জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক ইসরাইলের সামরিক অভিযানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ইসরাইল গাজায় যে সামরিক অভিযান চালিয়েছে, তা ভয়াবহ মাত্রায় আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে এবং এটি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় মানবাধিকার কাউন্সিলে উপস্থাপিত এক প্রতিবেদনে তিনি এই মন্তব্য করেন। গাজা, ইসরাইল-অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
জাতিসংঘের মানবাধিকার হাই কমিশনের (ওএইচসিএইচআর) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাস ৭ অক্টোবর থেকে গুরুতর লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত। তুর্ক জানান, হামাস ইসরাইলের ভূখণ্ডে নির্বিচারে রকেট নিক্ষেপ করেছে, যা যুদ্ধাপরাধের সামিল। ইসরাইলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় দক্ষিণ ইসরাইলে ১২০০ মানুষ নিহত হন এবং ২৫০ জনেরও বেশি মানুষকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকেই ইসরাইল গাজায় প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়।
ইসরাইলের প্রতিশোধমূলক হামলাগুলো দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে চলে। এতে ৪৮ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হন এবং আহতের সংখ্যা এক লাখেরও বেশি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরাইলি হামলায় গাজার ঘরবাড়ি, হাসপাতাল এবং স্কুল ধ্বংস হয়ে গেছে। এদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের প্রতিবেদনের বিষয়ে নিজেদের মতামত জানাতে কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি ইসরাইল। চিলির প্রতিনিধি বিষয়টিকে ‘দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেছেন।
ইসরাইল বরাবরই গাজা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, তাদের অভিযান কেবল হামাস সদস্যদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে এবং বেসামরিক ক্ষতি কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবে জাতিসংঘের মতে, ইসরাইলের আরোপিত বিধিনিষেধ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে, যা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল।
তুর্ক বলেন, “গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা বিশাল—বাসস্থান, হাসপাতাল, স্কুল, এমনকি মানবিক সহায়তাকেন্দ্র পর্যন্ত ধ্বংস করা হয়েছে।” প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, হামাসও মানবিক আইন লঙ্ঘন করেছে, যেমন—বেসামরিক নাগরিক এবং সামরিক কার্যক্রম একই স্থানে পরিচালনা করা। তবে জাতিসংঘের আহ্বান, যেকোনো সামরিক অভিযান অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনে চলতে হবে।