
পায়ের জাদুতে যারা সবুজ ঘাস রাঙাতে জানে, ইনডোরের হার্ডকোর্টেও তারাই আজ অদম্য। কেউ বলেছিল অসম্ভব, কেউ হয়তো ভেবেছিল শুধু চেষ্টা। কিন্তু সব সংশয় উড়িয়ে দিয়ে, লাল-সবুজের মেয়েরা লিখেছে এক নতুন মহাকাব্য। সাবিনা খাতুনদের হাত ধরে এবার সাফ ফুটসালে শিরোপা জিতল বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে মালদ্বীপকে ১৪-২ গোলে উড়িয়ে চ্যাম্পিয়নের মুকুট পড়েন সাবিনারা।
শুধু ট্রফি জয়ই নয়, পুরো টুর্নামেন্টে একটি ম্যাচেও হারেনি সাবিনা-সুমায়ারা। অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটসাল সিংহাসনে এখন শুধুই বাংলাদেশের রাজত্ব।
এই সাফল্যের রূপকার আর কেউ নন, বরাবরের মতোই দলের কাণ্ডারি সাবিনা খাতুন। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুট মাথায় দিয়ে তিনি প্রমাণ করলেন—কেন তাকে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা ভাবা হয়।
তবে সাবিনা একা নন, মাঠের লড়াইয়ে তার যোগ্য সঙ্গী ছিলেন মাতশুশিমা সুমায়া ও কৃষ্ণা রানী সরকার। মালদ্বীপের বিপক্ষে রোববার মাঠে নামার আগেই সাবিনা করেছেন রেকর্ড ১০ গোল, কৃষ্ণা ৫টি এবং সুমায়া ৩টি গোল দিয়ে প্রতিপক্ষকে তটস্থ করে রেখেছিলেন। আর গোলপোস্টের নিচে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন গোলরক্ষক স্বপ্না আক্তার জিলি। হেড কোচ সাইদ খোদারাহমির অবদানও ভুলে যাওয়ার মতো নয়।
যাত্রার শুরুতেই শক্তিশালী ভারতকে ৩-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দেয় বাংলাদেশ। এরপর ভুটানের সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র করে কিছুটা রোমাঞ্চ ছড়ালেও, পরে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একে একে নেপালকে ৩-০, শ্রীলঙ্কাকে ৬-৩ এবং পাকিস্তানকে ৯-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে শিরোপার পথ পরিষ্কার করে ফেলে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। শেষ ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে সহজ জয়ে নিশ্চিত হয় বহুল প্রতীক্ষিত এই ট্রফি।
অধিনায়ক হিসেবে ফুটবল এবং ফুটসাল—দুই ফরম্যাটেই সাফ শিরোপা জেতার বিরল এক রেকর্ড এখন কেবল সাবিনা খাতুনের দখলে। সাফ ফুটবলের পর এবার ফুটসাল—বাংলার মেয়েরা বুঝিয়ে দিল, স্বপ্ন যদি অদম্য হয়, তবে জয় আসবেই।