শুক্রবার, ০১ জুলাই ২০২২, ১১:১৭ অপরাহ্ন

আইভী মিথ্যার মহারানী : শাহ নিজাম

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৭ অক্টোবর, ২০২১, ৪.২০ এএম
  • ৬৯ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ্ নিজাম বলেছেন, কিছুদিন পূর্বে এখানে একজন মহিলা মানুষ এসেছিলেন। ওনি এর আগে বক্তব্য দিয়েছেন আমার বন্ধু বাপ্পিকে নিয়ে। কারো চক্ষুশূলের কারণে নাকি বাপ্পি নিহত হয়েছে। মায়াকান্না করে, মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে মানুষের কাছে ভোট চাওয়ার ষড়যন্ত্র করছেন।

তিনি আরও বলেন, বাপ্পিকে কারো চক্ষুশুলের কারণে হত্যা করা হয়নি। ছাত্রলীগের আদর্শিক নেতা ছিলেন বাপ্পি। বাপ্পিকে হারিয়ে আওয়ামীলীগ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। শামীম ওসমানকে যারা হত্যার ষড়যন্ত্র করে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি নষ্ট করতে চেয়েছে, তারাই বাপ্পিকে হত্যা করেছে। আর ওই মহিলা তাদের সাথেই আতাত করে নারায়ণগঞ্জে রাজনীতি করেন। বাপ্পির হত্যাকারী যদি চক্ষুশূলীরা হয়ে থাকে, আপনিও সেই আসামিদের একজন। আপনি সেই দায় এড়াতে পারবেন না। আমি তার নাম বলতে চাই না, কারণ আমি তার নাম দিয়েছি মিথ্যার মহারানী। ওনি হচ্ছে নারায়ণগঞ্জে রাজনীতিবিদদের মিথ্যার মহারানী।

 

বুধবার (৬ অক্টোবর) বিকালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক কর্মী সভায় নাসিক মেয়র আইভীকে উদ্দেশ্য করে তিনি এসব কথা বলেন।

 

শাহ নিজাম বলেন, সেই মহিলা করোনা নিয়ে কথা বলেছেন, ওনি নাকি করোনার সময় ঔষধ, ফলমূল পৌছে দিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জের মানুষ ওনাকে রাজপথে দেখে নাই। ওনি ডাক্তার হয়েছেন, এই পর্যন্ত একটা প্যারাসিটামলের প্রেসক্রিপশন লিখেন নাই। মহামারির মধ্যে আপনজন আপনজনের পাশে ছিল না। আর এই কারণেই মেয়র চিন্তা করেছেন, ওনি মেয়র অনেক টাকার মালিক। নারায়ণগঞ্জে ১৮ বছর যাবৎ রাজত্ব করছেন। টেন্ডারের মাধ্যমে, পার্সেন্টেজ খেয়ে বিদেশে অর্থ পাচার করছেন। জীবনের মায়া বেড়ে গেছে। তাই ওনি করোনার সময় ঘর থেকে বের হন নাই। মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন।

 

তিনি আরও বলেন, করোনার সময় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন থেকে কোন বরাদ্দ দেওয়া হয় নাই। প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দ কাউন্সিলরের মাধ্যমে এলাকায় এলাকায় বন্টন করেছেন। বরাদ্দ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী, কৃতজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রীর অথচ ব্যানারে প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুর ছবি থাকে না। ছবি থাকে মিথ্যার মহারানীর, যে নারায়ণগঞ্জে দশ বছর যাবৎ সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব পালন করছেন।

 

নিজাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে ২১ বার হত্যা করার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। আজও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এই কারণে শামীম ওসমান বলেছেন, সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডে কর্মসভা শেষে একটি জনসভা করব। যে জনসভায় মানুষের মাথা দেখা যাবে, রাজপথ দেখা যাবে না। শামীম ওসমানের জনসভার ডাক ছিল রাজকার ও বিএনর্র্র্পিসহ সমস্ত ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে। তারা যেন কোন ষড়যন্ত্র না করতে পারে। বিএনপি জামাত কিন্তু প্রতিবাদ করল না। যারা ত্বকী হত্যা নিয়ে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করে, তাদের সাথে একই সুরে কথা বলে মিথ্যার মহারানী। শামীম ওসমান ডাক দিয়েছেন রাজকার ও বিএনপিদের বিরুদ্ধে, আপনার গায়ে লাগে কেন? যদি রাজকার, যুদ্ধাপরাধী, ষড়যন্ত্রকারী, বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে কথা বলি, আপনি কেন ফুঁসে উঠেন? এই জবাব নারায়ণগঞ্জের মানুষ চায়। এই জবাব আপনাকে দিতে হবে।

 

তিনি আরো বলেন, কাক কখনো কোকিল হয় না। যারা যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতাবিরোধী, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের সাথে রাতের অন্ধকারে ষড়যন্ত্র করে দিনের বেলায় জয় বাংলা, বঙ্গবন্ধুর স্লোগান দেয়, তারা ভিতরের আদর্শ কখনো পরিবর্তন করতে পারে না। মিথ্যার মহারানী ওইদিন বক্তব্যে বললেন, জয় বাংলার স্লোগান এতদিন নাকি তারা কুক্ষিগত করেছিল। জয় বাংলার স্লোগানের নেতৃত্ব দিয়েছে আওয়ামীলীগ। জয় বাংলা স্লোগানের নেতৃত্বের কারণে দেশ স্বাধীনতা পেয়েছে, জয় বাংলার স্লোগানের নেতৃত্বে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জয় বাংলার স্লোগানে এ দেশের মানুষের ভাগ্যেরও পরিবর্তন হয়েছে। আপনি কাদের কি বোঝাচ্ছেন? আওয়ামীলীগ কি জয় বাংলার স্লোগান কুক্ষিগত করেছে? জয় বাংলার স্লোগান তো বিএনপি, জামাত ও স্বাধীনতাবিরোধীরা দিবেন না। ওনি সেদিন বললেন জয় বাংলার স্লোগান নাকি কুক্ষিগত ছিল, এখন নাকি এই স্লোগান সার্বজনীন।

 

নিজাম আরও বলেন, আপনি হকার নিয়ে কথা বলেন। হকার নিয়ে কথা বললে প্রথমে আপনাকে শুধরাতে হবে। আপনি নিজে ফুটপাত দখল করে হকারদের পেটে লাথি মারছেন। আগে নিজে সংশোধিত হন। নিজের বাবার নামে যে ফুটপাত দখল করেছেন, আগে সেটা ভাঙ্গেন। তারপর খেটে খাওয়া মানুষের পেটে লাথি মারতে যাইয়েন।

 

তিনি বলেন, মেয়র আওয়ামীলীগ করেন বলেন, প্রথমত বিএনপি জামাতের নেতৃত্বে ওনি আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে গিয়েছিলেন। বিএনপি জামাতের নেতৃত্বে আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়ে ষড়যন্ত্রের নির্বাচনে মেয়র হয়েছিলেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী আমাদের বুঝালেন, আমরা দেই একজনকে তোমরা মেনে নেও। এবং তোমরা তার পক্ষে নির্বাচন করো। আমরা মেনে নিলাম। আমরা নৌকায় ভোট দিলাম। নির্বাচনের পরে আমরা হয়ে গেলাম ওনার দুশমন।

 

নিজাম আরও বলেন, মেয়র নাকি জনপ্রিয়। হকাররা যখন ওনার উপর আক্রমণ করল, বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং হয়েছে। ওনারে রক্ষা করার জন্য কেউ আসেনি। আমরা যদি সেদিন রাজপথে হকারদের প্রতিহত না করতাম, আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ যদি একসাথে না আসতাম তাহলে হয়তো মেয়র আইভী বেঁচে থাকতেন না। মেয়র আইভীকে রক্ষা করলাম আমরা, আমাদেরকে সেই মামলার আসামী করা হলো। মামলায় আওয়ামীলীগের ৯জন ও সাড়ে চারশজনকে অজ্ঞাত আসামী করা হলো।

 

তিনি বলেন, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, কৃষকলীগ, শ্রমিকলীগ আমার কোন নেতাকর্মীদের গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি যাদের সাথে আপনি মিটিং করেছেন, তাদেরকে নিয়ে আপনি এলাকায় হুমকি দিবেন। ছাত্রলীগ, যুবলীগকে হাত দেওয়ার চেষ্টা করবেন না, হাত ভেঙ্গে দেওয়ার ক্ষমতা ছাত্রলীগ রাখে। আবার কোন ষড়যন্ত্র হলে, আমি ছাত্রলীগ, যুবলীগের পক্ষ হয়ে নেতৃত্ব দিবো।

 

১৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য মো. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদা মালা, যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন ভুইয়া সাজনু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হক নিপু প্রমুখ।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2021 rudrabarta24.net
Theme Developed BY ThemesBazar.Com