
বন্দর প্রতিনিধি :- নারায়নগঞ্জের বন্দর উপজেলার ধামগড় ইউনিয়নের মালিভিটা এলাকায় বাড়ির ময়লা ফেলা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় আহত মোঃ জুয়েল মিয়া (৩০), পিতা- আব্দুল আউয়াল, সাং- কামতাল, থানা- বন্দর, জেলা- নারায়ণগঞ্জ। তিনি বন্দর থানায় ৪জনকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
বিবাদীঃ ১। মোঃ অনিক (২৫), পিতা- মৃত আব্দুর রশিদ, ২। আবু সিদ্দিক (৩০), পিতা- আক্তার হোসেন, ৩। আক্তার হোসেন (৫৫), পিতা- মৃত সাবের আলী, ৪। নারগিস বেগম (৪৫), স্বামী- মৃত আব্দুর রশিদ, সাং- কামতাল, থানা-বন্দর, জেলা- নারায়ণগঞ্জসহ অজ্ঞাতনামা ৫/৭ জন।
আহত জুয়েল মিয়া জানান বিবাদিরা আমার একই এলাকার বাসিন্দা এবং আমার প্রতিবেশী। আমার বাড়ি থেকে বের হয়ে চলাচলের কোন বিকল্প রাস্তা নাই বিধায় বিবাদীদের বাড়ির উপর দিয়ে চলাচল করতে হয়। বিবাদীদের বাড়ির উপর দিয়ে চলাচল করতে গেলে বিবাদীরা প্রতিনিয়ত অকথ্য ভাষায় গালাগালি সহ বিভিন্ন হমকি প্রদান করে। বিবাদীরা আমার বাড়ি তে তাদের গরুর বর্জ্য ফেললে ৪নং বিবাদীকে উক্ত বিষয়ে বুঝিয়ে বলি। এর পরও বিবাদীরা পুনরায় আমাদের পানি নিষ্কাশনের হাউজের সামনে ময়লা ফেললে আমাদের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেলে ৪নং বিবাদীকে উক্ত ময়লা ফেলার কথা জিজ্ঞেস করলে ৪নং বিবাদী আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকে। আমি বিবাদীকে গালাগালি করতে নিষেধ করলে ১নং হইতে ৪নং বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে দেশীয় ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমাদের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে হামলা চালায়। এসময় ১নং বিবাদী কাঠের মোটা ডাসা দিয়ে আমাদের বাড়ির থাই গ্লাস ভাংচুর করে এবং ৩নং বিবাদী কাঠের ডাসা দিয়ে আমার বাড়ির স্যানিটারি পাইপ সমূহ ভাংচুর করে। ঐ সময় ১নং হইতে ২নং বিবাদীরা আমাকে কাঠের ডাসা দিয়ে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে দুই হাতের কব্জির উপরিভাগে ফাটা রক্তাক্ত জখম করে। তখন আমার বড় ভাই মোঃ সোহেল (৩৮) বিবাদীদের বাধা প্রদান করলে ১নং হতে ২নং বিবাদীরা আমার ভাইকে মাটিতে ফেলে এলোপাথাড়ি কিলঘুষি, লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্ত জমাট নীলাফুলা জখম করে এবং ১নং বিবাদী কাঠের ডাসা দিয়ে আমার ভাইয়ের বাম হাতের কুনুই তে ফাটা রক্তাক্ত জখম করে ও ২নং বিবাদী আমার ভাইয়ের ডান পায়ের গোড়ালির উপর ফাটা রক্তাক্ত জখম করে। এসময় আমার বাবা বিবাদীদের বাধা নিষেধ করলে ১নং বিবাদী আমার বাবাকে এলোপাথাড়ি কিল ঘুষি মেরে মুখমন্ড সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে এবং ৩নং বিবাদী আমার বাবার ডান হাতের কুনুইয়ে কাঠের ডাসা দিয়ে বারি মেরে রক্তাক্ত ফাটা জখম করে। আমার মা হাজেরা বেগম (৫০) এবং ভাবি শর্মি (২১) আমাদের বাঁচাতে এগিয়ে আসলে ১নং বিবাদী আমার ভাবির গলায় থাকা ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা চেষ্টা করে এবং আমার ভাবির গলায় থাকা ১২ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে ডান চোখের নীচে ঘুষি মেরে রক্তজমাট নীলাফুলা জখম করে। ১নং ও ৪নং বিবাদী আমার মায়ের ডান হাতের বৃদ্ধা আঙ্গুলের উপর কাঠের ডাসা দিয়ে বারি মেরে রক্তাক্ত ফাটা জখম করে আঙ্গুলের হাড় ভেঙ্গে ফেলে। ঐ সময় ৪নং বিবাদী আমার মায়ের গলায় থাকা ১২ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। মারপিটের এক পর্যায়ে ২নং বিবাদী আমার ঘরে অনধিকার প্রবেশ করে আমার বিছানার তোষকের নীচে থাকা ব্যবসায়ীক নগদ ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা নিয়ে যায়। অবস্থা বেগতিক দেখে আমি জরুরী সেবা ৯৯৯ এ ফোন করলে বন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আমাদের লিখিত অভিযোগ দিতে পরামর্শ প্রদান করেন। বিবাদীরা আইন অমান্যকারী খারাপ প্রকৃতির লোক। বিবাদীরা এলাকার কারো বিচার শালিশ মানে না। আমাদের উপর অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা চালালে আমি ৯৯৯ এ ফোন দিলে পুলিশ উদ্ধার করে জখম অবস্থায় সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হইতে চিকিৎসা গ্রহণ করি।
এই ঘটনায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন ভুক্তভোগী পরিবার।