রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৩৭ অপরাহ্ন

প্রতিমাসে এক কোটি ডোজের বেশি টিকার ব্যবস্থা করা হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৫.১৫ এএম
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে জানিয়েছেন, প্রতিমাসে যাতে এক কোটি ডোজেরও বেশি টিকা পাওয়া যায় তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সিনোফার্ম হতে পাওয়া শিডিউল অনুযায়ী অক্টোবর মাস হতে প্রতিমাসে দুই কোটি হিসেবে ডিসেম্বরের মধ্যে ৬ কোটি টিকা পাওয়া যাবে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার জাতীয় সংসদের টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকারের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী এমন তথ্য জানান। লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, এ পর্যন্ত (৩০শে আগস্ট) এক কোটি ৮২ লাখ ৮৯ হাজার ১৮ জনকে প্রথম ডোজ এবং ৭৮ লাখ ৪০ হাজার ১৬৯ জনকে দ্বিতীয় ডোজসহ দুই কোটি ৬১ লাখ ২৯ হাজার ১৮৭ ডোজ টিকা দেয়া সম্পন্ন হয়েছে। মজুত রয়েছে এক কোটি ১৮ লাখ ৯৬ হাজার ৩৪৩ ডোজ। টিকা সংগ্রহ এবং বিনামূল্যে প্রদান কাজ চলমান রয়েছে। করোনার টিকা সংগ্রহে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, করোনার টিকা সংগ্রহে আমরা বিশ্বের সকল উৎপাদনকারী সংস্থার সঙ্গেই যোগাযোগ স্থাপন করেছি। এরমধ্যে কেবল ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে সাড়া পাই এবং অগ্রিম টাকা দিয়ে তিন কোটি ডোজ টিকা সংগ্রহের চুক্তি করি।
অন্যান্য উৎপাদনকারী সংস্থা হতে টিকা পাওয়ার কোনো সাড়া তখন পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে কেবল চীনের সিনোফার্ম ও রাশিয়ার স্পুটনিক-ভি হতে সাড়া পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্যোগ গ্রহণ করি। এর মধ্যে সিনোফার্মের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের জন্য সমাঝোতা চুক্তিও হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সংসদ নেতা আরও জানান, বিশ্বজুড়ে করোনা প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পরপরই সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে বিনামূল্যে টিকা প্রদানের বিষয়টি আমার সরকার অগ্রাধিকার দিয়েছে। এ লক্ষ্যে করোনা টিকা আবিষ্কার ও ব্যবহারের অনুমতি প্রাপ্তির পূর্ব হতেই আমরা টিকা সংগ্রহ ও টিকা প্রদানের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন, চলমান টিকা কার্যক্রম জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সব বিভাগীয় সদর ও উপজেলা সদরে অবস্থিত ৬৭৩টি টিকা কেন্দ্রের মাধ্যমে জনগণকে টিকা প্রদান করা হচ্ছে। টিকা প্রদান কেন্দ্র ইউনিয়ন পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে। টিকা প্রদানে প্রয়োজনীয় জনবলকে ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সরকার নদী ভাঙনের স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে। বন্যা থেকে রক্ষা, নদী ভাঙন নিয়ন্ত্রণ, নদী শাসন নাব্য রক্ষাসহ সামগ্রিক নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, এতে সারা দেশকে ৭টি নদী বেসিনে বিভক্ত করে সমীক্ষা সম্পাদন হচ্ছে। ইতিমধ্যে কর্ণফুলি, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর বেসিনভিত্তিক সমীক্ষা শেষ হয়েছে। পানি প্রবাহের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নদীগুলোকে স্থিতিশীল রাখা ও যথাযথ পলি ব্যবস্থাপনা কৌশল অনুসরণ করে কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে দেশের বন্যা ঝুঁকি হ্রাস ও নদী ভাঙন কবলিত এলাকার ভাঙন রোধ করে টেকসই উন্নয়নের কাক্সিক্ষত অর্জন সম্ভব হবে। সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমানের অপর প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে গত ৪ বছর ধরে দেশীয় গবাদিপশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। গত ঈদুল আজহার সময় কোরবানিযোগ্য গবাদি পশু সংখ্যা ছিল প্রায় এক কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৭০০টি। আর কোরবানিকৃত পশু ছিল ৯০ লাখ ৯৩ হাজার ২৪২টি। অর্থাৎ কোরবানিযোগ্য প্রায় ২৮ লাখ পশু উদ্বৃত্ত ছিল। এ ছাড়া বিগত ১২ বছরে দেশে দুধ উৎপাদন ৫ গুণ ও ডিমের উৎপাদন ৪ঠা জুন বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2021 rudrabarta24.net
Theme Developed BY ThemesBazar.Com