রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
ছন্নছাড়া ব্যাটিংয়ে নিউজিল্যান্ডের কাছে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ ইরানের সঙ্গে খুব বেশি ‘গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য’ নেই: ট্রাম্প আগামীতে হজের খরচ আরও কমানোর আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর ডিজেলের অভাবে বন্দর ঘাটে ট্রলার বন্ধের আশঙ্কা ইজারাদারের শীতলক্ষ্যাকে বদলাতে না পারলে পরিবর্তন সম্ভব নয়: সাখাওয়াত স্ত্রীকে নিয়ে ঈদে গ্রামে যাবার কথা রানার, বাড়ি ফিরলো লাশ অন্যায়কারী আমার দলের হলেও প্রশ্রয় দেবেন না: এমপি আল আমিন নারায়ণগঞ্জ শহরজুড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে যত্রতত্র ইন্টারনেট ও ডিস সংযোগের তারের জট জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি দুলাল চন্দ্র দেবনাথের প্রতিবাদলিপি আ. লীগ সরকারের রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে: আইনমন্ত্রী

নির্বাচনে ফলাফল নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে জেন-জি ভোট

  • আপডেট সময় সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১২.৪২ পিএম
  • ৪০ বার পড়া হয়েছে

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে বাংলাদেশে নির্বাচনের সময় বিরোধী দলগুলোর রাজপথে উপস্থিতি ছিল সীমিত। কখনো তারা নির্বাচন বর্জন করেছে, কখনো শীর্ষ নেতাদের গণগ্রেফতারে কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে পরিস্থিতি পুরোপুরি উল্টো।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বড় প্রভাবক হতে যাচ্ছে জেনারেশন জেডের ভোট। বিশ্বে এটিই প্রথম দেশ হতে যাচ্ছে যেখানে সংসদে কারা যাবেন, তা নির্ধারণ করতে পারেন জেনজি ভোটাররা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ এখন নিষিদ্ধ। ২০২৪ সালের এক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে হাসিনা সরকার উৎখাতে ভূমিকা রাখা অনেক তরুণ বলছেন, এই নির্বাচনই হবে ২০০৯ সালের পর প্রথম সত্যিকারের প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এই নির্বাচনে জয়ের সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন একটি জোটও শক্ত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছে। ৩০ বছরের কম বয়সী জেন-জি কর্মীদের দ্বারা পরিচালিত একটি নতুন দল (এনসিপি), যারা শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিল, তারা রাজনীতিতে শক্ত ভোটব্যাংক গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়ে জামায়াতের সঙ্গে জোট বেঁধেছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রয়টার্সকে বলেছেন, সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তার দল সরকার গঠনের জন্য ‘যথেষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা’ পাবে বলে আত্মবিশ্বাসী।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে বিভক্ত ফলাফলের বদলে একটি স্পষ্ট রায় আসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনার পতনের পর কয়েক মাসের অস্থিরতায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের এই দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশটির এই খাতসহ বড় বড় শিল্প মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

এই নির্বাচনের রায় দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি চীন ও ভারতের ভবিষ্যৎ ভূমিকাকেও প্রভাবিত করবে।

ঢাকার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসি বলেন, জনমত জরিপগুলোতে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও মনে রাখতে হবে, এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার সিদ্ধান্তহীন। ফলাফল নির্ধারণে অনেক বিষয় কাজ করবে, বিশেষ করে জেনারেশন জেড—যারা মোট ভোটারের প্রায় এক-চতুর্থাংশ—তাদের ভোট বড় ভূমিকা রাখবে।’

সারাদেশে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ ও জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকসংবলিত সাদা-কালো পোস্টার ও ব্যানার বিদ্যুতের খুঁটি, গাছ এবং দেয়ালে ঝুলছে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে দলীয় অস্থায়ী কার্যালয়গুলো তাদের প্রতীক দিয়ে সাজানো, আর সেখানে জোরে জোরে বাজছে নির্বাচনি গান। অনেক স্বতন্ত্র প্রার্থীর পোস্টারও এর সঙ্গে দেখা যাচ্ছে।

এটি আগের নির্বাচনের সঙ্গে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র, যখন আওয়ামী লীগের ‘নৌকা’ প্রতীকই সর্বত্র আধিপত্য বিস্তার করত। একসময় নিষিদ্ধ থাকা জামায়াতে ইসলামীর এবারের নির্বাচন তাদের ইতিহাসে সেরা ফল হতে পারে বলে জনমত জরিপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও দলটি সরকার গঠন নাও করতে পারে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল জামায়াত—যে স্বাধীনতা যুদ্ধ ছিল ভারতের সমর্থনপুষ্ট।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনের রায় বাংলাদেশে চীন ও ভারতের ভবিষ্যৎ প্রভাবও নির্ধারণ করবে। শেখ হাসিনাকে ভারতঘেঁষা নেতা হিসেবে দেখা হতো এবং ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি ভারতে আশ্রয় নেওয়ায়। তার পর থেকে বাংলাদেশে বেইজিংয়ের প্রভাব বেড়েছে।

নয়াদিল্লির প্রভাব যেখানে কমছে, সেখানে বিএনপিকে অনেক বিশ্লেষক জামায়াতের তুলনায় ভারতের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করেন।

অন্যদিকে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় এলে তারা পাকিস্তানের দিকে বেশি ঝুঁকতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। পাকিস্তান একটি মুসলিম-অধ্যুষিত দেশ এবং ভারতের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী। জামায়াতের জেন-জি মিত্র দলটি বলেছে, ‘বাংলাদেশে নয়াদিল্লির আধিপত্য’ তাদের প্রধান উদ্বেগগুলোর একটি। দলটির নেতারা সম্প্রতি চীনা কূটনীতিকদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন।

ঢাকাভিত্তিক গবেষণা সংস্থা কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজের এক জরিপে দেখা গেছে, ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটারের কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ দুর্নীতি। এর পরেই রয়েছে মূল্যস্ফীতি।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, জামায়াতের প্রতি ভোটারদের আগ্রহের বড় কারণ তাদের ‘পরিচ্ছন্ন’ ভাবমূর্তি। ইসলামী আদর্শের চেয়ে এই ভাবমূর্তিই বেশি প্রভাব ফেলছে।

জরিপে বলা হয়েছে, ভোটাররা বিপুলভাবে ভোট দিতে আগ্রহী। তারা ধর্মীয় বা প্রতীকী বিষয় নয়, বরং দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক সমস্যাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তারা এমন নেতৃত্ব চান, যারা দায়িত্বশীল, দক্ষ এবং জনগণের প্রতি যত্নশীল।

তবু সব মিলিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানকেই পরবর্তী সরকারপ্রধান হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা ব্যক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে যদি জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে যায়, তাহলে তাদের আমির শফিকুর রহমানও দেশের শীর্ষ দায়িত্বে আসতে পারেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2021 rudrabarta24.net
Theme Developed BY ThemesBazar.Com

sakarya bayan escort escort adapazarı Eskişehir escort