
এম এইচ তালুকদার : বুধবার( ৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আনুমানিক বারোটায় ফরিদপুর জেলার ভাংগা থানার কাউলীবেড়া ইউনিয়নের মাইঝাল গ্রামে মসজিদের ইমাম পরিচয়ে গোপনে খ্রিস্টান ধর্ম প্রচারের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করে স্থানীয়রা, পরে তাদের ভাঙ্গা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন-পশ্চিম মাইঝাইল জামে মসজিদের দায়িত্বরত ইমাম গোপালগঞ্জ জেলার মানিকহাড় গ্রামের মুফতি হাবিবুল্লাহ বাহার (৪৫) এবং বাকপুরা জামে মসজিদের ইমাম বাগেরহাট জেলার চিতলমারী থানার দুবাতুলা গ্রামের মাওলানা মুফতি সারওয়ার হোসেন (৪৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের প্রকৃত ধর্মীয় পরিচয় গোপন রেখে সংশ্লিষ্ট দুটি মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। একই সঙ্গে গোপনে মুসলমানদের খ্রিষ্টান ধর্মে ধর্মান্তর করার দাওয়াতি কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে খ্রিষ্টান ধর্মসংক্রান্ত কিছু বই উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষী পশ্চিম বাকপুরা বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম মুফতি শফিকুল ইসলাম জানান, কিছুদিন আগে মাইঝাইল পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের ইমাম হাবিবুল্লাহ বাহার তাকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণের আহ্বান জানান। এতে সন্দেহ হলে তিনি কৌশলে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন। আজ তাকে মুসলিম ধর্ম থেকে খ্রিষ্টান ধর্মে ধর্মান্তর করার পরিকল্পনা ছিল বলে জানান তিনি। পরে বিষয়টি এলাকাবাসীকে জানালে গ্রামবাসীরা অভিযুক্ত দুইজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
পশ্চিম মাইঝাইল জামে মসজিদের সহ-সভাপতি আইয়ুব আলী বলেন, “৭-৮ মাস আগে আমাদের মসজিদের ইমাম চলে গেলে পাশের বাকপুরা মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী হাবিবুল্লাহ বাহারকে ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেই। তার স্ত্রী না থাকায় ও সঙ্গে দুই সন্তান থাকায় আমরা তাকে মসজিদের পাশে থাকার কক্ষ দেই। তিনি এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত-তা কখনো কল্পনাও করিনি।”
এ ঘটনায় দীর্ঘদিন তার পেছনে নামাজ আদায় করা মুসল্লীরা হতবাক ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল আলিম বলেন, “মসজিদের ইমাম পরিচয়ে ভেতরে ভেতরে অন্য ধর্মের প্রচারের অভিযোগে স্থানীয়রা দুইজনকে আটক করে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ তাদের হেফাজতে নিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”