
নারায়ণগঞ্জের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন পানিরকল এলাকার সাধারণ জনগণের উদ্যোগে বিভিন্ন অভিযোগের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে এলাকাবাসীর পক্ষে বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর মহিলা দলের সদস্য পারুল বেগম। এ সময় তিনি আমজাদ হোসেন আনজুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, হয়রানি, মামলা দিয়ে ফাঁসানোর ভয় দেখানো এবং এলাকাবাসীকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তাঁর গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বক্তব্যে পারুল বেগম অভিযোগ করেন, আমজাদ হোসেন আনজু আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আজমেরী ওসমানের সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর দাবি, বিগত শাসনামলে গাড়ি পোড়ানো, বোমাবাজি ও মিছিলে অংশগ্রহণের অভিযোগে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একাধিক মামলা করেছিলেন আনজু।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের সময়ও আনজু ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পারুল বেগমের দাবি, ৫ আগস্টের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর এলাকায় ফিরে আনজু সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। নিজেকে জমির মালিক দাবি করে চাঁদাবাজি, মামলা-হামলার ভয় দেখানো এবং পুলিশের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও তোলেন তিনি।
এ ছাড়া পানিরকল ও এসিআই এলাকার জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের প্রসঙ্গ তুলে পারুল বেগম অভিযোগ করেন, স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে যোগসাজশে আনজুর মাধ্যমে নিরাপত্তার কথা বলে এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যা এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাপনে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে বলে তাঁদের দাবি।
মানববন্ধন থেকে পারুল বেগম ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে আমজাদ হোসেন আনজুকে আইনের আওতায় এনে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
বক্তব্যে আরও দাবি করা হয়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে রক্তাক্ত করার ঘটনায় আনজু জড়িত ছিলেন। এ অভিযোগেরও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন বক্তারা।