বন্দর প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জ বন্দর ২০ নং ওয়ার্ডে আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে নানা অপরাধ প্রবণতা সহ চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা বৃদ্ধি পেয়েছে। ৭টি এলাকা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বন্দরের ২০নং ওয়ার্ড গঠিত। জনবহুল বিশিষ্ট এই এলাকাগুলোতে ৫ ই আগস্টের পর থেকে ২০নং ওয়ার্ডের কিছু ছিচকে চোর ও টোকাই প্রকৃতির উশৃংখল যুবক এলাকায় সিন্ডিকেট গঠন করে নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে বলে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়। সেই সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো কঠোরভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে ওয়ার্ড বাসি। ২০নং ওয়ার্ডের এসব অপরাধীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মদদ সহ নিয়ন্ত্রণ করে টাকা কামাচ্ছে সোনাকান্দা কড়ইতলা এলাকার এক সময় ছিচকে চোর বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত কালু মিয়া।
এলাকাবাসীসহ বন্দর থানা সূত্রে জানা গেছে, বন্দর ২০নং ওয়ার্ডের মৃত শওকত ডুবুরীর ছেলে কালু মিয়া। সে ছোটবেলা থেকেই উশৃংখল ও চুরি ছিনতাইসহ নানা অপরাধপ্রবণতার সাথে জড়িত। সোনাকান্দা হাট ও বর্তমান নৌবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত ডকইয়ার্ডে চুরি করার সময় এলাকাবাসী তাকে একাধিকবার হাতেনাতে আটক করে গণধোলাই দিয়ে ছেড়ে দেয়। স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে কিছু নামধারী ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাও কর্মীদের প্রভাব ও ছত্রছায়াতে অপরাধ প্রবণতা করেও পার পেয়ে যেত কালু। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ৫ই আগস্টের পর সেই ছিচকে চোর কালু মিয়া নিমিষেই তার অপরাধ কর্মকাণ্ড চালাতে বিভিন্ন কৌশলে রূপ পাল্টাতে শুরু করেছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা মহানগর ও বন্দরের বিএনপি, যুবদল স্বেচ্ছাসেবক দল কৃষক দল শ্রমিক দলের নেতাদের সাথে কৌশলে ছবি তুলে নিজেকে যুবদল নেতা পরিচয় দেওয়া নিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা সমালোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সেই সাথে নাম পরিবর্তন করে কালু মিয়া থেকে কালু খান নামে ফেসবুক আইডি খুলে ব্যাপক হাস্যকর আলোচনা ঝড় তুলেছে।
গত কয়েক মাসে ২০নং ওয়ার্ডের সোনাকান্দা হাজিপুর, মাহমুদনগর এলাকায় বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত যুবকদের নিয়ে গড়ে তুলেছে কিশোর গ্যাং ও হোন্ডা বাহিনী। সোনাকান্দা হার্ট সংলগ্ন এলাকায় বর্তমানের কালু খান গড়ে তুলেছে তার অপরাধের রাজত্ব। এক সময়ের ছিচকে চোর বর্তমানের যুবদলের নামধারী নেতা কালুখানের নানা অপকর্মে ২০নং ওয়ার্ড বাসি অতিষ্ঠ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। বন্দর ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরের একাধিক বিএনপি ও যুবদল নেতাদের সাথে কথা বললে তারা জানায়, কালুখান বলতে যুবদলের কোন নেতা বা কর্মী নেই। আসলে উনি কে তা আমরা জানি না। কোন ফাকে ও কৌশলে বিভিন্ন নেতার সাথে ছবি তুলেছে এবং এগুলো তার ফেসবুকে দিয়ে প্রচার করছে তাও আমাদের জানা নেই তার বিরুদ্ধে অচিরেই ব্যবস্থা করণ করা হবে। সম্প্রতি ২০ নং ওয়ার্ড এলাকায় অবস্থিত নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ডে শীতলক্ষা নদী থেকে ডেজারের মাধ্যমে তাদের কাজের জন্য মাটি কাটা সময় চাঁদার দাবিতে ঠিকাদার কে বাধা প্রদান করে এবং কাজ বন্ধ করে দেয় এই কালু খান ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। এ ব্যাপারে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে বন্দর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে বলে সূত্রে জানা গেছে। চোর থেকে যুবদল নেতা পরিচয়দানকারী নানা অপরাধের সাথে জড়িত কালুসহ তার সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা বন্দর থানা বিএনপি নেতৃবৃন্দ সহ যৌথ বাহিনীর জরুরী হস্তে কামনা করেছেন।