বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৭:১৬ অপরাহ্ন

করুণা নয়; ন্যায্য অধিকার চাই : প্রধানমন্ত্রী

  • আপডেট সময় বুধবার, ১৫ মার্চ, ২০২৩, ৪.২৯ এএম
  • ৭০ বার পড়া হয়েছে

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দাবস্থা কাটিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সহজ শর্তে ঋণ দেয়া অব্যাহত রাখতে উন্নয়ন অংশীদারদের প্রতি আহŸান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারত্বের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে গতকাল আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ আহŸান জানান।

বাংলাদেশ সরকার ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক সকালে যৌথভাবে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এ অনুষ্ঠানের আায়োজন করে। সরকারপ্রধান বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে না আসা পর্যন্ত সহজ শর্তে অর্থায়ন অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং উন্নত দেশগুলোকে এ বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে হবে। তিনি বলেন, আমরা কারও কাছে করুণা বা দয়া চাই না; আমরা ন্যায্য অধিকার চাই। বৈশ্বিক স¤প্রদায়ের অংশীদার হিসেবে আমরা আমাদের ন্যায্য হিস্যাই দাবি করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সংকটময় মুহূর্তে আমরা হতাশার সঙ্গে লক্ষ্য করছি অনেক উন্নয়ন অংশীদার সুদের হার বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা বেশিরভাগ প্রকল্পের জন্য উন্নয়ন অর্থায়নকে অর্থনৈতিকভাবে অকার্যকর করে তুলছে। তাই একাধিক অর্থনৈতিক ধাক্কার প্রভাব মোকাবিলায় আমাদের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। বৈশ্বিক বাণিজ্যিক অংশীদাররা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের বৈশ্বিক ব্যবসায়িক অংশীদারগণ অপ্রয়োজনীয় বাণিজ্য বিধিনিষেধ আরোপ করছে, যা সার্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আমাদেরকে অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আমি দক্ষতা উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, আইসিটিভিত্তিক উদ্যোক্তা, মানসম্পন্ন অবকাঠামো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর কৌশলগত গুরুত্বারোপসহ অর্থায়নের নমনীয় পদ্ধতি এবং উদ্ভাবনী অর্থায়নের জন্য এডিবির প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বেসরকারি খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো গুরুত্বপূর্ণ। এটি বিনিয়োগবান্ধব ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরিতে অবদান রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্ব একাধিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, আমরা এই ভ‚রাজনৈতিক সংকটের শিকার হলেও এর জন্য আমরা মোটেও দায়ী নই; বরং এটি কষ্টার্জিত অর্জনগুলোকেই নস্যাৎ করছে এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে আমাদেরকে ঠেলে দিচ্ছে। আমরা সত্যিই এই সংকটের কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান দেখতে পাচ্ছি না। শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বব্যাপী এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ আরও কষ্ট পাচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, বেশির ভাগ দেশই খাদ্য, জ্বালানি এবং আর্থিকভাবে মারাত্মক সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে। এর ফলে মুদ্রার অবম‚ল্যায়ন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অবক্ষয় এবং মুদ্রাস্ফীতি আরও দ্রæত বৃদ্ধি পাচ্ছে। একটা সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। সবচেয়ে গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হলো এগুলো বিশ্ব স¤প্রদায়ের দরিদ্রতম অংশকেই অসামঞ্জস্যপ‚র্ণভাবে প্রভাবিত করছে। এদিকে বাংলাদেশের মূল উন্নয়নের জন্য আর্থিক সহায়তা বাড়াতে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট মাসাতসুগু আসাকাওয়া।এডিবি বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব প্রসারিত করবে জানিয়ে আসাকাওয়া বলেন, ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে এডিবি। সংস্থাটির প্রধান বলেন, বাংলাদেশের ম‚ল উন্নয়ন অগ্রাধিকারের জন্য আর্থিক সহায়তা বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আমরা। গত দেড় দশক ধরে বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে স্থির ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে বাংলাদেশের। দেশটির এই রূপান্তরিত হওয়া আমি প্রত্যক্ষ করেছি। বাংলাদেশের কাছে এডিবি আরও সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিম‚লক ও টেকসই উন্নয়ন প্রত্যাশা করে। টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশকে আরও বড় আকারে সহায়তা করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করে আসাকাওয়া বলেন, বিশেষ করে গত দেড় দশকে ২০১৩ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন গড়ে প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। ২০১৯ সালে কোভিড মহামারির ঠিক আগে ৭ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছে জিডিপি প্রবৃদ্ধি। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা পায়। মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় ১ হাজার ২১০ ডলারে পৌঁছেছিল। এটি ২০২২ সালের মধ্যে ২ হাজার ৭৯৩ ডলারে উন্নীত হয়। ২০২৬ সালের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা থেকে গ্রাজুয়েশন হওয়ার পথে রয়েছে বাংলাদেশ।

এডিবি জানায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলওয়ে প্রকল্পের অধীনে একটি রেল স্টেশন এবং এডিবি জরুরি সহায়তা প্রকল্পের অধীনে আশ্রয়প্রাপ্ত লোকদের জন্য কক্সবাজার ক্যাম্পে একটি পানি সরবরাহ সুবিধাসহ এডিবি অর্থে বাস্তবায়িত নানা প্রকল্প পরিদর্শন করবেন মাসাতসুগু আসাকাওয়া। এছাড়াও তিনি একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি এবং স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রামের অধীনে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন। বাংলাদেশ ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) অংশীদারিত্বের ৫০ বছর উদ্যাপন উপলক্ষ্যে ঢাকা সফরে রয়েছেন এডিবির প্রেসিডেন্ট। গত ১২ মার্চ বাংলাদেশ পৌঁছান তিনি। ১৬ মার্চ পর্যন্ত তার ঢাকায় অবস্থানের কথা রয়েছে। আসাকাওয়া তার ৫ দিনের সফরের অংশ হিসেবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালে এডিবিতে যোগ দেয়। ১৯৮১ সালে একটি মাঠ অফিস হোস্ট করার জন্য প্রথম এডিবি সদস্য হয়। সংস্থাটি প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার ঋণ, অনুদান এবং সহ-অর্থায়নসহ প্রযুক্তিগত সহায়তা সংগ্রহ করেছে। এডিবি চরম দারিদ্র্যতা দ‚রীকরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখে একটি সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিম‚লক ও টেকসই উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ১৯৬৬ সালে এডিবি প্রতিষ্ঠিত হয়, সংস্থাটির সদস্যভুক্ত দেশ ৬৮টি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2021 rudrabarta24.net
Theme Developed BY ThemesBazar.Com