বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ০৭:৫৬ অপরাহ্ন

অভিবাসীর সংখ্যায় বিশ্বে বাংলাদেশ ষষ্ঠ

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২১, ৪.৩২ এএম
  • ১৫৪ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বে ক্রমাগতভাবে বাড়ছে অভিবাসীর সংখ্যা। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এখন ২৮ কোটি ১০ লাখ অভিবাসী রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় ৭৪ লাখ। অভিবাসী সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশ ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার ‘বিশ্ব অভিবাসন প্রতিবেদন ২০২২’-এ এ তথ্য উঠে এসেছে। বুধবার এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে আইওএম। বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে আইওএমের বাংলাদেশ কার্যালয়।

প্রতিবেদনটিতে গত দুই বছরে বিশ্বব্যাপী অভিবাসন খাতের আদ্যোপান্ত তুলে ধরা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিষয় বিশ্লেষণ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে অভিবাসনের ঐতিহাসিক ও সমসাময়িক কারণগুলো।

আইওএম বলছে, করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী চলাচলে নিয়ন্ত্রণ এবং ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিপর্যয়, সংঘাত ও সহিংসতার কারণে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি বেড়েছে। বিশ্বে বর্তমানে আন্তর্জাতিক অভিবাসীর সংখ্যা ২৮ কোটি ১০ লাখ। অভিবাসী প্রেরণে বাংলাদেশ বিশ্বে ৬ষ্ঠ এবং রেমিট্যান্স গ্রহণে অষ্টম।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী আকাশপথে যাত্রী সংখ্যা ৬০ শতাংশ কমেছে। ২০১৯ সালে যাত্রী সংখ্যা ছিল ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন যা ২০২০ সালে ১ দশমিক ৮ বিলিয়নে দাঁড়ায়। একই সময়ে দুর্যোগ, সংঘাত ও সহিংসতার ফলে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪০ দশমিক ৫ মিলিয়ন, যা এক বছর আগে ছিল ৩১ দশমিক ৫ মিলিয়ন।

প্রতিবেদন অনুসারে, আন্তর্জাতিক অভিবাসীর সংখ্যা ১৯৭০ সালে বিশ্বব্যাপী ৮৪ মিলিয়ন থেকে ২০২০ সালে ২৮১ মিলিয়নে উন্নীত হয়েছে যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৩.৬ শতাংশ। বিশ্বব্যাপী বেশিরভাগ মানুষই (৯৬.৪ শতাংশ) যে দেশে জন্মগ্রহণ করে সে দেশেই বসবাস করে। কোভিড-১৯ এর কারণে ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক অভিবাসীর সংখ্যা ২ মিলিয়নের মতো কম ছিল।

প্রতিবেদন সম্পর্কে আইওএমের মহাপরিচালক অ্যান্টোনিও ভিটোরিনো বলেন, আমরা একটি বৈপরীত্য লক্ষ্য করছি, যা মানব ইতিহাসে আগে দেখা যায়নি। কোভিড-১৯ এর কারণে শত কোটি মানুষ আটকা পড়েছে। তারপরও লাখ লাখ বাস্তুচ্যুতির ঘটনায় বিপুল সংখ্যক মানুষ গৃহহীন হতে বাধ্য হয়েছে।

আইওএম জানায়, প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নানা তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী বসবাস করা বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা ছিল ৭.৪ মিলিয়ন। বাংলাদেশের বাইরে বসবাস করেও প্রবাসীরা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশি অভিবাসীরা ২০১৯ সালে ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে ৭৩ শতাংশ প্রবাসী শ্রমিকদের কাছ থেকে এসেছে, যারা গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) দেশগুলোতে প্রধানত নিম্ন-দক্ষ শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। এই রেমিট্যান্স জিডিপির ৬ শতাংশের বেশি এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক আয়ের উৎস।

প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোয় উদ্বুদ্ধ করার জন্য নীতিনির্ধারকদের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে এ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৯ সালে নগদ প্রণোদনা স্কিমের সর্বোচ্চ সীমা তিনগুণেরও বেশি বাড়িয়েছে– যার ফলে রেমিট্যান্স সুবিধাভোগীরা আনুষ্ঠানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে টাকা পাঠানোর উপর দুই শতাংশ বোনাস পান। এছাড়া, রেমিট্যান্স পাঠানোর উৎসাহ আরও বাড়াতে কিছু বাণিজ্যিক ব্যাংক অতিরিক্ত এক শতাংশ প্রণোদনা প্রদান করেছে।

প্রতিবেদনটির সম্পাদক ম্যারি ম্যাকঅলিফ বলেন, বিশ্ব অভিবাসন প্রতিবেদন সিরিজের ১১তম সংস্করণটিতে অভিবাসন বিষয়ে সাম্প্রতিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে অভিবাসন প্রবণতা তুলে ধরা হয়েছে। ব্যাখ্যা করা হয়েছে অভিবাসন নীতির নতুন নতুন দিক।

আইওএমের বাংলাদেশ অফিসার ইন চার্জ ফাতিমা নুসরাত গাজ্জালি বলেন, রেমিট্যান্সের প্রবাহের ওপর কোভিড-১৯ অতিমারির নেতিবাচক প্রভাব সত্ত্বেও ২০২০ সালে ২১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যুক্ত হয়েছে। অভিবাসন বাংলাদেশের উন্নতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। অভিবাসীরা উন্নত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য অভিবাসন করে এবং তারপর নিজ দেশে জীবনযাত্রার মান বাড়াতে সহায়তা করে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2021 rudrabarta24.net
Theme Developed BY ThemesBazar.Com