বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

  • আপডেট সময় সোমবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২২, ৩.৩৯ এএম
  • ১৬৪ বার পড়া হয়েছে

জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন ও সদস্য সচিব মামুন মাহমুদ ঘোষিত বিতর্কিত ইউনিট কমিটি ও জেলার আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্তির দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। এসময় তারা বলেন, এই কমিটি বহাল থাকলে বিএনপির আর অস্তিত্বই থাকবে না।

রেববার (১৩ জানুয়ারি) নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক সাংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেন ফতুল্লার বিএনপির সিনিয়র নেতারা।

তারা বলেন, কমিটি যেভাবে গঠিত হয়েছে তা অসাংবিধানিক। আমরা তারেক রহমান ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। যদি কমিটি বিলুপ্ত না করা হয় তাহলে আমরা পরবর্তীতে আমাদের কর্মসূচি সম্পর্কে আপনাদের জানিয়ে দিব।

আমরা এখানে ব্যক্তি স্বার্থে আসিনি। বিএনপি ধ্বংসের যে ষড়যন্ত্র চলছে তা থেকে প্রিয় দলকে রক্ষার জন্য আমরা এসেছি। কিছু লোক সরকারের সাথে ষড়যন্ত্র করে বিএনপিকে তৃণমূল পর্যায়ে নেতৃত্বশূন্য করার পাঁয়তারা করছেন। আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যাকে আপনারা ভালবেসে দেশনেত্রী ডাকেন৷ তিনি তার আপোষহীন নীতির জন্য দীর্ঘদিন যাবৎ জেলে আছেন। আমাদের নেতা তারেক রহমান মামলা ও ফরমায়েশি রায়ের কারণে দেশে ফিরে আসতে পারছেন না। এই অবস্থায় সরকার ষড়যন্ত্রের সাথে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কিছু ব্যক্তি জড়িত। তারা বিএনপিকে সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী করার বদলে দিনকে দিন আরও দুর্বল ও ভঙ্গুর অবস্থায় নিয়ে যাচ্ছে।

তারা আরও বলেন, আপনারা জানেন কাজী মনিরুজ্জামান ও মামুন মাহমুদের নেতৃত্বাধীন কমিটি সাংগঠনিক ব্যর্থতার কারণে বিলুপ্ত করে কেন্দ্রীয় কমিটি। এরপর বেশ কিছুদিন এখানে কমিটি ছিল না। পরবর্তীতে জেলা বিএনপিকে শক্তিশালী করতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। দলীয় সংবিধান অনুযায়ী এই কমিটির মেয়াদ নব্বই দিন হলেও তারা জেলার আওতাধীন পৌরসভা ও থানা বিএনপির কমিটি গঠন করতে পারেনি। সে হিসেবে এই আহ্বায়ক কমিটি ও তাদের কার্যক্রম উভয়ই অবৈধ৷

 

তারা বলেন, আগের কমিটির ব্যর্থ সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদকে পুনরায় কোন এক অদৃশ্য শক্তির ইশারায় সদস্য সচিব করা হয়। তিনি বরিশাল অঞ্চল হতে যখন সিদ্ধিরগঞ্জ আসেন তখন থেকেই সাতখুনের মামলার আসামী নূর হোসেনের আশ্রয়ে ছিলেন। এই খুনীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে তিনি এখনও পরিচিত৷

তারেক রহমান ১০টি সার্চ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তার কথায় সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। তখন সকল বিরোধ মিটিয়ে নবীন প্রবীন মিলিয়ে কমিটি দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারেক রহমানের নির্দেশনা পাশ কাটিয়ে গিয়েছেন মামুন মাহমুদ। আমরা ধারণা করছি তিনি ব্যক্তি স্বার্থ ও কমিটি বাণিজ্য করার লক্ষ্যে এবং সরকারি দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তারেক রহমানের নির্দেশনাকে আমলে নেননি। সেকারণেই সার্চ কমিটির মতামত এবং সাবেক এমপিদের সাথে আলোচনা না করেই বিভিন্ন থানা ও পৌর এলাকায় নেতাকর্মীদের বিরোধ না মিটিয়ে বরং বিরোধ উস্কে দিয়ে বিতর্কিত লোকজন দিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

এই কমিটি গঠনের পর থেকেই বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়েছে। এই কমিটির প্রতিবাদে আড়াইহাজারে মামুন মাহমুদ ও নজরুল ইসলাম আজাদের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়েছে। সেখানে পকেট কমিটি গঠনের অভিযোগে ৯জন ত্যাগী নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছেন। এভাবেই সকল কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ বিষয়ে কারও মতামত নেয়া হয়নি।

তারা আরও বলেন, মামুন মাহমুদ নিজের স্বার্থ রক্ষা ও একজন শিল্পপতির ইচ্ছে পূরণের লক্ষ্যে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক তৈমূর আলমের বহিষ্কারের সুযোগে রুপগঞ্জ ও তারাব এলাকায় জেলার একজন যুগ্ম আহ্বায়ককে ভারপ্রাপ্ত দেখিয়ে তড়িগড়ি করে আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেয়। সেই কমিটিতে ওই শিল্পপতির ২৮ জন লোককে স্থান দেয়া হয়েছে। বিগত পনেরো বছরে তারা বিএনপির কোন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেননি। এই শাহ আলম তিন বছর আগে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছেন। তবে তার জন্যে বিএনপিতে থেকে এখনও কাজ করছেন মামুন মাহমুদ৷

 

এসময় তারা বলেন, তারেক রহমান ও মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে আমাদের দাবী অবিলম্বে এর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। অন্যথায় আগামীতে নারায়ণগঞ্জে বিএনপিকে শক্তিশালী হিসেবে সংগঠিত করা সম্ভব হবে না। আমাদের দাবী এই জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ও ইউনিট কমিটি অবৈধ ঘোষণা করে বিলুপ্ত করা হোক।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2021 rudrabarta24.net
Theme Developed BY ThemesBazar.Com

sakarya bayan escort escort adapazarı Eskişehir escort