নারায়ণগঞ্জে আদালতের নির্দেশে শেখ হাসিনা-আসাদুজ্জামান খান কামাল-ওবায়দুল কাদের-জাহাঙ্গীর কবির নানক-মাহবুবুল আলম হানিফ-শামীম ওসমান-সেলিম ওসমানসহ ৪৭১ জনের নামে হত্যা চেষ্টার পৃথক দুই মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে দুটি মামলাই নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা হয়। যার একটিতে প্রধান আসামী শেখ হাসিনা এবং অন্যটিতে প্রধান আসামী শামীম ওসমান। পৃথক দুটি মামলার বাদীও আলাদা দুজন ব্যাক্তি। যে মামলাটিতে শামীম ওসমানকে প্রধান আসামী করা হয়েছে সেটি গত ২১ জানুয়ারী রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় রুজু হয়েছে বলে অফিসার ইনচার্জ শাহিনুর আলম নিশ্চিত করেছেন। এদিকে শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামী করা মামলাটি নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়াধীন বলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেছেন ওসি শাহিনুর আলম।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২১ জুলাই বিকেল সোয়া তিনটায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের ডাচ-বাংলা ব্যাংক এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলন চলাকালীন সময়ে সাবেক এমপি শামীম ওসমান, তার ভাই জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি সেলিম ওসমানের নির্দেশে এবং শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরি ওসমান ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়ার নেতৃত্বে সশস্ত্র অবস্থায় মিছিলে হামলা চালায়। হামলায় তারা আগ্নেয়াস্ত্র, শর্টগান, পিস্তলর, ককটেল, লাঠি, ইট-পাটকেল, এবং ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে। এসময় আলিফের (১৮) বা পায়ের হাঁটুতে গুলি লাগে এবং সে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা ট্রাস্ট হসপিটাল এন্ড ডায়াগনষ্ট্রিক সেন্ট্রারে নিয়ে যায়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে দীর্ঘ চিকিৎসা গ্রহণ শেষে আলিফের বাবা অহিদ মিয়া (৪৭) বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করতে যান। থানায় মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি গত ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের চীফ জুডিশিয়াল আদালতে মামলার আবেদন করেন। তার আবদনের প্রেক্ষিতে আদালত নির্দেশ প্রদান করলে গত ২১ জানুয়ারী রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। মামলাটিতে শামীম ওসমানসহ এজাহার নামীয় আসামী ৫৬ জন। এছাড়াও অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে ১৫০ থেকে ২০০ জনকে।
এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামী করে আদালতের নির্দেশে আরো একটি মামলা নথিভুক্ত করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি শাহিনুর আলম।
জানা যায়, গত ১৭ জানুয়ারী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সদস্য মো: মিরাজ হোসেন (২৬) নারায়ণগঞ্জের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালতে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় তাকে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় মামলার আবেদন করেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত সিদ্ধিরগঞ্জ থানাকে মামলা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন। মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও আসামী করা হয়েছে সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক বস্ত্র ও পাট মন্ত্রীজাহাঙ্গীর কবির নানক, আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সাংসদ শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সাংসদ সেলিম ওসমানসহ ৬৫ জনকে। এছাড়াও মামলাটিতে আরো ১০০ থেকে ১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি বাসস্ট্যান্ডে মামলার ১ থেকে ১২ নং আসামীর নির্দেশে অন্যরা ছাত্র জনতাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলিবর্ষণসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে । ঘটনার এক পর্যায়ের বিকেল আনুমানিক তিনটার সময় মো: মিরাজ হোসেনের দুই পায়ের রানে গুলি বিদ্ধ হন। এসময় অন্তত আরো ১৫ থেকে ২০জন গুলিবিদ্ধ হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। পরে স্থানীয়রা মিরাজকেসহ আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যায়। মিরাজকে নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানীর মুগদা হাসপাতালে। পরে হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করতে গেলে আদালতে মামলার পরামর্শ দেয়া হয়। পরে নারায়ণগঞ্জের বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল আদালতে মামলার আবেদন করলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাকে মামলা রুজু করার নির্দেশ দেয়।