শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ১৫ই আগস্টের শহীদদের স্মরণ

  • আপডেট সময় সোমবার, ১৬ আগস্ট, ২০২১, ৫.০২ এএম
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে

বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সারা দেশে স্মরণ করা হয়েছে ১৫ই আগস্টের কালরাত্রে শহীদ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের। নানা কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হয়েছে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ বঙ্গবন্ধুর আদর্শে তার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। গতকাল দিবসটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি জাতীয়
শোক দিবসে দেশব্যাপী পালিত হয়েছে নানা কর্মসূচি। বিদেশে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর সাজাপ্রাপ্ত খুনিদের খুঁজে বের করে ফিরিয়ে এনে শাস্তি কার্যকর করার প্রত্যয় ব্যক্ত হয়েছে এবারের শোক দিবসে।
গতকাল সকাল থেকে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যথাযথ মর্যাদায় ঢাকাসহ সারা দেশে দিবসটি পালিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী বিভিন্ন সংগঠন নানান কর্মসূচি গ্রহণ করে।
করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এসব কর্মসূচি পালিত হয়েছে। দিনটির শুরুতে রাজধানীর ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে রক্ষিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, বিভন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে জাতির পিতাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। দিবসটি উপলক্ষে আগের দিন শনিবার সন্ধ্যা থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা, পাড়া-মহল্লায় বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো হয়। গতকাল সকাল সাড়ে ৬টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সকাল ৭টায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জাতির পিতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীসহ সর্বস্তরের মানুষ জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়ক থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বনানী কবরস্থানে যান। যেখানে ১৫ই আগস্ট নৃশংসভাবে নিহত তার মা, ভাই, পরিবারের অন্য সদস্য ও আত্মীয়দের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শোক দিবস উপলক্ষে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর মধ্যে ছিল যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, শ্রমিক লীগ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ ও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট। এদিকে, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধে প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ্য থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খানের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানান নেতার্মীরা। এ সময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও শাজাহান খান এমপি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, এস এম কামাল হোসেন, মির্জা আজম এমপি ও সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আফজাল হোসেন, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এডভোকেট মো. আমিরুল আলম মিলন এমপি, এডভোকেট এ বি এম রিয়াজুল কবির কাওছার, আনিসুর রহমান, সাহাবুদ্দিন ফরাজী, ইকবাল হোসেন অপু এমপি, আজিজুস সামাদ আজাদ ডন এবং সৈয়দ আবদুল আউয়াল শামীম উপস্থিত ছিলেন। এরপর জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষে বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধের বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষকে শ্রদ্ধা জানাতে বঙ্গবন্ধু সমাধি সৌধ কমপ্লেক্স উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সমাধি সৌধ কমপ্লেক্স মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী কোরআন তেলাওয়াত, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ প্রচার, কালো ব্যাজ ধারণ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, মিলাদ মাহফিল, রক্তদান কর্মসূচি, আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকারমসহ সারা দেশের মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ভোর রাতে সেনাবাহিনীর কতিপয় বিপথগামী সদস্য বঙ্গবন্ধুকে তার ধানমণ্ডির বাসভবনে সপরিবারে হত্যা করে। ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল। পৃথিবীর এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ, মেয়ে বেবি ও নাতী সুকান্তবাবু। বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৮ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2021 rudrabarta24.net
Theme Developed BY ThemesBazar.Com