভিযুক্ত শামিম উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বিষনাদী দক্ষিণপাড়া গ্রামের আমান মিয়ার ছেলে। অন্যদিকে, অভিযোগকারী তরুণী দোলনা আক্তারও একই ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী লক্ষিবরদী কান্দাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
থানায় লিখিত অভিযোগে ওই তরুণী দাবি করেন, তিনি দীর্ঘ ১০ বছর সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে দেশে ফিরে আসার পর স্থানীয় এলাকার আমান মিয়ার ছেলে শামিমের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় এবং প্রায় ৪/৫ মাস যাবত মোবাইলে কথাবার্তা হয় ও তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। একপর্যায়ে অভিযুক্ত শামিম তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। সে একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীতে সুপারভাইজারের চাকরি করে বলে জানা গেছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৩রা জুলাই শুক্রবার রাত ১০টায় শামিম তার কর্মস্থল থেকে ফিরে ওই তরুণীর নিজ বসতবাড়িতে প্রবেশ করে বিয়ের শপথ করে ও তাঁকে জোরপূ্র্বক ধর্ষণ করে।
ভুক্তভোগী তরুণী আরও জানান, আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে গত ২৯শে আগষ্ট শনিবার রাত ১১টায় পূণরায় অভিযুক্ত শামিম তার বসতবাড়িতে প্রবেশ করে তাকে পূণরায় মিথ্যে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে কয়েকবার মেলামেশা করে। এসময় বিষয়টি স্থানীয় এলাকাবাসীর নজরে এলে ও সন্দেহ হলে তারা ওই তরুণীর বাড়িতে গিয়ে দরজা ধাক্কা দিয়ে খুলতে বলে। দরজা খোলার পর এলাকাবাসী তাদের দু’জনকে একসাথে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। খবর পেয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও অভিযুক্ত শামিমের পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের দু’জনকে ১৫ দিনের মধ্যে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শামিমকে নিয়ে চলে যায়। পরদিন সকালে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তুমুল হট্টগোল বাঁধে এবং আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এদিকে ওই তরুনীর অভিযোগ, তিনি অভিযুক্ত শামিমকে মোবাইলের মাধ্যমে বেশ কয়েকবার বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। কিন্তু শামিম তাঁকে বিয়ে করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এরইমধ্যে তাদের উভয়ের পরিবারের লোকজন ঘটনাটি মিমাংসার জন্য প্রস্তুতি নেন। কিন্তু তারা মিমাংসা করতে না পেরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে হাত করে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ধামাচাপা দেয়ার পায়তারা করেন বলেও জানা গেছে। এদিকে অভিযুক্ত শামিম তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগকারীর দাবি। দীর্ঘ অপেক্ষার পরে ওই তরুণী কোনো উপায়ান্তর না পেয়ে সোনারগাঁ থানায় শামিমের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
সরেজমিনে খোঁজ নিলে, উপজেলার বিষনাদী গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি কিছু না বলতে চাইলেও পরে তাকে অনুরোধ করলে তিনি জানান, দোলনা আক্তার ও তার ছোট দুই ভাই-বোনকে রেখে তাদের মা মারা যান কয়েক বছর আগে। তাদের বাবাও তাদেরকে ছেড়ে চলে গেছেন বলে শুনেছি। তবে দোলনার ছোট বোন জনি আক্তার স্থানীয়ভাবে বিয়ে করে সংসার জীবন বেছে নিয়েছে। ছোট ভাইটিও শুনেছি কোথায় যেন কাজ করে। তাদের নানীর বাড়ির সাথে তাদের সম্পর্ক তেমন ভালো নেই বলেও শুনেছি। তবে দোলনার এ ঘটনা নিয়ে তাদের মামারা নিজেদের স্বার্থের জন্য ঘটনাটির সুরাহা করতে এগিয়ে এসেছেন সম্ভবত। তার বড় মামা মনোয়ার হোসেন একেবারে ধোঁয়া তুলশী পাতার মতো, সে যেন কিছুই বুঝে না, এমন ভাব করে চলে। আমি এর বেশি কিছু বলতে পারব না ভাই। আপনি এলাকায় বা গ্রামে আরও মানুষ আছে, তাদের কাছে খবর নিয়ে দেখতে পারেন বলে তিনি চলে যান। এছাড়াও ভুক্তভোগী দোলনা তুহিন নামে এক সাংবাদিকের সম্পর্কে ভাগনী হয়। সাংবাদিক তুহিনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এ বিষয়টি নারায়ণগঞ্জ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে শুনেছি।
অপরদিকে অভিযুক্ত শামিম ও তার পরিবারের লোকজনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তা সম্ভব হয়নি ও কারও বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের তদন্তকারী দারোগা (এসআই) আব্দুল কাদির জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগ পেয়ে আসামীকে গ্রেফতার করে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। আসামীকে গ্রেফতার করে জেলা আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’