বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রতিবেশী দেশ যদি তিস্তার ন্যায্য হিস্যা দিতে দেরি করে, তাহলে নদী পাড়ের মানুষ ও কৃষিকে বাঁচাতে আমাদের আন্তর্জাতিকভাবে সব পথ বেছে নিতে হবে। তিস্তাকে বাঁচাতে প্রয়োজনে জাতিসংঘসহ সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ‘তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন’ কর্মসূচির শেষ দিনের সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সকাল ১০টায় ‘তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের’ ব্যানারে ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ স্লোগানে তিস্তা সেতু থেকে রংপুরের কাউনিয়া অভিমুখে পদযাত্রা শুরু হয়। পরে কাউনিয়া থেকে পদযাত্রাটি আবার তিস্তা সেতুতে গিয়ে শেষ হয়। বিকালে সমাপনী জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
৫০ বছরেও বাংলাদেশের মানুষ ফারাক্কার অভিশাপ থেকে মুক্তি পায়নি জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, তিস্তা বাংলাদেশের জন্য আরেকটা অভিশাপ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ জন্য প্রতিবেশী দেশ নদীর উজানে গজাল ডোবায় বাঁধ দিয়ে পানি আটকে রাখছে। এ কারণে বন্যা-খরায় উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। তিস্তার বুকে আজ ধু-ধু বালুচর। ভারতের কারণেই উত্তরাঞ্চলের মানুষের আজ এই দুর্দশা।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনাকে ফেরত এনে বিচার করা অন্যতম লক্ষ্য: প্রেস সচিব
তিস্তার পানি বাংলাদেশের মানুষের প্রাপ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকে সারা পৃথিবীর মানুষ দেখছে উত্তরাঞ্চলের মানুষ তিস্তার ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত। উত্তরাঞ্চলের মানুষ ভারতকে জানিয়ে দিতে চায়, অভিন্ন ৫৪টি নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশের মানুষের প্রাপ্য। অথচ আমরা দেখছি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যে পানি বাংলাদেশের মানুষের প্রাপ্য আজ সেই পানির জন্য উত্তরাঞ্চলের মানুষকে আন্দোলন করতে হচ্ছে। ভারত ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনে অপ্রতিবেশী সুলভ আচরণ করেই চলছে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা ছাড়াও উত্তরাঞ্চলকে মরুকরণের হাত থেকে বাঁচাতে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কোনও বিকল্প নেই। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে জলাধার, নদী খনন ও জিয়ার সেই খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু করা হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, সারা বিশ্বজুড়ে সব প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে সমস্যা, সমাধান কিংবা পারস্পরিক স্বার্থ জড়িত থাকে। নিজ নিজ দেশের স্বার্থ রক্ষা করে প্রতিটি দেশই কিন্তু সমস্যার সমাধানগুলো নিরসন করে। এটিই হচ্ছে কূটনৈতিক রীতি। পলাতক খুনি স্বৈরাচার শেখ হাসিনা জোর করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে রাখতে গিয়ে নিজেকে সে তাদের (ভারতের) সেবাদাসীতে পরিণত করেছিল। বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশন এবং জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে সম্পূর্ণ অকার্যকর রেখেছিল।
তিনি বলেন, দেশের জনগণের সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক মানবাধিকার কেড়ে নিয়ে ভোটের অধিকার ডাকাতি করে পলাতক স্বৈরাচার দেশে মাফিয়া সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল। পলাতক খুনি স্বৈরাচারের আমলে জাতীয় নির্বাচনকে তামাশার বিষয়বস্তু বানিয়ে ফেলা হয়েছিল। জনগণকে বিগত ১৫টি বছর ভোট দিয়ে সংসদ সরকার অর্থাৎ জনগণের নিজের সরকার প্রতিষ্ঠা করার কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট মাফিয়া খুনি স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ এবং সম্ভাবনা আবার তৈরি হয়েছে। তৈরি হয়েছে ভোটের অধিকার প্রয়োগ করে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ।
উল্লেখ্য, ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ স্লোগানে সোমবার সকাল থেকে ৪৮ ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচির ডাক দেয় ‘তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন’। এদিন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।