শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:২০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
বন্দরে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে ডালিমকে হাবিবের ছুরিকাঘাত: চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢামেকে মৃত্যু- ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মতিউর রহমান জনির বিরুদ্ধে অপপ্রচার দিঘীরপাড় তদন্ত কেন্দ্রের অভিযানে ১২৫ পিস ইয়াবাসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার ফটো সাংবাদিক ওয়ারদে রহমান’র পিতা মরহুম মজিবুর রহমান’র ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত কে এই দুলাল মাদককারবারী গড -ফাদার সাধারণ জনগণ জানতে চায় দক্ষ জনবলের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ডেন্টাল চিকিৎসা ‘একজন ডেন্টাল সার্জনই সব’, বাড়ছে রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নারায়ণগঞ্জে মাদক নির্মূল ও সামাজিক সচেতনতায় যুবসমাজের বিশাল সমাবেশ নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা অটোরিকশা অটোটেম্পা মিশুক ও বেবি ট্যাক্সি শ্রমিক ইউনিয়নের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ চাষাঢ়ায় ছাত্রশিবিরের অনুষ্ঠানে পটকা নিক্ষেপ, আটক ২ আজমেরী অনুসারী বর্তমান সহ-সভাপতি, নতুন কমিটিতেও দাপুটে অবস্থানে সাফি ইসলাম দক্ষিণ আফ্রিকায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত প্রবাসীদের বাড়িতে সায়েম আহম্মেদ; শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা

নারায়ণগঞ্জ গার্লস স্কুল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের অভিযোগ ; শিক্ষার্থী কল্পনা’র আত্নহত্যা

  • আপডেট সময় রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১.২১ এএম
  • ১৮০ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধি- নারায়ণগঞ্জ জেলা আমলাপাড়া এলাকার ঐতিহ্যবাহী ও সুনামধন্য শিশু প্রতিষ্ঠান নারায়ণগঞ্জ গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ। বর্তমানে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের অসহিষ্ণু আচরণ ও শিক্ষা পাঠদান পরিচালনা পদ্ধতি ব্যবস্থা নিয়ে অবহেলা- অনিয়ম ও আধিপত্য বিস্তারের বিষয়ে অভিযোগ উঠে এসেছে। এ সব ঘটনার নেপথ্যে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিলুফা ইয়াসমিন দায়ী বলে অনেকেই মনে করেন।

তথ্য সূত্রে জানা যায়, গত নভেম্বর মাসে স্কুলে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কল্পনা রানী দাস(১৬) নামে এক শিক্ষার্থী পরীক্ষার হলরুম থেকে বের হয়ে হাতের তালুতে কিছু লেখা নোট করে নিয়ে এসে হলরুমে প্রবেশ করে এবং পরীক্ষার খাতায় হাতের নোট করা সেই লেখা দেখে খাতায় লিখার সময় শিক্ষিকা ফারহানা তা দেখে ফেলে। এ সূত্র ধরে শিক্ষক ফারহানা, কল্পনার খাতা নিয়ে পরীক্ষার রুম থেকে বের করে বারান্দায় নিয়ে এসে মোবাইলে ছবি ও ভিভিও চিত্র ধারন করে এবং হুমকি ধামকি দেয় যে মোবাইলে ধারণকৃত চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দিবে। সেই সাথে টিসি দিয়ে স্কুল থেকে বের করে দিবে। কল্পনা যেনো কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে না পারেন। কল্পনার সাথে এমন বিরূপ আচরনে সহপাঠী সকলেই হতভম্ব ও ভয় পেয়ে যায়। এ সময় স্কুলের কয়েকজন শিক্ষক এসে পরিবেশ শান্ত করেন। এ ঘটনার পর কল্পনার কোচিং শিক্ষক কাদের, কল্পনাকে তার কোচিং এ যেতে বারন করেন এবং কাদের শিক্ষকের কোচিং এর শিক্ষার্থীদের মোবাইল গ্রুপ থেকেও কল্পনাকে রিমুভ করে দেয়া হয় বলে জানা যায় ।
কল্পনার সাথে শিক্ষকের এ ধরনের বৈরী আচরণে কল্পনা মানসিক ভাবে আঘাত প্রাপ্ত হন। কল্পনা কষ্ট সহ্য করতে না পেরে ক্ষোভে ও লজ্জায় কারো প্রতি কোন অভিযোগ না করে নিরব অভিমানে ২৫ নভেম্বর ঘরের দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার পথ বেঁছে নেন। কল্পনার এই আত্নহত্যার পর এই আলোচনা ও সমালোচনা চলতে থাকে স্কুল শিক্ষার্থী ও পরিবারের পক্ষ থেকে ।

সেই দিন আত্নহত্যার সংবাদ পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে এসে কল্পনার ঝুলন্ত লাশ মাটিতে নামান এবং নিয়ে গিয়ে মেডিকেল ময়না তদন্তের পর থানা পুলিশ পরিবারের কাছে কল্পনার মৃত্যু দেহ বুঝিয়ে দেন। পরিবার মৃত্যু দেহ মাসদাইর পৌর শ্মশানে তার শেষ কৃতি দাহ করেন।

এই হত্যার বিষয়ে কাউকে অভিযুক্ত না করে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয় বলে জানা যায় । যাহার জিডি নং-২১০০,তারিখ-২৫-১১-২০২৫।

কল্পনা রানী দাস এর পরিবার হতদরিদ্র হওয়ায় তাহারা এ-ই বিষয়টি নিয়ে তেমন কোন কিছু করতে চায়না। তবে কল্পনাকে নিয়ে তার পরিবারের স্বপ্ন ছিলো লেখা পড়া শিখে পরিবারের পাশে দাঁড়াবে। ৪ কণ্যার মাঝে কল্পনা ছিলো ৩য় তম। সে ছিলো মেধাবী সহজ সরল স্বভাবের মেয়ে। তার এই অকাল মৃত্যুতে পরিবারের সবাই মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছে।

খবর নিয়ে জানা যায়, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন পদাধিকার বলে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক। অথচ কল্পনার মৃত্যুর বিষয়ে কোন শোকবার্তা বা শান্তনার বানি পরিবারের কাছে পৌঁছেনি।
এছাড়াও কল্পনার এই আত্মহত্যার নেপথ্যে স্কুল শিক্ষকদের লাঞ্ছনা ও হুমকির অভিযোগের প্রকৃত কারন থাকলেও কল্পনার মৃত্যুর পরও স্কুল কতৃপক্ষের কেউই পরিবারকে মানবিক দিক বিবেচনা করে শান্তনা বা সহানুভূতি দেখাতে আসেননি। যাহা অমানবিক,নিন্দনীয় ও দ্বায়িত্বে অবহেলা বলে অনেকের কাছে সমালোচিত। শুধু তাই নয় কল্পনার এই অকাল মৃত্যুর প্রকৃত কারনের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক,পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট জেলার শিক্ষা কতৃপক্ষ এবং গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমেও হয়নি সুষ্ঠু তদন্তের ব্যবস্থা। সেই সাথে ঘটনার সাথে জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও নেওয়া হয়নি কোন পদক্ষেপ। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে এখনো ভয় ভীতি কাজ করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই মতামত তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে প্রধান শিক্ষক এ-র পদ শূন্য থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে আবদুর রাজ্জাক দ্বায়িত্বে থাকলেও স্কুলটি পূরো নিয়ন্ত্রণ করে চলছেন স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক নিলুফা ইয়াসমিন । তার একক আধিপত্যের কারণে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ব্যবস্থা যেমন দুর্বল হয়ে পড়ছে সেই সাথে অনিয়ই নিয়মে পরিনত হয়ে যাচ্ছে। সে এতটাই ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে চলছেন যে তার বিরুদ্ধে কোথাও কোন অভিযোগ দিলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায় না। আমরা চাই নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কতৃপক্ষ স্কুলের সুনাম রক্ষায় তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। আর যারা অনিয়ম ও কর্মে অবহেলা করছেন তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তি প্রদান করবেন।

একজন শিক্ষক হবে আর্দশবান,বিনয়ী,ন্যায় পরায়ন ও মার্জিত স্বভাবের, যা দেখে শিক্ষার্থীরা অনুপ্রাণীত হয়ে নিজের জীবন গড়ে তুলতে চেষ্টা করবে। কিন্তু শিক্ষক যদি হয় স্বার্থনেশী,প্রভাব বিস্তারকারী, কুট কৌশলী এবং অবৈধভাবে ক্ষমতার প্রভাববিস্তারকারী তাহলে হয়তো অনেকের কাছে সেটা গ্রহণযোগ্য নয়।স্কুলটি প্রভাবমুক্ত হয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে পড়ুক এটাই সাধারণ মানুষের জোড়ালো দাবী।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2021 rudrabarta24.net
Theme Developed BY ThemesBazar.Com

sakarya bayan escort escort adapazarı Eskişehir escort