
ঐতিহাসিক পুরান ঢাকার জরাজীর্ণ অবকাঠামো, পরিবেশগত সংকট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা দূর করে এলাকাটিকে নতুনূপে গড়ে তুলতে ১৩৬ কোটি ৮৫ লাখ ৮০ হাজার টাকার একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ‘ইন্টিগ্রেটেড প্রজেক্ট ফর রিভাইটালাইজেশন অব ওল্ড ঢাকা’ শীর্ষক এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।
প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের জুলাই থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত। পুরো প্রকল্প ব্যয় বৈদেশিক প্রকল্প অনুদান থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বৈদেশিক অর্থায়নের সুবিধার্থে অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় এটি অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের নথি অনুযায়ী, পুরান ঢাকার পুনরুজ্জীবনের প্রথম ধাপে কারিগরি, স্থানিক, পরিবেশগত ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়নের মাধ্যমে একটি সম্ভাব্যতা-ভিত্তিক রূপরেখা তৈরি করা হবে। পরবর্তী সময়ে এই রূপরেখার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে বিনিয়োগ-উপযোগী সাব-প্রজেক্ট এবং পূর্ণাঙ্গ ডিপিপি (DPP) প্রণয়ন করা হবে।
মহাপরিকল্পনার শুরুতেই পুরান ঢাকার বর্তমান নগর কাঠামো ও ভূমি ব্যবহারের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরতে জিআইএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিস্তৃত স্থানিক ডেটাবেইস তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা চিহ্নিতকরণের পাশাপাশি কোন এলাকায় অবকাঠামোগত চাপ বেশি এবং কোথায় উন্নয়ন প্রয়োজন, তা স্পষ্ট করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় বায়ু, পানি ও মাটির গুণগত মান পরীক্ষার পাশাপাশি বুড়িগঙ্গা নদী করিডরের দূষণ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দূষণ হ্রাসের কৌশল নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া পানি সরবরাহ, নিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে আধুনিকীকরণের নকশা তৈরি করা হবে।
পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে ঐতিহাসিক ভবনগুলোর ডিজিটাল ম্যাপিং ও শ্রেণিবিন্যাস করা হবে। ভবনগুলোর ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখে তা কীভাবে নতুন কাজে ব্যবহার করা যায়, সে জন্য ‘অ্যাডাপটিভ রিইউজ’ বা ‘অভিযোজিত পুনর্ব্যবহার’-এর নির্দেশিকা তৈরি করা হবে।
সরু ও জটিল সড়ক কাঠামোর কারণে পুরান ঢাকায় যানজট ও জরুরি সেবা পৌঁছানোর জটিলতা দূর করতে সড়কের প্রবেশগম্যতা বাড়ানো এবং জরুরি উদ্ধারপথ তৈরির মূল্যায়ন করা হবে। এছাড়া ভবিষ্যৎ গণপরিবহন হিসেবে বাস ও মনোরেলসহ বিভিন্ন ট্রানজিট বিকল্প যাচাই করা হবে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিকল্পনার আওতায় এই প্রকল্পের মাধ্যমে পুরান ঢাকা ও হাজারীবাগ এলাকাকে উন্নত বিশ্বের ‘রিজেনারেশন কনসেপ্ট’-এর আদলে গড়ে তোলার প্রাথমিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক, জাইকা ও ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের (ইআইবি) মতো উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পরবর্তী ধাপের অর্থায়নের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।