
নিজস্ব প্রতিনিধি- নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকার অপরাধী চক্রের মুল হোতা কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা মোকারম ও আলীগঞ্জ এলাকার শাহাদাৎ হোসেন সেন্টু’র যোগসাজশে এখনো চলছে আলীগঞ্জ মাদ্রাসা ঘাটে আসা পণ্য ও মালবাহী লঞ্চ ও ট্রলার থেকে চাঁদাবাজি, মালামাল চুরি ও লুটপাট। তাদের এ সকল অপকর্মের বিরুদ্ধে স্থানীয় এলাকায় ও থানায় একাধিক অভিযোগ থাকলেও মোকারম ও সেন্টু তাদের অপরাধী সিন্ডিকেট নিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকেও রাতের আঁধারে নানা ধরনের অপরাধমূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে এলাকা সূত্রে অভিযোগ উঠে এসেছে। এরা সংঘবদ্ধ হয়ে এলাকায় অপরাধমূলক কাজের মধ্য দিয়ে অবৈধভাবে কোটি টাকার মালিক হলেও এখনো চরিত্র পাল্টাতে পারেনি। অপরাধ জগৎ এ জীবন পরিচালনা করে চলছে।
সূত্রে জানা যায় যে, মোকারম কিশোরগঞ্জ থেকে জীবনের প্রয়োজনে আলীগঞ্জ এসে লেবার হিসেবে শুরুতে দিনমজুরের কাজ করে। অপরদিকে শাহাদাৎ হোসেন সেন্টু নানীর বাড়ি সুবাদে আলীগঞ্জে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। সেন্টু লেখা পড়া শিখেও আদর্শ জীবন না গড়ে অপরাধী জীবন বেছে নেয়।
স্হানীয় সূত্রে জানা যায় যে, মোকারম লেবার থেকে কৌশলে কাউছার আহমেদ পলাশের শ্রমিক সংগঠনে যোগদান করেন এবং শাহাদাৎ হোসেন সেন্টু ও কাউছারের সাথে শ্রমিক সংগঠনে যোগদানের মধ্য দিয়ে রাতারাতি দুজন নেতা বনে যায়। যোগদানের পর থেকেই দুজনই কাউছার আহমেদ পলাশের নজড় কেড়ে বিশ্বাস অর্জন করে এবং একপর্যায়ে কাওছার আহমেদ পলাশ এর ডান হাত ও বাম হাত হয়ে যায় । আর এর পর থেকেই মোকারম ও সেন্টু দুজনেই শুরু করে দেয় শ্রমিক দলনেতার ব্যানার সামনে রেখে শ্রমিকদের সাথে চাঁদাবাজি ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালামাল চুরি ও লুটপাট।
মোকারম তৎকালীন আওয়ামী লীগের সময়ে আলাদীনের চেড়াগ পেয়ে যান কিশোরগঞ্জের সন্তান হারুন নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের পর হতে। তৎসময় এসপি হারুনের নাম ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে অপরাধী চক্রের এক সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। সেই সিন্ডিকেট এর মাধ্যমে শুরু করে দেয় নদীপথে চাঁদাবাজি, ঘাট নিয়ন্ত্রণ সহ জমির ব্যবসা। এই অবৈধ আয়ের মধ্য দিয়ে রাতারাতি কোটিপতি বনে যায়।মোকারম এ সকল অপরাধী কার্যক্রমে মুল সহযোগী হিসেবে কাজ করে শাহাদাৎ হোসেন সেন্টু ও আবুল ।
সেন্টু ও আবুল সকল অবৈধ টাকার ভাগ পেয়ে সেন্টুও অবৈধ টাকার পাহাড় গড়ে তুলো। তাদের সকল অপরাধ মূলক কাজ গোপন রাখতে স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজনসহ অনেককে টাকা বিলিয়ে মুখ বন্ধ করে রেখেছেন বলেও তথ্য পাওয়া যায়। এই মোকারম এসপি হারুনের কেশিয়ার বলেও নারায়ণগঞ্জ শহরে বেশ অলোচিত হয়েছেন।
মোকারম তার মাদ্রাসা ঘাটের অফিসে ও আলীগঞ্জের নিজস্ব বসতবাড়িতে অনেকের মনোরঞ্জন জন্য সব সময় জুয়া ও মদের আসর জমিয়ে থাকে। পাশাপাশি নারীদিয়ে করায় ফুর্তি।
মোকারম শুধু অবৈধ কাজ নয় সে একজন নারীলিপ্সু। সে বহু বিবাহ করে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে ও কিশোরগঞ্জ রেখেছে বলেও জানা যায়। শুধু বহু বিবাহই নয় তার কিছু রক্ষীতা নারী রয়েছে যাদের সে প্রয়োজনে টাকার বিনিময়ে ভোগ্যপণ্যের মতো ব্যবহার করে থাকে।
সেন্টু ও আবুলের ট্রাকের মাধ্যমে মোকারম সকল ধরনের অবৈধ ও চোরাই মালামাল বহন করতো এবং এই অবৈধ মাল বহনের জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা পরিবহনের ভাড়া বাবদ মোকারম সবসময় সেন্টু ও আবুলকে দিতো বলে তথ্য পাওয়া যায়। অনেকের মনে সন্দেহের প্রশ্ন সেন্টু ও আবুলের গাড়ি দিয়ে এমন কি মালামাল বহন করে যার জন্য মোটা অংকের টাকা মোকারম সবসময় সেন্ট ও আবুলকে দিয়ে থাকে।
আওয়ামী লীগের সময়ে মোকারম, সেন্টু ও আবুল এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে নানা ধরনের অপরাধমূলক কাজ করে কালোটাকার মালিক হয়ে যায় এবং অবৈধ সম্পদ করে। ফ্যাসিস্ট সরকারের পরিবর্তন হলেও বর্তমানে মোকারম,সেন্টু ও আবুল এখনো তাদের প্রভাব বিস্তার করে এলাকায় অপরাধ মূলক কাজ করে চলছে। সেন্টু আত্নগোপনে থাকলেও তারা সক্রিয় হয়ে এখনো কিছু অসাধু ব্যক্তিদের যোগাসাজসে তাদের অপরাধের রাম রাজত্ব কায়েম করে চলছে।
স্হানীয় এলাকাবাসী আক্ষেপ করে বলেন আওয়ামী লীগের দোসর হয়েও তারা কি ভাবে এখনো এলাকায় বীরত্বের সহিত বিচরন করে এবং তাদের অপরাধমূলক কাজ পরিচালনা করে থাকে। তাদের কে দ্রুত আইনের আওতায় এনে গ্রেফতার করে শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।তাদের অত্যাচারের হাত থেকে এলাকাবাসী মুক্তি চায়। এবং অপরাধ মুক্ত আলীগঞ্জ চায়।