শুক্রবার, ০১ জুলাই ২০২২, ০৭:৪৯ অপরাহ্ন

ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ আজ ঢাকায় আসছেন

  • আপডেট সময় বুধবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২১, ৪.১৬ এএম
  • ১১৩ বার পড়া হয়েছে

বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপনে যোগ দিতে ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আজ ঢাকায় আসছেন। রাষ্ট্রপতি হিসাবে এটি তার প্রথম বাংলাদেশ সফর। মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী, মুজিববর্ষের সমাপনী এবং বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ভারতের রাষ্ট্রপতির সফরের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীর বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেওয়া মূল লক্ষ্য হলেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হবে। ভারতের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ব্যবহৃত একটি টি-৫৫ ট্যাঙ্ক এবং একটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষণ এবং প্রদর্শনের জন্য উপহার হিসাবে প্রদান করবেন।

রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদের আমন্ত্রণে ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এ সফরে আসছেন। এ রাষ্ট্রীয় সফরে ফার্স্ট লেডি এবং ভারতের রাষ্ট্রপতির কন্যা, ভারতের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, দুইজন সংসদ সদস্য, পররাষ্ট্র সচিবসহ বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তার সঙ্গী হিসাবে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সফরকালে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হবে। যদিও এই সফরে দুদেশের মধ্যে কোনো চুক্তি কিংবা সমঝোতা স্মারক সই হবে না। এদিকে ভারতের রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষ্যে রাজধানী ঢাকার প্রধান প্রধান সড়কে বাংলাদেশ ও ভারতের পতাকা দিয়ে মনোরমভাবে সাজানো হয়েছে। জোরালো নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ভারতের রাষ্ট্রপতির সফরের বিভিন্ন দিক নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা (কার্টেন রেইজার) দিতে তুরস্ক সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন মঙ্গলবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। এ সময় পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইমরান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব) মাশফি বিনতে শামস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাবলিক ডিপ্লোম্যাসি বিভাগের মহাপরিচালক হারুন আল রশিদ উপস্থিত ছিলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী এবং অকৃত্রিম বন্ধুদেশ। বাংলাদেশ ও ভারত শুধু সীমান্ত সম্পর্কে আবদ্ধ নয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে বন্ধুপ্রতিম এ দেশটির অকুণ্ঠ সমর্থন দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্কের ভিত্তি রচনা করেছে। পরবর্তীকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও গতিশীল হয়েছে।

আজ সফরের প্রথম দিন রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসাবে ভারতের রাষ্ট্রপতিকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাগত জানাবেন। এ সময় ভারতের রাষ্ট্রপতিকে বিমানবন্দরে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে। এরপর তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করবেন। একই দিন দুপুরে তিনি ধানমন্ডি ৩২-এ অবস্থিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন এবং জাতির পিতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করবেন। একই দিন বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

এ সময় দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনও পৃথকভাবে ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। পরে ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এরপর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের দেওয়া নৈশভোজে যোগ দেবেন রামনাথ। সফরের দ্বিতীয় দিন ১৬ ডিসেম্বর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ভারতের রাষ্ট্রপতি ‘গেস্ট অব অনার’ হিসাবে বাংলাদেশের বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন।

একই দিন বিকলে জাতীয় সংসদ ভবনের সাউথ প্লাজায় বাংলাদেশের বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীর ঐতিহাসিক মুহূর্তে জাতির পিতার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং রক্তস্নাত বিজয়ের আবেগ ও আনন্দ উদ্যাপনের জন্য আয়োজিত ‘মহাবিজয়ের মহানায়ক’ অনুষ্ঠানে তিনি অংশগ্রহণ করবেন। সেখানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকারসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত থাকবেন।

সফরের তৃতীয় দিনে ভারতের রাষ্ট্রপতি ঢাকার রমনায় কালীমন্দিরের সদ্য সংস্কারকৃত অংশের উদ্বোধন করবেন এবং মন্দিরটি পরিদর্শন করবেন। এ সময় তিনি মন্দিরসংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত পরিসরে মতবিনিময়ের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। একই দিনে রাষ্ট্রীয় সফর শেষে দুপুরে তিনি দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৬ ও ২৭ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, মুজিববর্ষ উদ্যাপন এবং বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রাষ্ট্রীয়ভাবে বাংলাদেশ সফর করেন। একই বছরে একটি দেশের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতিবেশী দেশে রাষ্ট্রীয় সফর যে কোনো দেশের ইতিহাসে বিরল ঘটনা এবং ভারতের পক্ষ থেকে এসব সফর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন।

এ বছর বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি এবং ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বাধীন এবং সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে ভারতের স্বীকৃতি প্রদানের উপলক্ষ্যকে আরও উপজীব্য করে তোলার জন্য বাংলাদেশ ও ভারত সরকার এ বছর ৬ ডিসেম্বরকে মৈত্রী দিবস হিসাবে পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে, ঢাকা ও নয়াদিল্লিসহ বিশ্বের ২০ দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক মিশনে ৬ ডিসেম্বরে মৈত্রী দিবস উদ্যাপন করেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ২০২১ সালে বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের এ ধরনের সফর দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্কের খাতায় মাইলফলক অধ্যায় হিসাবে স্বর্ণাক্ষরে উল্লেখ থাকবে। ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটি সফরে যাবেন কি না-জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে যথাসময়ে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2021 rudrabarta24.net
Theme Developed BY ThemesBazar.Com