
বাংলাদেশের কাছে ডারউইনে ৯ উইকেটের বড় হারের পরই নিজেদের টপ অর্ডারে পরিবর্তন আনল অস্ট্রেলিয়া। দল থেকে বাদ পড়েছেন জেক ওয়েদারাল্ড। তার জায়গায় স্কোয়াডে ডাক পেয়েছেন ম্যাথু রেনশ। ম্যাকেতে ট্রাভিস হেডের সঙ্গে ওপেনিংয়ে ৩০ বছর বয়সি রেনশকেই দেখা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এপ্রিলে জাতীয় চুক্তি পাওয়ার পর এটাই ছিল ওয়েদারাল্ডের প্রথম টেস্ট। কিন্তু এই ম্যাচে তিনি করেন ২৩ ও ০ রান। প্রথম ইনিংসে তিনি ক্যাচ দিয়ে আউট হন, আর দ্বিতীয় ইনিংসে বোল্ড হন নিজের ব্যাটে বল লেগে। এই দুই ব্যর্থতার পর ১২ ইনিংসে তার ক্যারিয়ার গড় দাঁড়িয়েছে ২০.৩৬-এ।
এই সিদ্ধান্তটি বেশ দ্রুতই এসেছে। কারণ অ্যাশেজে ৪-১ ব্যবধানে জয়ের সময় হেডের সঙ্গে ভালো পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবেই ওয়েদারাল্ডকে দলে রাখা হয়েছিল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যে এলবিডব্লিউ ও বোল্ড হওয়ার সমস্যা তাকে ভুগিয়েছিল, তা কাটাতে তিনি কৌশলগত পরিবর্তনও এনেছিলেন। ওয়েদারাল্ডের এই পরিবর্তন নিয়ে অস্ট্রেলিয়া কোচ ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ‘হ্যাঁ, জেকের দাঁড়ানোর জায়গা ও মুভমেন্টের ধরনে কিছুটা পরিবর্তন এসেছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘ছোট নমুনার ওপর ভিত্তি করে বিচার করা সব সময়ই কঠিন, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এটা টিকবে কি না তা বলা কঠিন। প্রথম ইনিংসে সে একবার নিজের ব্যাটে বল টেনে আনে, আরেকবার শট খেলতে গিয়ে আউট হয়। এত ছোট নমুনায় এটা বলা কঠিন যে চাপের মুখে এই পরিবর্তন টিকবে কি না। তবে পরিবর্তন কিছুটা এসেছিল, এটা ঠিক।’
রেনশর অভিজ্ঞতা তাকে সবচেয়ে সহজ বিকল্প করে তুলেছে। গত মৌসুমে শেফিল্ড শিল্ডে সেরা পারফরম্যান্স করা ওপেনার ছিলেন তিনি। ১০ ইনিংসে তিনি তিনটি সেঞ্চুরি করেন, গড় ছিল প্রায় ৫০। ম্যাকেতেও তার দুটি প্রথম শ্রেণির সেঞ্চুরি আছে। এখানেই প্রথমবারের মতো টেস্ট ম্যাচ হতে যাচ্ছে।
রেনশর আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাও তার পক্ষে যাচ্ছে। তিনি এ পর্যন্ত ১৪টি টেস্ট খেলেছেন। তবে তার সবশেষ টেস্টটি ছিল তিন বছর আগে দিল্লিতে, যেখানে তিনি মিডল অর্ডারে ব্যাট করেছিলেন।
অস্ট্রেলিয়ার হাতে আরেকটি বিকল্পও আছে, জশ ইংলিসের মধ্যে। ৩১ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার এখনও ১৩ জনের স্কোয়াডে আছেন। শেফিল্ড শিল্ডে সাধারণত তিনি পাঁচ নম্বর বা তার নিচে ব্যাট করলেও নির্বাচকরা তাকে আগেই সম্ভাব্য টপ অর্ডার বিকল্প হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। গত নভেম্বরে ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিপক্ষে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের হয়ে ওপেন করে তিনি ৪০ ও অপরাজিত ১২৫ রানের ইনিংস খেলে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছিলেন।
এদিকে তিন নম্বরে মার্নাস লাবুশেনের জায়গা নিয়েও নির্বাচকদের ভাবতে হচ্ছে। ডারউইনে তিনি করেন মাত্র ১ ও ৩১ রান। প্রায় তিন বছর ধরে তার ব্যাটে কোনো আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি নেই। সবশেষ ৪২ টেস্ট ইনিংসে তার গড় ২৫.২৩। তিন নম্বর পজিশন থেকে আরও ভালো পারফরম্যান্সের প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করেছেন ম্যাকডোনাল্ড। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে আউট হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি যেভাবে ব্যাট করেছিলেন, সেদিকেও ইঙ্গিত করেছেন কোচ।
ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ‘বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে আউট হওয়ার আগ পর্যন্ত বলা যেত যে সে ভালো খেলছিল, ভালোভাবে নড়াচড়া করছিল, পায়ের কাছের বল ক্লিপ করছিল এবং সোজা ব্যাটে বল খেলছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখানে বসে সেটার পক্ষে যুক্তি দেওয়া আমার জন্য সহজ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রান তো ৩১। এটা বড় স্কোর নয়। ওর রানের অভাব আছে। এটা সে নিজেও অনুভব করছে, আমরাও করছি। কোচিং গ্রুপ হিসেবে আমরা প্রচণ্ড পরিশ্রম করছি… মার্নের কাছ থেকেও সেরাটা বের করে আনতে হবে আমাদের।’
তিনি শেষে বলেন, ‘ওর একটা খারাপ সময় গেছে। সে জানে যে তাকে কাজ করে যেতে হবে। আমার মনে হয়, ওর খেলার ধরনে কিছু পরিবর্তন আমরা দেখেছি, যেটা ভালো লক্ষণ। যে কাজ সে করেছে, তা চাপের মধ্যেও টিকে থাকছে বলে মনে হচ্ছে।’