সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২, ১১:৩০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::

বাস-ট্রেন সংঘর্ষে মৃত্যু বেড়ে ৩

  • আপডেট সময় সোমবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২১, ৪.৪৭ এএম
  • ১৩৬ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জ শহরের এক নম্বর রেলগেইটে লাইনে উপর থাকা বাস ও যাত্রীবাহী ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনায় বা পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া শিশুটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছে। এর আগে ঘটনাস্থলেই মারা যান দুই পুরুষ। তবে নিহত তিনজনের কারোরই পরিচয় জানা যায়নি। রোববার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের এক নম্বর রেলগেইট এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের দুইজন পুরুষের বয়স ৪৫-৫৫ বছরের মধ্যে হবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। আরেক শিশুর বয়স আনুমানিক দশ বছর। দুর্ঘটনায় তার বা পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পা বিচ্ছিন্ন অবস্থাতেই প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া।

নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এই দুর্ঘটনায় দশজন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসেন। তাদের মধ্যে সাতজনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন: নুরু (৪০), কাদের মোল্লা (৩৫), মেজান মিয়া (৬৫), মনা, মনির (২৬), শাকিল (১২), আমেনা বেগম (৩৫)। অজ্ঞাত আরও তিনজন এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিনা ইয়াসমিন সংবাদকে জানান, গুরুতর অবস্থায় তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং একজনকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তির ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রেনটি লাইনের উপর থাকা বাসটিকে ধাক্কা দিয়ে অন্তত ৪০ গজ দূরে ঠেলে নিয়ে যায়। ঘটনার সময় লাইনের দুই পাশেরই গেইট উপরে তোলা ছিল। বাসের সামনের অংশ ধুমরে-মুচড়ে গেছে।

এই ঘটনায় মারা যাওয়া দুই পুরুষের মরদেহ বাসের নিচ থেকে উদ্ধার করেছেন বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার হামিদুর রহমান। আহতদের মধ্য থেকে তিনজনের সাথে কথা হয়েছে। তাদের তিনজনই লাইনের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। নাশতা খেতে আসা পোশাক শ্রমিক আমেনাও লাইনের একপাশে দাঁড়ানো ছিলেন। ঘটনার সময় রেললাইনের পাশে থাকা একটি আখের রস বের করার যন্ত্র তার শরীরের উপর পড়ে। আহত ১২ বছর বয়সী শাকিলও রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেও নাশতা খেতে বেরিয়েছিলেন। তিনি রিভার ভিউ মার্কেটের জিএম ট্রেডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। এই ঘটনায় হতাহতদের অন্য কেউ বাসের যাত্রী ছিলেন কিনা তা নিশ্চিত করে জানা যায়নি। তবে বাসের চালক ও তার সহযোগী পালিয়ে গেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী।

নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশন অফিসার সিএম আক্তার হায়দার বলেন, সাত বগিবিশিষ্ট ট্রেনটি ঢাকার কমলাপুর থেকে ৫টা ২০ মিনিটে ছেড়ে আসে। দুর্ঘটনা ঘটে সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে। ট্রেনের চালক ও দায়িত্বরত গেটকিপারের নাম তাৎক্ষনিকভাবে জানাতে পারেননি এই কর্মকর্তা। এদিকে ঘটনার পর দেড় ঘন্টা ট্রেনটি সেখানেই ছিল। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ট্রেনটি পুনরায় ঢাকার দিকে ছেড়ে যায়।

সরেজমিনে জানা যায়, ঘটনাস্থল থেকে কেন্দ্রীয় রেল স্টেশন ও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের দূরত্ব মাত্র ১০০ গজ। বাস ও ট্রেন দু’টোই নিজ স্টেশনের দিকে যাচ্ছিল। স্থানীয়রা বলেন, শহরের দুই নম্বর রেলগেইট থেকে এক নম্বর রেলগেইট পর্যন্ত লাইনের দুই পাশে অসংখ্য অস্থায়ী কাচা স্থাপনা রয়েছে। এইসব স্থাপনা একাধিকবার উচ্ছেদ করা হলেও বিভিন্ন কারণে আবারও লাইনের দুই পাশ দখল হয়ে যায়। লাইনের উত্তর পাশের একটি চায়ের দোকানও এই দুর্ঘটনায় ধুমড়ে-মুচড়ে যায়। তবে হতাহতের তালিকায় নাম যোগ হয়নি দোকানি ফরিদ উদ্দিনের। তিনি বলেন, ‘আচমকা ট্রেনটা বাসরে ধাক্কা দিয়া নিয়া যায়। কিছু দূর গিয়ে আবার থাইমা যায়।’

ঘটনাস্থলে আসেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রওশন আলী সরকার। তিনি অভিযোগ তোলেন রেল কর্মকর্তাদের উপর। রওশন আলী বলেন, ট্রেন আসার খবর আগেই পায় গেইটকিপার। আগেই রেলগেইট বন্ধ করে দেওয়ার দরকার ছিল তার। রেলগেইটের দায়িত্বে রেলের কর্মীদের থাকার কথা থাকলেও ফুটপাতের রেলগেইট ওঠানো-নামানোর কাজে ব্যবসায়ীদের ব্যবহার করা হয়। রেল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা দেখছেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, সাধারণত রেলগেইটের কাছাকাছি ট্রেন ধীরে চলে। তবে ঘটনার সময় ট্রেনের গতি বেশি ছিল। এদিকে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ্ জামান জানান, প্রাথমিক তদন্ত শেষে এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে কার গাফিলতি ছিল কিংবা ছিল না, তা জানা যাবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2021 rudrabarta24.net
Theme Developed BY ThemesBazar.Com