মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:৫৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
একজন রেমিটেন্স যোদ্ধা প্রতারণার শিকার বন্দর মুছাপুর চর ইসলামপুর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অসহায় পরিবারের উপর হামলা-থানায় অভিযোগ জনস্বার্থে মেঘনা নদী খননের এলাকাবাসীর বিআইডব্লিউটিএ এর কাছে আবেদন সোনারগাঁয়ে সাবেক চেয়ারম্যানের পুত্র ও তার সহযোগীকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার রূপগঞ্জে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৪ কর্মী গ্রেফতার নারীর উন্নয়নে বস্ত্রখাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে: মন্ত্রী গাজী ফতুল্লায় গার্মেন্টস কর্মীকে ধর্ষণ, যুবক গ্রেফতার না.গঞ্জ সদরে বিএনপি-ছাত্রদলের ৩ নেতাকর্মী গ্রেফতার নির্দেশ পেলে আবারও নির্বাচন করবো: সেলিম ওসমান সোনারগাঁয়ে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সভায় এম‌পি খোকা

আমরা জানার আগে আইভী কিভাবে জানে: তৈমূর

  • আপডেট সময় রবিবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২২, ৪.৪১ এএম
  • ১৫৪ বার পড়া হয়েছে

বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক তৈমূর আলম খন্দকার বলেছেন, সিটি করপোরেশন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চলছে। সকল সুবিধা সিন্ডিকেট ভোগ করছে, সাধারণ মানুষ ভোগ করতে পারে না। জাইকার উন্নয়নের শেয়ার কোথায় যায় সময় হলে আমি সব বলব। আমি বিনা হিসাবে নির্বাচন করতে আসিনি। আমি মনে করি এ নির্বাচন আমার লাভ হয়েছে। আমার ব্যক্তিগত লাভ হয়েছে পাশাপাশি দলেরও লাভ হয়েছে। আমাকে যতই বহিষ্কার করুক আমি বিএনপির সমর্থক হিসেবে থাকবো। আমি বিএনপিকে আমার দল মনে করি এবং মৃত্যু পর্যন্ত এটাই করে যাবো।

শনিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় শহরের মাসদাইরে মজলুম মিলনায়তনে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন পরবর্তী ”ইভিএম মেশিনে ভোট, জাতির জন্য অশনি সংকেত” শীর্ষক আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমাকে বলে নারায়ণগঞ্জে উন্নয়ন হয়েছে। তবে উন্নয়নের সঙ্গে সুশাসন না থাকলে জনগণ লাভবান হয় না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও বলেন দেশে অনেক উন্নয়ন হয়েছে তবে দেশে কোন সুশাসন নেই। সুশাসন না থাকলে জনগণ উন্নয়নটা ভোগ করতে পারে না। একটা গ্রæপ সেটা ভোগ করে। আওয়ামী লীগের সবাইও এটা ভোগ করে না। আওয়ামী লীগেও একটা অংশ আছে যারা নির্যাতিত। কিন্তু যারা প্রধানমন্ত্রী পরিবারের আশীর্বাদপুষ্ট তারাই সুবিধা ভোগ করে।

 

তিনি আরও বলেন, আমার লাভ হচ্ছে এর আগে প্লেনে উঠলেও এয়ার হোস্টেজ আমাকে জিজ্ঞেস করত আপনি বসে গেলেন কেন। চরমোনাই পীরও বলেছে আমি বেঈমান, রাতের অন্ধকারে বসে গেছি। কিন্তু উনি তো জানে না দলের নির্দেশে আমাকে বসতে হয়েছে। দল বসে গেছে তাই আমি বসে গেছি। এবারও যদি দল বলতো তাহলে আমি বিষয়টা দেখতাম। এবার প্রমান হয়েছে আমি পালিয়ে যাওয়ার লোক না।

 

তিনি আরো বলেন, আজকে যারা বড় নেতা না, আমরা এতদিন ঘর থেকে বের হতে পারিনি তবে এবার আমরা ঘর থেকে বের হয়েছি। বিএনপি যে আছে এটা সরকার টের পেয়েছে এবং জনগনও বুঝেছে। একারণেই কুটকৌশল করতে হয়েছে।

 

তৈমূর বলেন, আমি মীর্জা আব্বাসের নির্বাচন করতে গিয়ে গুলি খেয়েছি, সেই মির্জা আব্বাসকেও সকাল এগারোটায় বসে যেতে হয়েছে। আমি বসলাম ৫ ঘন্টা আগে মির্জা আব্বাস তাবিথ আউয়াল বসল এগারোটায় সেটা একটা দিক। আরেকটা ব্যাপার হল জাহাঙ্গীর কমিশনারকে (শহর বিএনপির সাবেক সভাপতি) আপনারা চেনেন। তার সঙ্গে আমার গভীর সম্পর্ক ছিল। তিনি মেয়রের আত্মীয়। জাহাঙ্গীর কমিশনারের স্ত্রী আমাকে নির্বাচনের চার দিন আগে (সিটি নির্বাচন ২০১১) বলেছিল আপনাকে বসিয়ে দেয়া হবে৷ তিনি বলেছিলেন মেয়রের বাড়ি থেকে শুনে এসেছি। আমার মাথায় ধরে না আমার নেত্রী আমাকে বসিয়ে দিবে তারা কীভাবে জানে। আপনারা তাকে জিজ্ঞেস করতে পারেন।

 

বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন কালু ভাই আমাকে নির্বাচনের (সিটি নির্বাচন ২০২২) ১০দিন আগে বলেছিলেন আপনাকে বহিষ্কার করা হবে। তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনিও বললেন আইভীর কাছ থেকে জেনেছি। এটা আমি বুঝি না। আমরা দল করি আমার জানার আগে মেয়র কীভাবে জানে? আমি দলের প্রতি কৃতজ্ঞ আছি এবং থাকব।

 

তৈমূল আলম বলেন, আমি এবং আমার মেয়ে এখানে আছে আমাদের বলা হয়েছিল যে মুকুল চেয়ারম্যানকেও (বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি) এ্যারেস্টের অর্ডার আছে। এফআইআরে না৷ মনিরুজ্জামান, বাপের নাম নেই। সেই নামকে মনিরুল ইসলাম রবি বানিয়ে এ্যারেস্ট করা হয়েছে। আমি উচ্চ পদস্থ পুলিশদের সঙ্গে কথা বললাম। আপনারা যে বললেন সুষ্ঠু নির্বাচন করবেন তো সুষ্ঠুটাা থাকে কোথায়। তখন শুনলাম মুকুল চেয়ারম্যানকে এ্যারেস্টের অর্ডার হয়েছে। আমার মনে হল নারায়ণগঞ্জের এসপি জায়েদুল আলম একটা কন্ট্রাক্ট নিয়েছেন যে আমার লোকজনকে গ্রেপ্তার করার জন্য।

তিনি আরও বলেন, আমি জোর গলায় বলছি৷ যা হবার হবে, একটা এটিএম কামালকে বিএনপি বানাতে পারবে না নারায়ণগঞ্জে। তারপরেও সে বহিষ্কার হয়ে গেল। তার বাড়িতেও পুলিশ গিয়েছে। এভাবে তারা আমার ওপর জুলুম অত্যাচার করল। জুলুম না করলে সরকারকে বুঝিয়ে দিতাম, জাহাঙ্গীর কবির নানককে বুঝিয়ে দিতাম ঘুঘুর ফাঁদ কোথায় আছে। একটা লোক এ্যারেস্ট হলে এলাকাটা কানা হয়ে যায়। হাতির ব্যাজ যার কাছে পেয়েছে তাকেই ধরা হয়েছে। পরবর্তীতে তারা ব্যাজ না লাগিয়ে মাঠে ছিল।

 

তৈমূর বলেন, সকল প্রকার ভয়ভীতি, বহিস্কার গ্রেপ্তার লাঞ্ছিত সব উপেক্ষা করে আপনারা আমার সঙ্গে ছিলেন। নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত আপনারা নির্বাচনটা করেছেন। আমার গায়ের চামড়া দিয়ে জুতা বানিয়ে দিলেও এ ঋণ শোধ হবে না।

 

তৈমূর বলেন, আমাদের দলের আজ দুর্দিন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তারেক রহমানকে মেনেই আমি রাজনীতি করছিলাম, করি, করবো। আগামীতেও আমি থাকবো। এতদিন যেভাবে পাশে ছিলাম ভবিষ্যতেও থাকবো।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2021 rudrabarta24.net
Theme Developed BY ThemesBazar.Com