সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:১০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
একজন রেমিটেন্স যোদ্ধা প্রতারণার শিকার বন্দর মুছাপুর চর ইসলামপুর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অসহায় পরিবারের উপর হামলা-থানায় অভিযোগ জনস্বার্থে মেঘনা নদী খননের এলাকাবাসীর বিআইডব্লিউটিএ এর কাছে আবেদন সোনারগাঁয়ে সাবেক চেয়ারম্যানের পুত্র ও তার সহযোগীকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার রূপগঞ্জে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৪ কর্মী গ্রেফতার নারীর উন্নয়নে বস্ত্রখাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে: মন্ত্রী গাজী ফতুল্লায় গার্মেন্টস কর্মীকে ধর্ষণ, যুবক গ্রেফতার না.গঞ্জ সদরে বিএনপি-ছাত্রদলের ৩ নেতাকর্মী গ্রেফতার নির্দেশ পেলে আবারও নির্বাচন করবো: সেলিম ওসমান সোনারগাঁয়ে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সভায় এম‌পি খোকা

নির্বাচনে এবার হত্যা চেষ্টাকারীদের পাশে চান আইভী!

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২১, ৪.৫১ এএম
  • ১৯২ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জে হকার ইস্যুতে সংঘর্ষের ২২ মাস ১৮ দিন পর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের শীর্ষ নেতাদের নামে মামলা করেছিলো সেলিনা হায়াৎ আইভীর হয়ে সিটি কর্পোরেশনের (এনসিসি) এক কর্মকর্তা। ওই মামলায় বলা হয়, সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারী যে হামলা হয়েছিলো- ঐ হামলায় এইসব নেতারা নেতৃত্ব দিয়েছে। মামলায় জনপ্রিয় এমপি শামীম ওসমানকে হামলার ইন্ধনদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মূলত এই মামলার নেপথ্যে ছিলেন তৎকালীন মেয়র (সদ্য সাবেক) সেলিনা হায়াৎ আইভী। নিজ দলের প্রতিপক্ষদের ঘায়েল করতেই ঘটনার দীর্ঘ সময় পর মামলাটি দায়ের করা হয় বলে অভিযোগ করেছিলেন জেলা ও মহাগরের নেতারা। এবার সেই হত্যা চেষ্টা মামলার আসামীদেরই সিটি নির্বাচনে পাশে চাচ্ছেন মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী!

২০ ডিসেম্বর ঢাকায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমের সঞ্চালনায় দলীয় মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীসহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবে সভায় যাননি মামলার সেই ইন্ধনদাতা হিসেবে যার নাম দেয়া হয়েছিলো ‘আলোচিত সংসদ সদস্য শামীম ওসমান’। সভা শেষে ঢাকার সাংবাদিকরা স্বভাবতই মেয়র প্রার্থী আইভীকে প্রশ্ন করেন, শামীম ওসমান তো সভায় আসলোনা। এবিষয়ে আপনার বক্তব্য কি? তখন আইভী সাংবাদিকদের বলেন, শামীম ওসমান আমাদের দলের নেতা। তিনি কখনোই নৌকার বিপক্ষে যেতে পারেন না। তিনি নৌকার জন্যই কাজ করবেন। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ অংগসংগঠন সবাই নৌকার পক্ষে কাজ করবেন। সবাই আমার পক্ষে আছেন।

তৎকালীন মেয়র আইভীকে হত্যাচেষ্টার মামলার আসামী করা হয়- নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, যুবলীগ নেতা নিয়াজুল, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, যুবলীগ নেতা জানে আলম, আওয়ামী লীগ নেতা নাছির উদ্দিন ও চঞ্চল মাহমুদ সহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে। এবং অজ্ঞাত প্রায় ৯০০ থেকে ১০০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। মামলায় শামীম ওসমানকে ইন্ধনদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এনসিসি নির্বাচন বিষয়ে আইভী হত্যাচেষ্টার ইন্ধনদাতা হিসেবে উল্লেখ করা এমপি শামীম ওসমানসহ উল্লেখিত ৯ আসামী কারো কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নারায়ণগঞ্জের সর্বত্র সিটি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। বিশেষকরে তৈমূর আলম খন্দকার স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে আসায় একটি তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের আভাস মিলেছে। এরআগে যেটা কেউ ধারনাও করতে পারেনি। তবে, বর্তমানে নগর জুড়ে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা চলছে- ‘মেয়র প্রার্থী আইভী কী করে নিজ হত্যা চেস্টাকারীদের তার নির্বাচনী মাঠে চাচ্ছেন?’, ‘সারা বছর নিজ দলের নেতা-কর্মীদের যিনি সন্ত্রাসী আখ্যাসহ জ্বালাময়ী বক্তব্য দিলেন, সেই আইভী এখন তাদের কেন চাচ্ছেন’। একই ভাবে প্রশ্ন উঠে- ‘সেই আসামীরা কী আইভীর হয়ে নির্বাচনী মাঠে নামবেন?’, ‘আইভী হত্যা চেস্টাকরী আসামীরা কোন মুখে এক মঞ্চে উঠবেন?’
এমন নানা আলোচনা-সমালোচনায় নগর এখন তুমুল মুখরিত। সবাই এখন অপেক্ষা করছেন কি হয় সামনে!

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায় হকার ইস্যুতে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনায় সদর মডেল থানা পুলিশ অজ্ঞাতদের আসামী করে পৃথক মামলা দায়ের করেন। ঐ ঘটনায় যুবলীগ নেতা নিয়াজুল ইসলাম খান বাদী হয়ে একটি এবং সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে আইন কর্মকর্তা আঃ সাত্তার বাদী হয়ে অপর একটি অভিযোগ দায়ের করলেও কোনটাই মামলা হিসেবে গ্রহণ করেনি পুলিশ। ঘটনার ২২ মাস ১৮ দিন পর ২০১৯ সালের ৪ ডিসেম্বর বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা খাতুনের আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর গ্রহণ করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন। পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের নির্দেশানুযায়ী থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। মামলার বাদী ও সিটি করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার বলেছিলেন, মেয়র আইভীকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও মামলা নেয়নি পুলিশ। পরে পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলেও ব্যবস্থা না নেওয়ায় উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। ওই রিট পিটিশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে উচ্চ আদালত গত ১১ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতকে মামলা গ্রহণ করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2021 rudrabarta24.net
Theme Developed BY ThemesBazar.Com