মো. আবদুল হামিদের পর রাষ্ট্রপতি পদে আওয়ামী লীগ থেকে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের মনোনয়নের ঘটনায় জাতীয় পার্টি ‘খুশি’ হলেও ‘নীরব বিরোধিতা’ করছে বিএনপি। রবিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের মনোনয়নপত্র দাখিল করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
রাষ্ট্রপতি পদের জন্য আওয়ামী লীগের মনোনীত মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ছাত্রলীগের সাবেক জেলা সভাপতি ছিলেন এবং পরে যুবলীগ করেছেন। কর্মজীবনে তিনি জেলা, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একজন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইসলামী ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও তিনি কাজ করেছেন।
মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নের খবরে বিএনপিতে নীরব প্রতিক্রিয়া চলছে। দলটির স্থায়ী কমিটির বেশ কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে এখনও এ বিষয়ে কোনও মতামত আসেনি। যে কারণে সিনিয়র নেতারাও প্রকাশ্যে মতামত দেওয়া থেকে বিরত রয়েছেন।
স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যের ভাষ্য—মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন দুদকের পরিচালক হিসেবে যোগদানের পরই বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট’-এর মামলাটি সামনে আনেন। ফলে, তার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান থাকার কোনও সুযোগ নেই। এছাড়া আরেক সদস্যের ভাষ্য—এই বিষয়টি নিয়ে আসলে বিএনপির কোনও আগ্রহ নেই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রবিবার সন্ধ্যায় এই প্রতিবেদককে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমি তো দেশের বাইরে এসেছি চিকিৎসার কাজে। এখনই এ বিষয়টিতে কোনও মন্তব্য করতে চাই না।’
নতুন মনোনীত রাষ্ট্রপতি নিয়ে বিএনপির বিরোধিতা থাকলেও খুশি হয়েছে জাতীয় পার্টি। রবিবার দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনন চুপ্পু। আমরা তার মনোনয়নে খুশি। আমরা কোনও খারাপ চিন্তা করছি না। তিনি আমাদের মতো মানুষ। আমাদের সমস্যাগুলো তিনি বুঝতে পারবেন আশা করি।’
জি এম কাদের বলেন, ‘তিনি সব রাজনৈতিক দলের অভিভাবক হিসেবে থাকবেন রাষ্ট্রপতি হিসেবে—এটাই প্রত্যাশা করি। দেশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তিনি সবার প্রতি সম্মান ও সবার প্রতি ছায়া হিসেবে থাকবেন, বলে আশা করি। আমি তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।’